সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মেয়েদের হকিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাসে রানির ভারত

Rani Rampal
মেলবোর্নে রানির দাপট।

ছেলেরা পারল না, মেয়েরা করে দেখাল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বুধবার অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে।

মেলবোর্নে চার দেশীয় টুর্নামেন্টে রূপেন্দ্র পাল সিংহরা প্রথমে এগিয়ে গিয়েও যে দিন হারলেন ২-৩ গোলে সে দিনই সে দেশে ইতিহাস ভারতের মেয়েদের। অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ হারিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই প্রথম জিতল ভারতের মেয়েরা।

জয়ের নায়ক ক্যাপ্টেন রানি রামপাল। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে তাঁর গোলের পাশাপাশি গোলকিপার রজনী এতিমারপু দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠায় র‌্যাঙ্কিংয়ে বারোর বিরুদ্ধে চার নম্বরও গোল করার সুযোগ পায়নি। যারা আগে শেষ বার রিও অলিম্পিক্সে ভারতের মেয়েদের ৬-১ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।

এ দিন অবশ্য ভারতীয় সমর্থকরা এক সময় ভেবেছিলেন ভিআর রঘুনাথরাও মেলবোর্নে জিতে যাবেন। যে ভাবে রূপেন্দ্র পাল সিংহ (২১ মিনিট) প্রথমে গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে তাতে মনে হয়েছিল শেষ পর্যন্ত এই দাপটটা ধরে রাখলেই এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা জিতছে। কিন্তু জেরেমি হেউডের (২৪ ও ৩৬) জোড়া আর ট্রেন্ট মিটনের ৪৩ মিনিটের গোলে সমর্থকদের সে আশা আর পূরণ হয়নি। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে রূপেন্দ্র ফের গোল করে ব্যবধান কমালেও সেটা জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ঠিক উল্টো ছবিটা উঠে আসে মেয়েদের ম্যাচে। ভারত প্রথম থেকেই ডিফেন্স মজবুত করে আক্রমণে ওঠার ট্যাকটিক্স নিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া আক্রমণে উঠলেই ভারতের মেয়েদের একের পর এক ডিফেন্সিফ ট্যাকল আছড়ে পড়ছিল। যার সামনে বল দখলে এগিয়ে থেকেও ভোঁতা হয়ে যাচ্ছিল অজি-অ্যাটাক। প্রথম কোয়ার্টারে কোনও গোল আসেনি। ভারত পেনাল্টি কর্নারটা পায় তার পরে। এশিয়া চ্যাম্পিয়নদের ক্যাপ্টেন রানি সুযোগটা ফস্কাননি। রানির গোলে এক বার এগিয়ে যাওয়ার পর ডিফেন্স আরও গুছিয়ে নেয় ভারত। সঙ্গে মিডফিল্ডাররা ক্রমাগত বল সাপ্লাই দিয়ে গিয়েছে রানি আর দীপিকা ঠাকুরকে। যাতে দু’জন কর্নারে টানা আক্রমণ করে যেতে পারেন। এই চাপের মুখে পড়েই অজিদের আক্রমণ দানা বাঁধতে পারেনি সে ভাবে। ভারত যে পরিকল্পনাটা প্রথম থেকেই কাজে লাগাতে পারছিল সেটা বিরতিতে রানির কথাতেই বোঝা যাচ্ছিল। রানি বলেন, ‘‘প্রথমার্ধটা দারুণ খেলেছি আমরা। র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা এ রকম একটা দলের বিরুদ্ধে এ রকম পারফরম্যান্স দেখানোয় দুরন্ত লাগছে।’’

 তবে শেষ কোয়ার্টারে মরিয়া কামড় দিতে ছাড়েনি অস্ট্রেলিয়া। পরপর আক্রমণ আছড়ে পড়েছে। ভারতীয় ডিফেন্ডররা অবশ্য চাপের মুখেও মাথা অসম্ভব ঠান্ডা রেখে খেলছিলেন। শেষ হুটার বাজার পাঁচ মিনিট আগে ভারত ফের একটা সুযোগও পেয়েছিল গোলের। দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্নার থেকে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার অ্যাশলি ওয়েলস রুখে দেন সোনিকার শট। তবে শেষ ৩২ সেকেন্ডে তিনটে পেনাল্টি কর্নার পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা ভারতের গোলকিপার রজনী দুরন্ত ভাবে পরিস্থিতি সামলে নেন। রানির পাশাপাশি তাঁর দাপটই এ দিন ভারতকে গোল খেতে দেয়নি।

তিন ম্যাচের সিরিজে রানিরা আপাতত ১-০ এগিয়ে। যে জয়ের সুবাদে এখন দুরন্ত ফর্মে থাকা রানিদের এই পারফরম্যান্স গোটা সিরিজেই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ দিন রানিদের জয়ে অভিনন্দনের স্রোত বয়ে যায়। অনেকে বলেন, এত বড় মাপের জয়ের পর রানিদের আত্মবিশ্বাস অন্য জায়গায় চলে যাবে সিরিজের বাকি দু’ম্যাচে। যা ২৫ আর ২৭ নভেম্বর। যে দুই ম্যাচে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়টাও সেরে ফেলতে পারেন কি না ভারতের মেয়েরা সেটাই দেখার।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন