যশপ্রীত বুমরা যে ভাবে বিশ্বকাপ শুরু করেছেন তা দেখে অধিনায়ক বিরাট কোহালি উচ্ছ্বসিত। বোলিং ওপেন করতে এসে বিপক্ষ দলের দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন ভারতীয় ডান-হাতি পেসার। কোহালি ঠিক যে ভাবে ম্যাচ শুরু করতে চেয়েছিলেন, সে ভাবেই শুরু করেন বুমরা। বুমরার উইকেট নেওয়ার চেয়েও কোহালি বেশি খুশি হয়েছেন তাঁর দলের এক নম্বর পেসারের শৃঙ্খলা দেখে। এ দিন একই লাইন ও লেংথ ধরে বল করেছেন বুমরা।

বুধবার সাউদাম্পটনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছয় উইকেটে হারানোর পরে কোহালি বলেছেন, ‘‘নিজেকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে বুমরা। শুরুটা অসাধারণ করেছে। প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করাটা খুবই প্রয়োজনীয় ছিল। তার সঙ্গে দরকার ছিল প্রথম তিনজনের মধ্যে একজনের বড় রানের মধ্যে থাকা। রোহিত সেঞ্চুরি করায় ব্যাটিং নিয়েও উদ্বেগের কোনও জায়গা নেই। প্রথম ম্যাচ বলে এই ধরনের পরীক্ষাগুলোর  উপর বেশি নজর রেখেছিলাম আমরা।’’ 

বুমরার বলে কুইন্টন ডি’ককের ক্যাচ নেন কোহালি তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে। বলে এতটাই গতি ছিল যে, ক্যাচটি নেওয়ার পরে ১৫ মিনিট ধরে হাতে যন্ত্রণা হচ্ছিল কোহালির। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ভারত অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘একজন পেসারের বলে জোর আছে কি না তা বোঝা যায় স্লিপে ক্যাচ নিলে। সত্যি বলছি, ডি’ককের ক্যাচটি নেওয়ার পরে ১৫ মিনিট আমার হাতের তালুতে যন্ত্রণা হচ্ছিল।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘আমলার আউটটি দেখে মনে হয়নি আমরা ওয়ান ডে খেলছি। ওয়ান ডে ক্রিকেটে এ ধরনের আউট হতে বহু দিন দেখিনি। চহালও দেখিয়ে দিয়েছে ও কী করতে পারে।’’

রোহিত শর্মা সম্পর্কে এই তথ্যগুলি জানেন?

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের চার নম্বরে কে ব্যাট করবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল। এ দিন কে এল রাহুল চার নম্বরে নেমে রোহিত শর্মার সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়েন। তাই আগামী ম্যাচে চার নম্বর নিয়ে আর ভাবতে চান না অধিনায়ক। বলেছেন, ‘‘চার নম্বরে রাহুল নেমে যথেষ্ট ভাল ব্যাট করে গেল। রোহিতের সঙ্গে ও ক্রিজে থাকায় জয়টা অনেক সোজা হয়ে গিয়েছে। পাঁচ নম্বরে মাহি (ধোনি) ভাইও ভাল ব্যাট করে দিল। প্রথম ম্যাচে একটি দলের থেকে আর কী-ই বা বেশি আশা করতে পারি।’’

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ওয়ান ডে সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে ফেললেন রোহিত শর্মা। সৌরভের সেঞ্চুরি-সংখ্যা ২২। ১৪৪ বলে অপরাজিত ১২২ রান করে ওয়ান ডে-তে ২৩ নম্বর সেঞ্চুরি পূরণ করলেন ভারতের সহ-অধিনায়ক। দিনের শেষে ম্যাচের নায়ক বলেন, ‘‘উইকেটে বোলারদের জন্য যথেষ্ট সাহায্য ছিল। নিজের স্বাভাবিক খেলাটা তাই খেলতে পারিনি। শুরুর দিকে প্রচুর বল ছেড়েছি। ধৈর্যের পরীক্ষায় আজ উত্তীর্ণ হয়ে গেলাম।’’

বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া বুমরা ম্যাচ শেষে টুইট করেন, ‘‘এ ভাবেই বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচটি শুরু করতে চেয়েছিলাম। অসাধারণ জয়।’’

দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসির টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মেঘলা আকাশ ও গতিময় পিচে টস জিতে কেন ব্যাট করল দক্ষিণ আফ্রিকা? ডুপ্লেসির উত্তর, ‘‘আমাদের দলে স্টেন অথবা এনগিডি থাকলে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবতাম। কিন্তু ওদের না পেয়ে শুরুতে বল করার সাহস দেখাতে পারিনি। কিন্তু রাবাডা ও মরিস দুরন্ত বল করল।’’