অপ্রতিরোধ্য ভারতের মহিলা ফুটবল দল। ২০২০ টোকিয়ো অলিম্পিক্স যোগ্যতা অর্জন পর্বে দ্বিতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় ম্যাচেও জিতলেন সঙ্গীতা বাশফোররা। 

শনিবার মায়ানমারের মান্দালয়ে নেপালের পুনম মগরের আত্মঘাতী গোলে ছয় মিনিটেই এগিয়ে যায় ভারত। যদিও উচ্ছ্বাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি ভারতীয় শিবিরে। এক মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরান নিরু থাপা। এর পরে একাধিক সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি গ্রেস দাংমেইরা। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ ফলেই। 

সপ্তাহ তিনেক আগে বিরাটনগরে নেপালকে হারিয়ে টানা পাঁচ বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল ভারতের মহিলা দল। তার আগে ভুবনেশ্বরে আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপেও জিতেছিলেন আশালতা দেবীরা। কিন্তু অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের এই ম্যাচের আগে ভারতের কোচ মেমল রকির আশঙ্কা ছিল, টানা দু’ম্যাচে হারের বদলা নেওয়ার জন্য মরিয়া থাকবেন নেপালের ফুটবলারেরা। তাঁর অনুমান ঠিক ছিল। 

ভারতীয় শিবিরে ফের স্বস্তি ফেরে ৬০ মিনিটে। দালিমা চিবেরের কর্নার থেকে গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন সন্ধ্যা রঙ্গনাথন। ৭৮ মিনিটে ভারতের তৃতীয় গোলের নেপথ্যেও সন্ধ্যা। পেনাল্টি বক্সের মধ্যে তাঁকে ফাউল করেন নেপালের গোলরক্ষক অঞ্জিলা তুমবাপো। পেনাল্টি থেকে গোল করেন অধিনায়ক আশালতা দেবী। ম্যাচের পরে তিনি যাবতীয় কৃতিত্ব দিলেন সতীর্থদের। আশালতা বলেছেন, ‘‘জুনিয়র ফুটবলারেরা প্রচুর পরিশ্রম করেছে বলেই আমরা জিতেছি। ওদের জন্য আমি গোল করতে পেরেছি।’’ তিনি যোগ করেছেন, ‘‘নেপাল সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে এই জয়টা অনেক বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে।’’

দুরন্ত জয়ের পরেও উদ্বেগ বাড়ছে ভারতীয় শিবিরে। কারণ, এ দিন ইন্দোনেশিয়াকে ৬-০ চূর্ণ করে দু’ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে শীর্ষ স্থান দখল করেছে মায়ানমার। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে ভারতেরও পয়েন্ট ছয়। কিন্তু গোল পার্থক্যে পিছিয়ে আশালতারা। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি তৃতীয় রাউন্ডে যোগ্যতা অর্জন করবে। ফলে মঙ্গলবার মায়ানমারের বিরুদ্ধে অগ্নিপরীক্ষা ভারতের।