কুলদীপ যাদব আর যুজবেন্দ্র চহালের জুটি নিয়ে আলোড়িত ক্রিকেটবিশ্ব। যে কারণে তাদের বলা হচ্ছে, ‘কুল-চা’ জুটি। বিশ্বকাপে ভারতীয় স্পিন আক্রমণের রাশ তাঁদের হাতে। কিন্তু চায়নাম্যান বোলার ‘কুল’ অর্থাৎ কুলদীপ বলছেন, তিনি এখনও অনেক কিছু শিখছেন লেগস্পিনার ‘চা’ বা যুজবেন্দ্রর কাছে। তাঁর কাছে শিখছেন বিশেষ করে, এক-একজন ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে বল করার আগে কী ভাবে আলাদা করে কৌশল ঠিক করতে হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে চহাল চমকে দিয়েছেন চার উইকেট নিয়ে। কুলদীপ মাত্র এক উইকেট নিলেও দারুণ ভাবে সঙ্গ দিয়েছেন চহালকে। তাঁর কাছ থেকে কী শিখলেন জানতে চাওয়া হলে কুলদীপ অকপটে বলেছেন, ‘‘আমার থেকে ওর অভিজ্ঞতা বেশি। নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে কী ভাবে বল করতে হবে সে ব্যাপারে ওর খুব ভাল ধারণা আছে। তাই ওর কাছে আমাকে অনেক কিছু শিখতে হচ্ছে।’’

এখানেই থামেননি কুলদীপ। চহালের সঙ্গে তাঁর ‘যুগলবন্দি’ ব্যাখ্যা করে আরও বলেছেন, ‘‘এখানে এসে যে ভাবে বল করতে পেরেছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। সঙ্গে চহাল আর আমি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যা পরিকল্পনা করেছিলাম, তাও পুরোপুরি খেটে গিয়েছে। আমরা ওদের রান আটকেছি। একই সঙ্গে আমরা উইকেটও কিন্তু পেয়েছি।’’

কুলদীপ এ বারের আইপিএলে দারুণ কিছু সফল হননি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ৯ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন চারটি। তবে নতুন করে নিজেকে তৈরি করতে তিনি বিশ্বকাপের আগে অনুশীলন করে এসেছেন শৈশবের কোচ কপিল দেব পাণ্ডের কাছে। কুলদীপ যা নিয়ে বলেছেন, ‘‘টি-টোয়েন্টি আর ওয়ান ডে এক ধরনের ক্রিকেট নয়। আইপিএল শেষ। যে কারণে ব্যক্তিগত কোচের কাছে গিয়েছিলাম। ১০ দিন ওঁর সঙ্গে অনুশীলন করেছি। যা যা সমস্যা হচ্ছিল তাও সমাধান করে ফেলেছিলাম। আসলে সে সময় আমার একেবারের প্রাথমিক শিক্ষার জায়গাটাতে ফিরে যাওয়ার দরকার ছিল।’’

কব্জির সাহায্যে স্পিন করেন কুলদীপ। বাউন্স প্রধান অস্ত্র। বিশ্বকাপের আগে নিজের বোলিং বৈচিত্রের সঙ্গে গতি মিশিয়ে বল করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যা নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলতে নামার আগে নিজেকে সেরা জায়গা নিয়ে যাওয়ার দরকার সবচেয়ে বেশি ছিল। আমি গতির সঙ্গে বৈচিত্র মিশিয়ে বল করছি এখন। ইংল্যান্ডে খেলতে হচ্ছে নিষ্প্রাণ উইকেটে। বোলাররা এই উইকেট থেকে খুব বেশি সাহায্য পাচ্ছে না। তাই আমাদের বোলিংয়ে গতির তারতম্য ঘটানোটা খুবই জরুরি। সঙ্গে আনতে হবে বৈচিত্র।’’

গত বছর আন্তর্জাতিক মঞ্চে কুলদীপ সেরা বোলিং করেন নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে তিনি ছয় উইকেট নেন। আপাতত তাঁর লক্ষ্য, বিশ্বকাপেও সেই বোলিংটাই করার। কুলদীপের কথা, ‘‘দেশের বাইরে সব সময় ভাল বোলিং করেছি। উইকেটের বাউন্সের উপর আমি ভরসা রাখি। সেটা কাজে লাগাতে পারলে ব্যাটসম্যানেরা ব্যাকফুটে খেলতে পারে না। আর ফ্রন্টফুটে খেলতে বাধ্য হলে উইকেট পাওয়ার ভাল সম্ভাবনা তৈরি হয়।’’

কুলদীপ, চাহালদের বিশ্বকাপে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে মাঝখানে মাত্র একটা দিন। কিন্তু সাউদাম্পটন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ খেলে আসা বিরাট কোহালিরা বৃষ্টির জন্য শুক্রবার হ্যাম্পশায়ার বাউলে অনুশীলনই করতে পারলেন না। অবশ্য এ দিনের অনুশীলন ছিল নিছকই ঐচ্ছিক।