দেশের এক নম্বর সিঙ্গলস খেলোয়াড় ইউকি ভামব্রি দলে নেই হাঁটুর চোটের জন্য। রামকুমার রামনাথনকে প্রথম ম্যাচেই নামাতে হচ্ছে র‌্যাঙ্কিংয়ে তাঁর চেয়ে ওপরে থাকা খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে। শুক্রবার থেকে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ডেভিস কাপ ওয়ার্ল্ড গ্রুপ প্লে-অফ নিয়ে তবু আশাবাদী ভারতের কোচ জিশান আলি। 

সদ্য যুক্তরাষ্ট্র ওপেন চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচের দেশের বিরুদ্ধে খেলা। টাই সার্বিয়াতে হলেও বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা নামবেন না এই আসরে। বিশ্বের ৩৩ নম্বর ফিলিপ ক্রাজিনোভিচও নেই এই টাইয়ে। তাঁদের বাদ দিয়েও যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও কেউ কম যান না। এই টাইয়ে ভারত জিতলে তাকে অঘটনই বলতে হবে। তবু জিশান আশার কথাই শোনাচ্ছেন। বলেন, ‘‘ইউকি ভামব্রিকে না পাওয়াটা এমন কিছু বড় সমস্যা নয়। কারণ, ক্লে কোর্টে খেলা। গত আট-ন’মাসে ইউকি মাত্র দু-একটা ম্যাচ ক্লে কোর্টে খেলেছে। ওর র‌্যাঙ্কিং অন্যদের চেয়ে ভাল হতে পারে। কিন্তু ক্লে কোর্টে খুব একটা স্বচ্ছন্দ নয় ও।’’ 

অগত্যা সার্বিয়ার বিরুদ্ধে শুক্রবার প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছেন রামকুমার। বিপক্ষে বিশ্বের ৮৬ নম্বর লাজলো দিয়েরে। তবে ডেভিস কাপে খেলার অভিজ্ঞতার দিক থেকে তাঁর চেয়ে রামকুমার অনেক এগিয়ে। ভারতীয় তারকা ৭-৫ জয়-হারের পরিসংখ্যান নিয়ে নামবেন যেখানে, সেখানে দিয়েরের এটি প্রথম ডেভিস কাপ টাই। এই সার্বিয়া দলের এক নম্বর খেলোয়াড় দুসান লাজোভিচের বিরুদ্ধে নামবেন ভারতের দু’নম্বর বাঁ হাতি প্রজ্ঞেশ গুণেশ্বরণ। বিশ্বের ৫৬ নম্বর লাজোভিচ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ফাইনালিস্ট খুয়ান মার্তিন দেল পোত্রোকে হারিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১৬২ নম্বর প্রজ্ঞেশের চ্যালেঞ্জটা বেশ কঠিন। 

শনিবার রোহন বোপান্না ও এন শ্রীরাম বালাজির জুটি মুখোমুখি হবে নিকোলা মিলোজেভিচ ও নবাগত ড্যানিলো পেত্রোভিচ জুটির বিরুদ্ধে। ফিরতি সিঙ্গলসে রামকুমার খেলবেন লাজোভিচের সঙ্গে, যাঁকে তিনি ২০১৭ সালে একবার হারিয়েছিলেন। তবে এখন সার্ব তারকা অনেক উন্নতি করেছেন, যা রামকুমারের পক্ষে সামলানো সহজ হবে না। বিশ্বের ১৩৫ নম্বর এই ভারতীয় গত এক বছরে বহু উল্লেখযোগ্য জয় পেলেও ধারাবাহিকতায় পিছিয়ে। জাকার্তায় ৪০০-র নীচে থাকা খেলোয়াড়ের কাছে হেরে যান তিনি।   

জিশান বলছেন, ‘‘রামকুমার, প্রজ্ঞেশ, বালাজিরা গত কয়েক বছর ধরে ইউরোপে ক্লে কোর্টে অনুশীলন করেছে। তাই এটা ওদের কাছে নতুন নয়। ওরা ক্লে-তে খেলতে অভ্যস্ত। দশ বছর আগে আমাদের ক্লে কোর্টের খেলোয়াড় ছিল না। এখন আর সেই অবস্থা নেই।’’

নন প্লেইং ক্যাপ্টেন মহেশ ভূপতির দাবি, ‘‘নোভাক না খেলায় দুই দলেরই এখানে জেতার সমান সম্ভাবনা আছে।’’   খেলোয়াড়রাও তাঁর মতো আত্মবিশ্বাসী। প্রজ্ঞেশ বলেন, ‘‘নোভাক যখন খেলছে না, তখন বাকিরা কেউই অপ্রতিরোধ্য নয়। লড়াই কঠিন, আমাদের সুযোগ ঠিকমতো কাজে লাগাতে হবে।’’