পর্তুগালের ইউরো জয় আবার সামনে নিয়ে এসেছে সেই লড়াই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বনাম লিওনেল মেসি। দেশকে একটা ট্রফি এনে দিয়ে কি এই লড়াইয়ে এগিয়ে গেলেন রোনাল্ডো? দুনিয়া জুড়ে ফুটবল ভক্তরা কী বলছেন? কী বলছেন ভারতীয় ফুটবলের সফল কোচেরা...


দুটো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুই অসম্ভব প্রতিভাবান ফুটবলারকে দেখে মনে হচ্ছে, রোনাল্ডো ও মেসির মধ্যে পার্থক্য এটাই যে রোনাল্ডোর হাতে একটা ইউরো কাপ রয়েছে। মেসির কোনও আন্তর্জাতিক সাফল্য নেই। সাফল্যের দিক দিয়ে রোনাল্ডো অবশ্যই এগিয়ে। তবে নিখাদ ফুটবলীয় বিচারে বলব, দু’জনে মোটামুটি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। যে কোনও কোচের কাছেই মেসি বা রোনাল্ডো একটা বিশেষ অস্ত্র। যাদের মধ্যে কোনও তুলনা চলে না।
— ট্রেভর জেমস মর্গ্যান

কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে বা পিছিয়ে নেই। টেকনিক্যালি দু’জনের মধ্যে কোনও তুলনাই হয় না। দু’জনে দু’ঘরানার প্লেয়ার। মেসির যেমন ড্রিবল, পাসিং, ফ্রি-কিক দেখার মতো, ঠিক তেমনই রোনাল্ডোর সম্পদ হল গতি, হেড ও শ্যুটিং। রোনাল্ডো ইউরো জিতেছে বলে মেসি পিছিয়ে গেল, মানতে পারছি না। আসলে হল ভাল সময়, খারাপ সময়। মেসির সময়টা এখন সত্যিই খারাপ। তাই পেনাল্টি মিস করছে। ভাল খেললেও ওর টিম জিতছে না। সেখানে রোনাল্ডো ইউরো ফাইনালের শুরুতে বেরিয়ে যাওয়ার পরেও ওর টিম জিতছে।
— প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

 

মেসি কিছুটা নরমসরম। রোনাল্ডো জেতার জন্য সব সময়ই মুখিয়ে। রবিবার যেমন চোট পেয়ে বেরিয়ে গিয়েও টিমকে তাতিয়ে গেল। পুরো সময় খেলতে না পারার যন্ত্রণা ঢেকে। যেটা দেখার পর বলব, নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে কিছুটা হলেও রোনাল্ডো এই মুহূর্তে মেসির থেকে এগিয়ে। এক জন ব্যর্থতা সামলাতে না পেরে খেলা থেকেই অবসর নিয়ে নেয়। আর এক জন লড়াইটা অত্যন্ত কঠিন জেনেও টিমমেটদের মোটিভেট করে যায় শেষ পর্যন্ত। দু’জনের দক্ষতায় পার্থক্য খুঁজে না পেলেও নেতৃত্ব ও সাফল্যের দিক দিয়ে রোনাল্ডোকেই এগিয়ে রাখতে হচ্ছে কিছুটা।

— সৈয়দ নইমুদ্দিন

 

দু’জনে দু’ রকম ঘরানার। রোনাল্ডো কমপ্লিট স্ট্রাইকার। মেসি ফরোয়ার্ডে খেলে, পাশাপাশি ভাল স্কিমার। ফুটবলার হিসেবে আমি মেসিকেই এগিয়ে রাখব। পর্তুগাল ইউরো জিতেছে বলেই রোনাল্ডো বড় ফুটবলার হয়ে গেল আর মেসি ছোট, মানতে পারলাম না। ইউরো জেতার পিছনে রোনাল্ডোর কতটুকু অবদান? ফাইনালে তো ও চোট পেয়ে উঠে গেল। রোনাল্ডোর শুধু একটাই প্রাপ্তি, দেশের হয়ে বাড়তি পালক এল ওর মুকুটে। আর অতিরিক্ত হাত-পা নেড়ে, লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে চিৎকার করে সব সময় টিমের প্রকৃত নেতা হওয়া যায় না। মেসি চুপচাপ থাকে বলে এই নয় যে, ওর মধ্যে নেতা হওয়ার গুণ নেই। যে পর্তুগাল টিম যোগ্যতাই অর্জন করতে পারছিল না ইউরোয়, সেই টিমটা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মানে এই নয় যে ওরাই সত্যি সত্যি ইউরোপের সেরা টিম। তেমনই রোনাল্ডোর দেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলেই ও যে ব্যক্তিগত ভাবে মেসিকে ছাপিয়ে গেল এটাও মানা যায় না।

— স়ঞ্জয় সেন

 

নেতা হিসেবে আমি রোনাল্ডোকে অবশ্যই এগিয়ে রাখব। ইউরোর ফাইনালেই সেটা প্রমাণিত। রিজার্ভ বেঞ্চে বসে ও যে ভাবে পুরো ম্যাচে টিমকে তাতিয়ে গিয়েছে, সবাই দেখেছে। আসলে মেসির অর্জেন্তিনায় এমন অনেক তারকা প্লেয়ার রয়েছে, যারা বিশ্ব ফুটবলে বেশ বড় নাম। কিন্তু পর্তুগালে রোনাল্ডো, নানি ছাড়া হাইপ্রোফাইল ফুটবলার কোথায়? সেই টিমই কি না ইউরো চ্যাম্পিয়ন! যেটা কোপার থেকে অনেক টাফ টুর্নামেন্ট। তবে ফুটবলার হিসেবে মেসি আর রোনাল্ডো আলাদা জাতের। রোনাল্ডোর শারীরিক ক্ষমতা বেশি। মেসির রয়েছে স্কিল। বল নিয়ে খুব দ্রুত ছোটে ও। কোপায় শেষ পর্যন্ত মেসির ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি। সে দিক থেকে দেখতে গেলে রোনাল্ডো ‘লাকি’।

— ডেরেক পেরিরা