অতীতের সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেস আক্রমণের কথা আবার মনে পড়ে যাচ্ছে ব্রায়ান লারার। মনে পড়ার কারণ, বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতীয় পেস আক্রমণের উত্থান।

বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে সাংবাদিকদের লারা বলেন, ‘‘পেস বোলিং শক্তিই ভারতকে বাকিদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে। সত্যি, ভারতীয় বোলারদের দেখে একটা কথাই বলতে হচ্ছে। অবিশ্বাস্য। আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারতীয় পেসারদের দেখেছিলাম। যশপ্রীত বুমরা, মহম্মদ শামি, উমেশ যাদব— এদের দক্ষতা নিয়ে কিছু বলার নেই। এর সঙ্গে ভারতের রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তিও দারুণ। রিজার্ভে ভুবনেশ্বর কুমারের মতো পেসার বসে আছে।’’

এর পরে ভারতীয় পেসারদের অন্য উচ্চতায় তুলে দিয়ে লারা বলেছেন, ‘‘ভারতীয় বোলারদের দেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই আশি, নব্বই দশকের পেস আক্রমণের কথা কিছুটা হলেও মনে পড়ে যাচ্ছে। একটা দলের শক্তি-দুর্বলতা বিচার করতে গেলে তার রিজার্ভ বেঞ্চকে হিসেবের মধ্যে রাখতে হয়। রিজার্ভ বেঞ্চ ভাল হওয়া মানে আপনার বোলিং আক্রমণের গভীরতাও ভাল।’’

শুধু ভারতীয় পেসারদের প্রশংসা করাই নয়, ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালির প্রশংসাও শোনা গিয়েছে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির গলায়। লারা বলেই দিয়েছেন, কোহালি হল অধিনায়কত্বের শেষ কথা। লারা বলেছেন, ‘‘পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে বলতে হবে, কোহালি দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়। আর সেটা শুধু ব্যাট হাতেই নয়। সব দিক দিয়েই। মাঠ এবং মাঠের বাইরে। বলতেই হবে, কোহালি অধিনায়কত্বের শেষ কথা। মহেন্দ্র সিংহ ধোনি শুরুটা করেছিল। কোহালি এখন সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’’ ভারতীয় দল যে ঠিক দিকেই যাচ্ছে, সে ব্যাপারে নিঃসন্দেহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন অধিনায়ক। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবাই জানি, ভারতীয় ক্রিকেট ঠিক দিকেই এগোচ্ছে। সেরা লোকেরাই ভারতীয় ক্রিকেটকে চালনা করছে। যার সুফলটা পাচ্ছে দল।’’

রোহিত যে এখন সব ধরনের ক্রিকেটেই খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, তাতে খুশি লারা। এই মহাতারকা বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয় তিন ধরনের ক্রিকেটেই রোহিত দারুণ এক জন ব্যাটসম্যান। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দারুণ সফল। ওর মতো ব্যাটসম্যান টেস্টেও সফল হবে বলে আমার ধারণা। মনে হয়, আবেগ দিয়ে ক্রিকেটটা খেলে রোহিত। টেস্টের মঞ্চেও ও নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া। রোহিতের মতো প্রতিভাবান এক জন ব্যাটসম্যানকে দলের বাইরে রাখা রীতিমতো কঠিন কাজ। আশা করব, টেস্টেও ও সফল হবে।’’

আইসিসি পরিচালিত টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিনশিপের প্রশংসাও করেছেন লারা। তিনি বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অনেক আগেই শুরু হওয়া উচিত ছিল। একটা চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যই থাকে জয়ী দলকে তুলে ধরা। টেস্টেও এখন আমরা একটা চ্যাম্পিয়ন দল পেতে চলেছি। এই ব্যাপারটা আরও আগে থেকে হলেই ভাল হত। এখন যদি কেউ আফগানিস্তান বা বাংলাদেশের সঙ্গে খেলে, তা হলেও তার একটা মানে থাকবে।’’