বাজনা বেজে গিয়েছে ২০১৯ বিশ্বকাপের। দশ দলের প্রত্যেকেই পৌঁছে গিয়েছে ইংল্যান্ডে। বৃহস্পতিবার অধিনায়কদের মহাসম্মেলনও হয়ে গেল। সেখানে ভারতের বিরাট কোহালি থেকে ইংল্যান্ডের অইন মর্গ্যান— দশ দলের অধিনায়কই স্বীকার করে নিলেন, ক্রিকেটের ইতিহাসে সব চেয়ে কঠিন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বিশ্বকাপ এ বারেই হতে যাচ্ছে। 

এ বারের ফর্ম্যাটে সব দেশ খেলবে সব দেশের সঙ্গে। তেমনই কোনও এলেবেলে দল নেই। দশটি টেস্ট খেলিয়ে দেশকে নিয়ে হচ্ছে বিশ্বকাপ। তাই কোনও সহজ ম্যাচের ব্যাপার নেই। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক অইন মর্গ্যান অধিনায়কদের মহাসম্মেলনে বসে বলে দিলেন, ‘‘আমার মনে হয় না কেউ কারও চেয়ে খুব এগিয়ে আছে। বিশ্বের সেরা দশটি দল খেলতে এসেছে। নজিরবিহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে এ বার। উচ্চ মানের ক্রিকেটও দেখা যাবে। আমরা প্রত্যেকে উন্মুখ হয়ে আছি।’’ দ্রুত তিনি যোগ করলেন, ‘‘এখানে যে ক’জন অধিনায়ক বসে আছেন, তাঁরা প্রত্যেকে এক পা হারিয়েও লর্ডসে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে চাইবেন। ছোটবেলা থেকে এই স্বপ্ন তো সবাই দেখেছেন। এখন আমরা সকলে তৈরি। প্রথম ম্যাচ খেলার জন্য ছটফট করছি।’’ 

আগামী ৩০ মে ওভালে ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০১৯ বিশ্বকাপ। বিরাট কোহালির ভারত প্রথম নামছে ৫ জুন সাউদাম্পটনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। মর্গ্যানের ইংল্যান্ডকে সকলে ফেভারিট বলছেন। এমনকি, বৃহস্পতিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে হাজির অতিথি নয় অধিনায়কও এ ব্যাপারে একমত। কোহালি সব চেয়ে বেশি করে বললেন ইংল্যান্ডের কথা। ভারত থেকে রওনা হওয়ার সময়েই তিনি বলেছিলেন, এ বারের বিশ্বকাপ সব চেয়ে চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। এ দিনও সে কথা বললেন। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ স্বাগত জানালেন স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নারের প্রত্যাবর্তনকে। বল-বিকৃতি কেলেঙ্কারির জেরে এক বছরের জন্য নির্বাসিত হয়েছিলেন তাঁরা। মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বে গত বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ফিঞ্চ বলছেন, ‘‘ফিরে আসার পর থেকেই স্মিথ আর ওয়ার্নার অসাধারণ খেলছে। দলের জন্য প্রচুর অবদান রাখছে ওরা। আমাদের মনোবল এখন তুঙ্গে।’’ যোগ করছেন, ‘‘খেলা শুরু হলে দর্শকেরা হয়তো একটা ভূমিকা নেবেন, আমি জানি। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ম্যাচে বা যখন পরে আমরা অ্যাশেজ খেলব। কিন্তু সেটা তো বিশ্বের যে কোনও জায়গাতেই সামলাতে হতে পারে।’’ বোঝা গেল, ফিঞ্চও ধরে নিয়েছেন, বল-বিকৃতি কাণ্ড নিয়ে স্মিথ-ওয়ার্নারকে ইংল্যান্ডে দর্শক বিদ্রুপের মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের দর্শকদের গ্রুপ বার্মি আর্মি ইতিমধ্যেই সে রকম ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। তখন দর্শক-বিদ্রুপের প্রভাব ওয়ার্নারদের খেলায় পড়ে কি না, সেটাই দেখার। 

স্মিথরা যেখানে গিয়ে বল-বিকৃতি মহাবিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন, সেই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসিও উত্তেজিত বিশ্বকাপের এ বারের ফর্ম্যাট নিয়ে। বলছেন, ‘‘প্রত্যেক দলের সঙ্গে খেলার ব্যাপারটা খুবই উপভোগ্য হতে চলেছে।’’ ২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ায় রানার্স হয়েছিল নিউজ়িল্যান্ড। তাদের এ বারের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বিশ্বাস করেন, আরও এক ধাপ এগিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁদের। বলছেন, ‘‘গত বিশ্বকাপের কয়েক জন ক্রিকেটার এ বারেও আছে। কিন্তু মাঝখানে চার বছর পেরিয়ে গিয়েছে। তাই অনেক নতুন মুখও এসেছে।’’ উইলিয়ামসন আরও বলছেন, ‘‘র‌্যাঙ্কিং, ফেভারিট, আন্ডারডগ— এ সব নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, কাদের ভারসাম্য রয়েছে। যে কোনও দিন যা খুশি ঘটতে পারে। এ বারের টুর্নামেন্ট সে রকমই হতে যাচ্ছে।’’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও বাকিদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছেন, ‘‘প্রত্যেক দলের সঙ্গে খেলতে পারা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। আমরা কোয়ালিফায়ার্স খেলে অনেক পরিশ্রম করে এখানে এসেছি। বিশ্বের সেরা দশটি দল বিশ্বকাপে রয়েছে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে খেলবে। উত্তেজক এই ফর্ম্যাটের দিকে সকলে তাকিয়ে রয়েছে। যে টিম এ বারে বিশ্বকাপ জিতবে, তারা সত্যিকারের বিশ্বজয়ী।’’ এই মুহূর্তে ফর্মের বিচারে অনেক পিছিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু তাদের নতুন অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে মনে করিয়ে দিলেন, ‘‘ইংল্যান্ডে খেলার প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। অনেক আগে এখানে এসে গিয়েছি আমরা, যাতে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি। ভাল ছন্দ তৈরি করে নিতে পেরেছি আমি। আশা করছি, সেরাটা দিতে পারব।’’

আফগানিস্তানের দিকে চোখ থাকবে অনেকের। অধিনায়ক গুলবাদিন নায়িব বলছেন, ‘‘বিশ্বকাপে আসতে পেরে আমরা উত্তেজিত। ক্রিকেট বিশ্বের সামনে নিজেদের মেলে ধরতে চাই। সেরা দলগুলোর সঙ্গে সেরাটা দিতে চাই। বিশ্বের সামনে আফগানিস্তানকে মেলে ধরার সুযোগ রয়েছে সকলের সামনে এবং আমরা প্রত্যেকে উন্মুখ হয়ে রয়েছি।’’ বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তূজা জানিয়ে দিলেন, তাঁদের দল চমক দেখাতে পারে। ‘‘দারুণ একটা গ্রুপ রয়েছে আমাদের। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের ভাল মিশ্রণ রয়েছে,’’ বলে মাশরাফি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেখানে যে কোনও দল অন্য একটা দলকে হারিয়ে দিতে পারে। যদি শুরুটা ভাল হয়, বিশ্বকাপে অনেক দূর যেতে পারি।’’