একটা লম্বা মরসুম শেষ করে ভারত বিশ্বকাপে খেলবে। ছেলেরা ক্রিকেটের মধ্যেই ছিল। হয়তো বলা হবে, বেশি খেলে ফেলেছে। কিন্তু হালফিলের ক্রিকেট এমনই। আমাদের চ্যালেঞ্জ বিশ্বকাপে নিজেদের তরতাজা রাখা। অবশ্য ওয়ান ডে-র যুদ্ধে বোলারেরা নিরুদ্বেগে বল করতে পারবে। টি-টোয়েন্টিতে যা অসম্ভব। সেখানে ব্যাটসম্যানেরা প্রথম বল থেকেই মারমুখী মেজাজ নিয়ে খেলে।

আইপিএলের আগে ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেও খেলেছে। ছেলেরা ঠাসা সূচির মধ্য দিয়ে গেল। তবু বিশ্বকাপে দলকে আবার সংঘবদ্ধ হতেই হবে। প্রতিটি ম্যাচের আগে নিজেদের সুস্থ রাখাও জরুরি।

বিশ্বকাপের অন্য দলগুলো কে কী করছে সে দিকেও নজর রাখছিলাম। অনেক দলই বেশ কিছু ওয়ান ডে খেলে নিল। পাকিস্তান ইংল্যান্ডেই এগারোটা ম্যাচ পাচ্ছে। তবে আমার মনে হয় না তার জন্য কোনও দলেরই বিশেষ সুবিধে হবে। টেস্ট সিরিজ হলে আগে ইংল্যান্ডে খেলে নেওয়ার কিছু সুবিধে থাকে। ওখানে পরিবেশ অন্য রকম। টেস্টে বল সুইং করার ব্যাপারটা থাকে। কিন্তু ওয়ান ডে, টি-টোয়েন্টিতে টেকনিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। বেশি সময় পাটা উইকেটে খেলা হয়। বল সিম করলেও রান তোলার চেষ্টা করতে হবে। হাতে সময় থাকে না। টেস্টের ক্ষেত্রে কিছু দিন আগে পৌঁছে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার থাকে। কিন্তু সাদা বলে তার দরকার হয় না। ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের আগে যাওয়ার অন্য কারণ সরফরাজ আহমেদের দলটা খুব ভাল খেলছিল না। ভারতের যে সমস্যা নেই।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

ভারতের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রথমেই মাথায় আসছে ফিটনেসের ব্যাপার। কেদার যাদবের সুস্থতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদি ও সুস্থ না হয়, তা হলে ঋষভ পন্থকে সুযোগ দেওয়া উচিত। এই ছেলেটার যে-কোনও বোলারকে ছিন্নভিন্ন করার ক্ষমতা আছে। ম্যাচও বার করতে পারে। বড় টুর্নামেট জিততে ওর মতো ক্রিকেটারই দরকার। শট নির্বাচনে ঋষভ অপরিণত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। কিন্তু একজন শিখবেটা কী করে? সেটা সম্ভব বেশি সুযোগ পেলে। ঋষভকে দলে রাখা ভাল বিনিয়োগ। যা অনেক দিন ধরে কাজে দেবে।

আমি মহম্মদ শামিকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইংল্যান্ডে সুইং করাতে হবে। ওখানে দ্রুত গতির পিচ নেই। শামির গতি আছে। তবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ওর বোলিং কাজে আসবে না। শুরুর দিকে ঠিক আছে। কিন্তু শেষে ও দলের বোঝা হয়ে যেতে পারে। এ সব ক্ষেত্রে দরকার বৈচিত্র। ভুবি (ভুবনেশ্বর কুমার) ও পাণ্ড্যর (হার্দিক) যা আছে। যশপ্রীত বুমরার তুরুপের তাস হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ভারতের সাফল্য বুমরার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে।

আমাকে যদি চার নম্বর পেসার নিতে বলা হত, তা হলে বেছে নিতাম নবদীপ সাইনিকে। ওর বোলিং বেশ ভাল লাগছে। গতি আছে। সঙ্গে সুইং করাতে পারে। এই মুহূর্তে কমবয়সি পেসারদের মধ্যে ভারতে ও-ই সেরা। কিন্তু ভারতীয় দল নিয়ে যাচ্ছে অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্করকে। শঙ্করও সুইং করাতে পারে। ব্যাটটাও ভাল করে। বিজয় শঙ্করকে এই ব্যাটিংয়ের জন্যই নেওয়া হয়েছে। মনে রাখতে হবে আমাদের শেষ দিকের ব্যাটসম্যান বলতে বুমরা, চাহাল (যুজবেন্দ্র) আর শামি রান পাওয়ার মতো ক্রিকেটার নয়। তাই পাণ্ড্য ও বিজয় শঙ্করের মতো অলরাউন্ডারদের আমাদের খুবই দরকার। ওরা বলটা ভাল করে দিতে পারে। রানও হয়তো তুলে দেবে। আমার মনে হয়, বিজয় শঙ্করকে নিয়ে ভুল কিছু করা হয়নি। তার উপর এই ছেলেটা বড় শটও মারতে পারে।

আমার মনে হচ্ছে, এ বারের আইপিএলে কিন্তু অনেক ক্রিকেটারের কাছে ভুল সময় খেলা হল। অনেকেই হয়তো মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। অবশ্য এখনও কিছুটা সময় আছে। ব্যাটসম্যানেরা তৈরি হয়ে যাবে। একদিনের ক্রিকেটে চাপমুক্ত হয়ে খেলার জন্য তাও কিছুটা সময় থাকে। তিরাশির বিশ্বকাপের কথা মনে পড়ছে। সম্পূর্ণ চাপমুক্ত অবস্থায় আমরা সে বার খেলতে গিয়েছিলাম। 

তিরাশির পর থেকেই বিশ্বকাপে বেশির ভাগ বছর ভারতকে অন্যতম ফেভারিট ভাবা হয়েছে। এ বারের দলটা যদি ঠিক সময় নিজেদের সেরা খেলাটা খেলে দিতে পারে, তা হলে সফল না হওয়ার কারণ দেখছি না। তবে ইংল্যান্ডও নিশ্চিত ভাবে খেতাব জয়ের অন্যতম দাবিদার। সেটা ওদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দারুণ ভারসাম্যের জন্য। তার উপর নিজেদের দেশ বলে পরিবেশও ওদের চেনা। পাশাপাশি  চোখ রাখতে হবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের উপরও। কিন্তু আমার বিশ্বাস, এ বার চমকে দেওয়ার মতো দল একটাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

(টিসিএম)