বেলজিয়াম ম্যাচ ড্র হওয়া পরে ভারতের হকি কোচ হরেন্দ্র সিংহের লক্ষ্য একটাই। শেষ ম্যাচে কানাডাকে হারিয়ে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করা। রবিবার ভুবনেশ্বরে ম্যাচের পরে হরেন্দ্র বললেন, ‘‘আপাতত আমাদের সামনে কোনও ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ নেই। শেষ ম্যাচে কী করলে পুল-এ শীর্ষে থাকা যাবে সেটাই দেখতে হবে। তবে সবার আগে আমাদের জিততে হবে। কারণ একটা ম্যাচই ঠিক করে দেবে আমরা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলব, না ক্রশওভারে যেতে হবে।’’ হরেন্দ্রর আরও কথা, ‘‘আমাদের পুল-এ এখন যে কোনও কিছু হতে পারে। তবে গোল পার্থক্যে আমরা বেলজিয়ামের থেকে এগিয়ে আছি। পরের ম্যাচের আগে ছ’দিন বিশ্রাম পাব। তাই কানাডার বিরুদ্ধে নতুন উদ্যমে ঝাঁপাতে পারবে ছেলেরা।’’

ভারতকে চাপে রাখতে রবিবার বেলজিয়াম প্রথম থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিল। বিপক্ষ দলের এই রণনীতিতে বিস্মিত নন হরেন্দ্র। তাঁর কথা, ‘‘প্রথম কোয়ার্টারে বেলজিয়ামের চাপ তৈরি খেলা দেখে একটুও অবাক হইনি। ওরা জানত, ম্যাচের বয়স যত বাড়বে ভারত তত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। আমার ছেলেরা জনসমর্থনের সুবিধেও দারুণ কাজে লাগিয়েছে।’’ হরেন্দ্র জানিয়েছেন, বিরতিতে দলের ‘ফর্মেশনে’ একটু পরিবর্তন করা হয়। যাতে ম্যাচে ভারতের  নিয়ন্ত্রণ বাড়ে। বললেন, ‘‘আমরা তখন থেকে ডাবল ট্যাকলিং শুরু করি। বলের পিছনে থাকি বা সামনে, ছেলেদের বলেছিলাম প্রচণ্ড গতিতে খেলতে হবে। সেটাই ওরা দারুণ ভাবে করেছে।’’

ভারত ২         •               বেলজিয়াম ২ 


হরেন্দ্রর ধারণা, ভারতের এতটা ভাল খেলার বড় কারণ খেলোয়াড়দের দুরন্ত শারীরিক সক্ষমতা। যে কারণে, তাঁর আক্রমণাত্মক হকির কৌশল এতটা কাজে এসেছে বলে মনে করেন। হরেন্দ্র কথায়, ‘‘কখনও এতটা ফিট ভারতীয় হকি দল দেখিনি। ভারত তার ঐতিহ্য রক্ষা করলে কখনও রক্ষণাত্মক হকি খেলতে পারে না। সেটা আমাদের চরিত্রবিরোধী। আমি সেটাই দলকে বুঝিয়েছি। এই জায়গাটায় অন্তত কোনওরকম সমঝোতা করতে রাজি নই।’’