বিশ্বকাপে ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর অভিষেক হয়েছিল ১৯৯২ সালে। মাস্টার ব্লাস্টার সেই সচিন তেন্ডুলকর এ বার ধারাভাষ্যকার হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটালেন ইংল্যান্ডের মাটিতে। 

বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার খেলায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে কমেন্ট্রি বক্সে ছিলেন সচিন। যেখানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র সহবাগ, হরভজন সিংহদের সঙ্গে ধারাভাষ্য দেওয়ার পাশাপাশি হাসি-ঠাট্টাও করতে দেখা যায় সচিনকে। যা নিয়ে ছবি-সহ টুইট করেন সহবাগ, ‘‘আবার এক সঙ্গে।’’

ধারাভাষ্যের মাঝেই সচিন জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে আফগান স্পিনার রশিদ খানকে আইপিএলের মতো আগ্রাসী মেজাজে বল করতে দেখতে চান তিনি। বিরতিতে সচিন বলেন, ‘‘বিশ্বকাপে আশা করছি অনেক অঘটন ঘটাবে রশিদ খান।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘আমি ওকে পরামর্শ দিলে বলতাম, বিশ্বকাপকে টেস্ট ম্যাচ হিসেবে দেখো। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে ব্যাটসম্যানরা তোমার রিস্ট স্পিনের ফাঁদে পড়ে উইকেট দিয়ে যায়। এখানে আগ্রাসী ফিল্ডিং সাজিয়ে ব্যাটসম্যানকে চ্যালেঞ্জ জানাও মিড-অন বা মিড-অফের উপর দিয়ে মারতে।’’ সচিন আরও বলেন, ‘‘অবশ্যই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে  ডিপ মিড উইকেট থাকবে। কিন্তু তাও আমি বলব ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ জানাও। আফগানিস্তানের সমর্থকদের তুমি নিরাশ করবে না।’’

এর পাশাপাশি, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার আরও দুই ক্রিকেটারের নাম করেন সচিন। জানিয়ে দেন, বিশ্বকাপে এদের দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখতেও মুখিয়ে রয়েছেন তিনি। এই দুই ক্রিকেটার হলেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও ইংল্যান্ডের জোফ্রা আর্চার।

ওয়ার্নার সম্পর্কে সচিন বলেন, ‘‘আইপিএলে এ বার দুর্দান্ত খেলেছে ওয়ার্নার। ওর রানের খিদে, একাগ্র মনোভাব ও ফিটনেস দেখার মতো। ওয়ার্নার এমনিতেই বেশ ফিট। এ বার আইপিএলে আরও ফিট মনে হল ওকে। যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে এই একাগ্র মনোভাব ও ফিটনেস কাজে লাগিয়ে ওয়ার্নার ম্যাচ বার করে নিতে দক্ষ। বিশ্বকাপে তাই ওয়ার্নারকে দেখতে মুখিয়ে রয়েছি।’’

ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নজর কাড়া পেসার জোফ্রা আর্চার সম্পর্কে সচিনের মূল্যায়ন, ‘‘আমি নিশ্চিত, ইংল্যান্ড অধিনায়ক যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে বিপক্ষের উইকেট তোলার জন্য বেশি নির্ভর করবে জোফ্রা আর্চারের উপর।’’

বিশ্বকাপে প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম ম্যাচে হেরেছিল ভারত। কিন্তু তার পরে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৯৫ রানে জেতে বিরাট কোহালির দল। সে প্রসঙ্গে সচিন বলেন, ‘‘নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচটা কঠিন ছিল। ভারত অধিনায়ক বিরাট টস জিতে উইকেট সবুজ ও বৃষ্টি হতে পারে জেনেও প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ইংল্যান্ডের পরিবেশে প্রস্তুতির জন্য অবশ্যই এটা ভাল সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় ম্যাচে কে এল রাহুল আর ধোনি ভালই ব্যাট করল। দল ভাল ব্যাটিং অনুশীলনও পেয়েছে।’’ বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচ ৫ জুন। বিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সময়ের মধ্যে সব দলই একটি করে ম্যাচ খেলে ফেলবে। সচিন এ প্রসঙ্গে বলছেন, ‘এতে এক দিকে সুবিধা হবে। কোন দল কী রণনীতি নিচ্ছে, কী ভাবে রান তাড়া করছে সে সম্পর্কে পরিকল্পনা করে নামতে পারবে ভারতীয় দল।’’ 

দুই সতীর্থ সহবাগ ও হরভজনের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামা দু’দল নিয়ে আলোচনা করছিলেন সচিন। সেখানেই সচিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এ বারের বিশ্বকাপে কোন চার দেশ সেমিফাইনালে যেতে পারে। জবাবে সচিন বলেন, ‘‘ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া যাবে। চতুর্থ দল হিসেবে নিউজ়িল্যান্ডের সুযোগ রয়েছে সেমিফাইনালে যাওয়ার।’’