ভারতের জেতার সুযোগ যে কম জানতাম। টাই শুরু হওয়ার আগেই বলেছিলাম ৫০-৫০ নয়, ভারতের বিরুদ্ধে ৬০-৪০ এগিয়ে থাকবে ইটালি! তা হলেও ষোলো বছর পরে সাউথ ক্লাবে ডেভিস কাপের প্রত্যাবর্তনটা যে এ ভাবে শেষ হবে ভাবিনি!

দু’দিনের দ্বৈরথে একমাত্র ডাবলস ম্যাচটা বাদ দিলে ইটালির বিরুদ্ধে তো আমাদের ছেলেরা দাঁড়াতেই পারল না। চারটে ম্যাচ থেকে মাত্র দুটো সেট দখল করতে পেরেছে ভারতীয় খেলোয়াড়েরা। সেটা ডাবলসে। বাকি তিনটে সিঙ্গলসেই স্ট্রেট সেটে হার। বোঝাই যাচ্ছে কতটা দাপট দেখিয়েছে ইটালি। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, শনিবার ডাবলস ম্যাচটা জেতার পরে ছন্দটা ধরে রাখতে পারল না কেন ভারত? বোপান্না-দ্বিবীজ এ রকম দুরন্ত জয় এনে দেওয়ার পরের ম্যাচে সেপ্পির বিরুদ্ধে কেন প্রজ্ঞেশ দাঁড়াতেই পারল না? আসলে দু’জন খেলোয়াড়ের মধ্যে দক্ষতার ফারাকটা বিরাট। সেপ্পির বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ৩৭। এই মাসেই সিডনি ইন্টারন্যাশনাল এটিপি প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে। সদ্য শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে খেলে এসেছে। এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই রজার ফেডেরারের বিরুদ্ধে ওর বিখ্যাত জয়ও রয়েছে চার বছর আগে। সেখানে প্রজ্ঞেশের র‌্যাঙ্কিং এখন ১০২। অভিজ্ঞতাতেও সেপ্পি ওর চেয়ে অনেক এগিয়ে। এ রকম লড়াইয়ে র‌্যাঙ্কিংটা বড় ব্যাপার। কেউ কেউ বলতে পারেন লিয়েন্ডার পেজও তো এ রকম র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা খেলোয়াড়দের হারিয়েছে ডেভিস কাপে। কিন্তু লিয়েন্ডার ঘাসের কোর্টে স্বচ্ছন্দ। দুর্দান্ত ভলি, নেটেও দারুণ। সেখানে প্রজ্ঞেশ ঘাসের কোর্টের খেলোয়াড় নয়। সেপ্পির বিরুদ্ধে ও পিছন থেকে শুধু র‌্যালি করে যাচ্ছিল। র‌্যালিতে ও পারবে কেন সেপ্পির সঙ্গে! সেপ্পির একই জায়গায় টানা বল রেখে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। প্রজ্ঞেশের চেয়ে এ ব্যাপারে অনেক এগিয়ে ও। সেখানেই পার্থক্যটা হয়ে যায়। হয়তো প্রজ্ঞেশ স্ট্র্যাটেজি পাল্টে সার্ভ অ্যান্ড ভলি নির্ভর পরিকল্পনা নিলে কিছুটা চাপে রাখতে পারত প্রতিপক্ষকে। আগের দিন রামকুমার রামানাথন যে স্ট্র্যাটেজিতে সেপ্পির বিরুদ্ধে কয়েকটা সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল। অবশ্য সেপ্পির মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে হারাতে গেলে শুধু স্ট্র্যাটেজি দিয়ে হয় না, পাল্লা দেওয়ার মতো দক্ষতাও লাগে!

প্রশ্ন উঠতে পারে ভারতের ঘাসের কোর্টে খেলার স্ট্র্যাটেজি কি তা হলে ভুল ছিল? আমি বলব, তা নয়। মহেশ ভূপতিরা ভেবেছিল ইটালিকে হারানোর এক মাত্র সুযোগ থাকলে ঘাসের কোর্টেই আছে। সেটা সত্যি। ইটালি হার্ড কোর্ট বা ক্লে কোর্টে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ। তাই ভারত চেয়েছিল ঘাসের কোর্টে প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতে। সঙ্গে ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় জনসমর্থনও থাকবে প্রজ্ঞেশদের দিকে। কিন্তু দেখা গেল ইটালির খেলোয়াড়েরা ভারতের চেয়েও ভাল মানিয়ে নিতে পেরেছিল ঘাসের কোর্টে। দু’দিনে ইটালির খেলা দেখে বোঝা যাচ্ছে, ওদের লক্ষ্য ছিল তিনটে সিঙ্গলস। ডাবলসে বোপান্না-দ্বিবীজকে হারানো কঠিন হবে ধরে নিয়েই ওরা সিঙ্গলস ম্যাচগুলো টার্গেট করেছিল। সেই লক্ষ্যে ওরা সফল। তাও মার্কো চেখিনাতোর মতো বিশ্বের ১৯ নম্বরকে না নামিয়েই।

খারাপ লাগলেও বলতে বাধ্য হচ্ছি, ভারতের ঘাসের কোর্টের দক্ষ সিঙ্গলস খেলোয়াড় আর নেই। ইটালি সেটা আরও স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিল। তবে এই টাইয়ে এক জনের খেলা আমার খুব ভাল লাগল— দ্বিবীজ শরন। বোপান্নার সঙ্গে খুব ভাল বোঝাপড়া ওর। চাপের মুখে ভেঙে পড়ে না। অন্ধকারে দ্বিবীজই আলো!