ওয়ান ডে ক্রিকেটে তাঁর ৪২তম সেঞ্চুরি জয় এনে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। যার পরে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি জানিয়েছেন, শুরুতে দুটো উইকেট তাড়াতাড়ি পড়ে যাওয়ায় তাঁর সামনে সুযোগ এসেছিল দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পোর্ট অব স্পেনে ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে দ্বিতীয় ওয়ান ডে ৫৯ রানে জিতে সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল ভারত। চলতি ক্যারিবিয়ান সফরে বিরাট-বাহিনী এখনও পর্যন্ত অপরাজিত। ওয়ান ডে সিরিজ হারের সম্ভাবনাও আর নেই। কারণ, আর মাত্র এক ম্যাচ বাকি। মাঝের ওভারে কোহালি (১২০) এবং শ্রেয়স আইয়ারের (৭১)  ১২৫ রানের জুটিই ৫০ ওভারে ২৭৯-৭ স্কোরে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে দলকে। এর পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪২ ওভারে ২১০ রানে শেষ হয়ে যায়। চারটে উইকেট পেয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরুতে হারায় শিখর ধওয়ন (২) এবং রোহিত শর্মাকে (১৮)। এর পরে কোহালির ব্যাটে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। ভারত অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘আমরা জানতাম, ২৭০ রানের উপরে যে কোনও রানই বিপক্ষের কাছে কঠিন লক্ষ্য হবে। দলের প্রয়োজনে সেঞ্চুরি করতে পারলে খুব ভাল লাগে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘শিখর আর রোহিত বড় রান পায়নি। আমাদের প্রথম তিনের কেউ না কেউ সব সময় একটা ভাল স্কোর করে। এ দিন আমার ওপর সেই দায়িত্বটা এসে পড়েছিল।’’ একই সঙ্গে শ্রেয়স আইয়ারের প্রশংসাও করেছেন কোহালি। 

আধুনিক ক্রিকেটে ফিটনেসকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। কিন্তু সেই কোহালিও এই ম্যাচে খেলতে নেমে একটা ক্লান্তি বোধ করছিলেন। ‘চহাল টিভি’-তে এসে যুজবেন্দ্র চহালকে বলেন, ‘‘পরিস্থিতিটা খুব সহজ ছিল না। গরম ছিল, আর্দ্রতাও খুব বেশি ছিল। সত্যি কথা বলতে কী, ৬৫ রান করার পরে বেশ ক্লান্ত বোধ করছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী আমাকে ব্যাট করে যেতে হয়েছিল।’’  

প্রথম ওয়ান ডে-তে বৃষ্টির জন্য যখন ম্যাচ বন্ধ ছিল, তখন কোহালিকে দেখা যায় ক্রিস গেলের সঙ্গে নাচ করছেন। অধিনায়ককে সামনে পেয়ে সেই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন চহাল। যার জবাবে কোহালি বলেন, ‘‘মাঠে নেমে আমি নিজেকে উপভোগ করতে চাই। আমি অধিনায়ক কি না, তাতে কিছু যায় আসে না। অধিনায়ক বলেই যে আমাকে বিশেষ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, এমন তো নয়। ঈশ্বর আমাদের একটা সুন্দর জীবন দিয়েছেন। সুযোগ করে দিয়েছেন দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার। তাই এই সব ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করাটা খুব জরুরি।’’

রবিবার শ্রেয়স পাঁচ নম্বরে নেমে ৬৮ বলে করেন ৭১ রান। শ্রেয়সের এই ইনিংসে মুগ্ধ অধিনায়ক বিরাট। তিনি বলেছেন, ‘‘আমার চাপ অনেক কমিয়ে দিয়েছে ও। এটাই চালিয়ে যেতে হবে।’’

শ্রেয়স নিজেও মনে করেন, তাঁর ৭১ রানের ইনিংস দলে স্থায়ী জায়গা করে দিতে সাহায্য করবে। শ্রেয়স বলেছেন, ‘‘ভারতীয় দলে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়াই আমার লক্ষ্য। তবে দলের হয়ে ধারাবাহিক রান না করলে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না। তাই আগামী ম্যাচগুলোয় ছন্দ ধরে রাখতে চাই। ’’

সুনীল গাওস্করও শ্রেয়সের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ। তিনি চান, ঋষভ পন্থের পরিবর্তে চার নম্বরে খেলুন শ্রেয়স। 

স্কোরকার্ড
ভারত                                   ২৭৯-৭ (৫০)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ                           ২১০ (৪২)

ভারত
ধওয়ন এলবিডব্লিউ বো কটরেল          ২•৩
রোহিত ক পুরান বো চেজ              ১৮•৩৪
কোহালি ক রোচ বো ব্রাথওয়েট ১২০•১২৫
পন্থ বো ব্রাথওয়েট                         ২০•৩৫
শ্রেয়স বো হোল্ডার                        ৭১•৬৮
কেদার রান আউট                         ১৬•১৪
জাডেজা ন. আ.                            ১৬•১৬
ভুবনেশ্বর ক রোচ বো ব্রাথওয়েট         ১•২
শামি ন. আ.                                      ৩•৫
অতিরিক্ত                                            ১২
মোট                                            ২৭৯-৭ (৫০)
পতন: ১-২ (ধওয়ন, ০.৩), ২-৭৬ (রোহিত, ১৫.৩), ৩-১০১ (পন্থ, ২২.২), ৪-২২৬ (কোহালি, ৪১.৩), ৫-২৫০ (শ্রেয়স, ৪৫.৩), ৬-২৫৮ (কেদার, ৪৬.৪), ৭-২৬২ (ভুবনেশ্বর, ৪৭.৪)। 
বোলিং: শেলডন কটরেল ১০-০-৪৯-১, কেমার রোচ ৭-০-৫৪-০, জেসন হোল্ডার ৯-০-৫৩-১, ওশেন থমাস ৪-০-৩২-০, রস্টন চেজ ১০-১-৩৭-১, কার্লোস ব্রাথওয়েট ১০-০-৫৩-৩।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ
গেল এলবিডব্লিউ বো ভুবনেশ্বর     ১১•২৪
লিউইস ক কোহালি বো কুলদীপ    ৬৫•৮০
হোপ বো খলিল                              ৫•১০
হেটমায়ার ক কোহালি বো কুলদীপ ১৮•২০
পুরান ক কোহালি বো ভুবনেশ্বর     ৪২•৫২
চেজ ক ও বো ভুবনেশ্বর                 ১৮•২৩
হোল্ডার ন. আ.                             ১৩•১৯
ব্রাথওয়েট ক শামি বো জাডেজা          ০•৩
রোচ বো ভুবনেশ্বর                             ০•৩
কটরেল বো জাডেজা বো শামি       ১৭•১৮
থমাস এলবিডব্লিউ বো শামি               ০•১
অতিরিক্ত                                            ২১
মোট                                                ২১০ (৪২)
পতন: ১-৪৫ (গেল, ৯.৩), ২-৫২ (হোপ, ১২.২), ৩-৯২ (হেটমায়ার, ১৭.৬), ৪-১৪৮ (লিউইস, ২৭.২), ৫-১৭৯ (পুরান, ৩৪.২), ৬-১৭৯ (চেজ, ৩৪.৫), ৭-১৮০ (্ব্রাথওয়েট, ৩৫.৫), ৮-১৮২ (রোচ, ৩৬.২), ৯-২০৯ (কটরেল, ৪১.৩), ১০-২১০ (থমাস, ৪১.৬)। 
বোলিং: ভুবনেশ্বর কুমার ৮-০-৩১-৪, মহম্মদ শামি ৮-০-৩৯-২, খলিল আহমেদ ৭-০-৩২-১, কুলদীপ যাদব ১০-০-৫৯-২, কেদার যাদব ৫-০-২৫-০, রবীন্দ্র জাডেজা ৪-০-১৫-১।
* ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে জয়ী ভারত।