দু’জনেই পাকিস্তানের প্রথম সারির ব্যাটসম্যান। প্রথম জন ওপেনার। আর অপর জন ব্যাট করতে আসেন তিন নম্বরে। সেই ফখর জ়মান ও বাবার আজ়মকে নিয়েই বিশ্বকাপে ভাল ফল করতে আশাবাদী পাকিস্তান। 

পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ইনজ়ামাম উল হক বলছেন, ‘‘বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের অন্যতম ‘গেমচেঞ্জার’ (যে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে) ফখর।’’ আর বাবর আজ়ম সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বলছেন, ‘‘বাবর আজ়ম হল পাকিস্তানের বিরাট কোহালি। যে ধারাবাহিক ভাবে রান করে যায় পাকিস্তানের হয়ে।’’ 

এই দুই অস্ত্রকে নিয়েই বিশ্বকাপে ভারত জয়ের স্বপ্ন দেখছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ইনজামাম উল হক। পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে ইনজামামও বলছেন, ‘‘ফখর-বাবরদের এই পাকিস্তান হয়তো ফেভারিট নয়। তবে ১৯৯২ সালের মতো জাদু দেখাতেই পারে। বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ছিনিয়ে আনতে পারে প্রথম জয়।’’

পাকিস্তানের অন্যতম ব্যাটিং-অস্ত্র ফখর অবশ্য এখনও ভুলতে পারেন না, দু’বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের কথা। যে ম্যাচে ভারতের যশপ্রীত বুমরার বলে তিন রানের মাথায় নো বলে আউট হয়েও বেঁচে যান তিনি। তার পরে শতরান করে পাকিস্তানের জয়ে বড় ভূমিকা নেন। পাক ওপেনার বলছেন, ‘‘বুমরার ওই নো বলটাই আমাকে ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘ওই শতরানের পরে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি, দায়িত্ববোধও বেড়েছে। আরও পরিণত হয়েছি। বুঝেছি, বিশ্বকাপে ভাল ফল করতে হলে আমাকে রান পেতেই হবে।’’ পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থারও বলছেন, ‘‘বিশ্বকাপে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ফখর। এই মুহূর্তে ব্যাট হাতে বিপক্ষ বোলারের ত্রাস।’’

আর্থারের দলের আর এক ভরসা বাবর আজ়ম। যাঁর সম্পর্কে প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বলছেন, ‘‘পাকিস্তানকে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে যেতে হলে অনেকটাই নির্ভর করতে হবে বাবরের উপর।’’

পাকিস্তান কোচ বাবর সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘বাবর হল সেই ধরনের ব্যাটসম্যান যে বিশ্বের যে কোনও তারকা ব্যাটসম্যানের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। ও নিজে যদি ১০০ রান করে, তা হলে দলের রানটাও তিনশো বা তার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।’’ পাকিস্তান কোচ আরও বলেন, ‘‘গত দু’বছর ধরে স্ট্রাইক রেট ৮০। বিশ্বকাপে আশা করছি সেই ছন্দেই পাওয়া যাবে বাবরকে।’’

তাঁর প্রতি কোচের এই আস্থার কথা জেনে আত্মবিশ্বাসী বাবরও বলছেন, ‘‘পাওয়ার হিটিং-এর দর্শন থেকে বেরিয়ে এসে যদি বিশ্বের এক নম্বর হতে পারি, তা হলে সেই পথেই এগিয়ে যাব। যখন পাওয়ার হিটিংয়ের প্রয়োজন হবে, তখন আবার সেই পথেই হাঁটব।’’