বিশ্বকাপে যথেষ্ট অস্ত্র হাতে নিয়েই যাচ্ছে ভারত, বলে দিলেন হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। সেই সঙ্গে এটাও পরিষ্কার করে দিলেন যে, প্রথম একাদশ নিয়ে তাঁরা নমনীয়তা দেখাবেন। পনেরো জনের দলে বিজয় শঙ্করকে নেওয়ার সময় মনে হয়েছিল, সম্ভবত তিনিই চার নম্বরে খেলবেন। কিন্তু শাস্ত্রী বলে দিচ্ছেন, একাধিক ব্যাটসম্যানকে চার নম্বরের জন্য ভাবা যেতে পারে। ‘‘আমরা নমনীয়তা দেখাতে চাই। যখন যেমন দরকার, তেমন ভাবে দল গড়া হবে। আমাদের হাতে এমন অনেক ক্রিকেটার আছে, যারা চার নম্বরে ব্যাট করতে পারে।’’ চার নম্বর নিয়ে যে তাঁরা চিন্তা করছেন না, তা-ও জানাতে ভোলেননি তিনি।

বিশ্বকাপ অভিযানের জন্য সব দিক দিয়ে ভারতীয় দল তৈরি বলে মনে করছেন শাস্ত্রী। ‘‘বিশ্বকাপের উড়ানে কেউ বেড়াতে যাওয়া যাত্রী চায় না। এমন পনেরো জনকে দরকার, যারা যে কোনও মুহূর্তে মাঠে নেমে কাজটা করার জন্য তৈরি। সে দিক দিয়ে আমাদের দল একদম ঠিক আছে,’’ বলে কোহালিদের কোচ যোগ করেন, ‘‘যেমন ধরুন, যদি কোনও ফাস্ট বোলারের চোট লাগে, সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্ত দরকার হবে।’’ ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে ৩০ মে থেকে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে। ভারতের প্রথম ম্যাচ সাউদাম্পটনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৫ জুন। 

আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পান কেদার যাদব। তেমনই কলকাতা নাইট রাইডার্সের কুলদীপ যাদব ফর্ম হারিয়ে দল থেকে বাদ পড়েছেন। শাস্ত্রী যদিও চিন্তার কিছু দেখছেন না। বলে দিচ্ছেন, ‘‘আমি একেবারেই চিন্তার কিছু দেখছি না। ২২ মে যখন ফ্লাইট ছাড়বে, আমরা দেখব কোন ১৫ জন যাচ্ছে। সেখান থেকেই আমাদের ভাবনা শুরু হবে।’’ তার পরেই অবশ্য যোগ করছেন, ‘‘সৌভাগ্যের কথা হচ্ছে, কেদারের কাঁধে কোনও চিড় ধরা পড়েনি। আমরা অপেক্ষা করে দেখব কী হয়। তবে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’’ আইপিএলের ম্যাচে বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করার সময় বাঁ কাঁধে চোট পান কেদার। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার ঠিক আগে পরিকল্পনা করায় বিশ্বাসী নন শাস্ত্রী। তাঁর মতে, চার বছর ধরে পরিকল্পনা চলতে থাকে। ‘‘যে ভাবে চার বছর ধরে চলেছে, সেই স্রোতের সঙ্গে যাওয়ার প্রবণতাই বেশি থাকে। আমার মনে হয়, এই চিন্তাধারা নিয়েই ছক কষে দলগুলি।’’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সতর্ক করে দিচ্ছেন কোহালিদের কোচ। বলছেন, ‘‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ভারতে এসেছিল, আমরা ওদের হারিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু যথেষ্ট লড়াই করে জিততে হয়েছিল আমাদের। সেই সময়ে ওদের দলে ক্রিস গেল বা আন্দ্রে রাসেল ছিল না।’’ যোগ করছেন, ‘‘তখনই আমি বলেছিলাম, এই দলটার দিকে নজর রাখো। ওদের দলে দুর্ধর্ষ কিছু প্রতিভা আছে।’’ 

স্বর্ণযুগের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলেছেন শাস্ত্রী। দুর্ধর্ষ ক্যারিবিয়ান পেস ব্যাটারির বিরুদ্ধে দু’টো টেস্ট সেঞ্চুরি আছে তাঁর। অ্যান্টিগায় ১০২। প্রতিপক্ষ চার বোলার ছিলেন রবার্টস, হোল্ডিং, মার্শাল, উইনস্টন ডেভিস। অন্যটা বার্বেডোজে তিন নম্বরে নেমে ১০৭। প্রতিপক্ষ চার বোলার মার্শাল, অ্যামব্রোজ, বিশপ, কোর্টনি ওয়ালশ। শাস্ত্রী জানেন, ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সেই রমরমা মাঝে হারিয়ে গেলেও সে দেশে প্রতিভার অভাব হয় না। বলে ফেলছেন, ‘‘বিশ্বসেরা সব ক্রিকেটার ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তার পর নানা বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে ওদের। এখনও পাওয়ারহিটিংয়ে ওদের ধারেকাছেও কেউ নেই। শুধুমাত্র ছক্কা মারার দক্ষতা যদি ধরা হয়, ওরা সবার উপরে।’’ 

গত বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথের দলের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নিয়েছিল ভারত। শাস্ত্রী টিম ডিরেক্টর ছিলেন। ফেভারিট হিসেবে সকলের মুখে ইংল্যান্ডের নাম ঘুরলেও শাস্ত্রী বলছেন, ‘‘গত ২৫ বছরে অন্য যে কোনও দলের চেয়ে বেশি বিশ্বকাপ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। কখনও এমন অস্ট্রেলিয়া দল খুঁজে পাওয়া যাবে না, যারা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে পারে না।’’ যোগ করছেন, ‘‘এখন ওদের সব ক্রিকেটার ফিরে এসেছে। দারুণ ফর্মেও আছে। কিন্তু বিশ্বকাপে সেই দিনটায় যারা ভাল খেলে, তারাই জিতবে।’’