• কৌশিক দাশ
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বাঁ-হাতি পেস সামলাতে মহড়া শুরু ভারতের নেটে

India
মহড়া: এশিয়া কাপে মঙ্গলবার ভারতের প্রতিপক্ষ হংকং। তার আগে সোমবার দুবাইয়ে চলছে রোহিত শর্মাদের প্রস্তুতি। অধিনায়কের সঙ্গে খোশমেজাজে যশপ্রীত বুমরা ও চহাল। ছবি: রয়টার্স।

গাড়ির ডান দিকের জানলা দিয়ে বাইরে তাকাতেই চোখে পড়ল বাড়িটা, থুরি লম্বা টাওয়ারটা। না পড়েই বা উপায় কী! দুবাইয়ের আকাশ চিরে যে ভাবে ১৬৩ তলার ওই সুউচ্চ অট্টালিকা উঠে গিয়েছে, তাতে মাইনাস টেন পাওয়ার-টাওয়ার হলে এক চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। না হলে কদাচিৎ নয়। 

এই বাড়িটার কত তলা থেকে ইথান হান্ট মানে টম ক্রুজ তাঁর ‘মিশন ইম্পসিবল’ পুরো করার জন্য কাঁচের দেওয়াল বেয়ে উঠছিলেন, ঠিক জানা নেই। তবে এটা জানা আছে, হলিউডের ওই সিক্রেট এজেন্টের সামনে সমস্যা কম ছিল না। হাত ফস্কালেই মৃত্যু, তীব্র হাওয়া আর দূর থেকে ধেয়ে আসা মরুঝড়। কোনটা ছেড়ে কোনটা সামলাবেন নায়ক!

রোহিত শর্মার সামনে মরু শহরের মিশন এশিয়া কাপ অবশ্য ‘ইম্পসিবল’ নয়। কিন্তু যথেষ্ট কঠিন। তাঁর সামনের সমস্যাগুলোও প্রাণঘাতী নয় ঠিকই, কিন্তু একেবারে ফেলনাও নয়।

সমস্যা দুই। পাকিস্তানের বাঁ-হাতি বোলিং আক্রমণ। এবং, দুবাইয়ের গরম!

দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামের লাগোয়া আইসিসি ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে ভারত হঠাৎই ঠিক করে, সোমবার দুপুরে তারা প্র্যাক্টিস করবে। একচল্লিশ ডিগ্রির ওপরে চলে যাওয়া তাপমাত্রার সঙ্গে ঝালিয়ে নেওয়ার একটা চেষ্টা আর কী। এবং যে চেষ্টায় নামার আগেই রোহিতকে স্বীকার করে নিতেই হল, ইংল্যান্ড থেকে যাঁরা এখানে এসেছেন, এই গরমের সঙ্গে তাঁদের মানিয়ে নিতে কিন্তু সমস্যা হবেই। আজ, মঙ্গলবার ভারতের প্রতিপক্ষ হংকং। তারা, নাকি এই গরম, কোনটা আপনাদের আসল প্রতিপক্ষ হতে চলেছে? 

সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্নটা হওয়া মাত্রই রোহিতের উত্তর, ‘‘ইংল্যান্ড থেকে যারা এখানে এসেছে, তাদের কাজটা অবশ্যই কঠিন হবে। আমরা, বাকিরা কয়েক দিন হল এখানে আছি। আমরা কিছুটা মানিয়ে নিয়েছি। তবু বলব, পরিবেশটা সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ।’’

তবে গরম সমস্যা তালিকায় দু’নম্বরেই থাকবে। একে উঠে এসেছে পাকিস্তান দলে থাকা চার বাঁ-হাতি পেসার। যাঁদের মধ্যে তিন জনকেই রবিবারের হংকং ম্যাচে খেলিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। বাঁ-হাতি পেস আক্রমণ সামলাতে ইতিমধ্যেই দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। শ্রীলঙ্কা থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে বাঁ-হাতি থ্রো ডাউন বিশেষজ্ঞ নুয়ান সেনেভিরত্নে-কে। ক্রিকেট পরিসংখ্যান খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ঘাটলে বেরিয়ে পড়বে শ্রীলঙ্কার এই প্রাক্তন ক্রিকেটার গোটা দু’য়েক প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। তাও কলম্বোর কোনও এক ক্লাবের হয়ে। তা হলে কেন আনা হল তাঁকে? জানা যাচ্ছে, বছর আটত্রিশের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার খুব ভাল ‘থ্রো ডাউন’ দিতে পারেন। মানে বাঁ-হাতে বলটা দারুণ ছোড়েন। গত বছর শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে নুয়ানকে দেখে পছন্দ হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। তার পরেই তাঁকে উড়িয়ে আনা হয়। আপাতত সাময়িক চুক্তিতে। পরে যা বাড়তে পারে।  রোহিত তো গদগদ হয়ে বলছিলেন, ‘‘বাঁ-হাতে দারুণ ছোড়ে বলটা। আমাদের দলে দু’জন আছে যারা ডান হাতে থ্রো ডাউন করায়। নুয়ান আসায় খুব লাভ হবে।’’

নেটে দেখা গেল, নুয়ানকে নিয়ে অনেকটা সময় কাটালেন রোহিত। কিন্তু পাক ম্যাচে তো এই নুয়ান নন, উল্টো দিক থেকে ছুটে আসবেন মহম্মদ আমির, জু্নেইদ খান, উসমান খানরা। রিজার্ভে আরও এক বাঁ-হাতি শাহিন শা আফ্রিদি। তাঁদের সামলানোর জন্য কি শুধু নুয়ানের ‘থ্রো ডাউন’ যথেষ্ট হবে? রোহিতও মনে হল, নিশ্চিত নন। তাই বাঁ-হাতি সামলানোর নতুন এক রাস্তা বেছে নিলেন তিনি। 

ভারতীয় দলে সদ্য ডাক পাওয়া বাঁ-হাতি পেসার খলিল আহমেদের বলে অনেকটা সময় চলল অনুশীলন। নেট প্র্যাক্টিস শুরুর আগে এই খলিলকে নিয়ে রোহিত বলে যান, ‘‘খলিলকে দেখে আমার খুব ভাল লেগেছে। শুধু বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র আনাই নয়, খুব জোরে বল করতে পারে খলিল। আমি বলে দিচ্ছি, ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলার দক্ষতা আছে ছেলেটার। এখন মাঠে গিয়ে কাজটা করতে হবে ঠিকঠাক।’’ এর পরেই দুবাইয়ের তপ্ত দুপুরে যে ভাবে খলিলের বলে ব্যাটিং অনুশীলন করলেন রোহিত, তাতে বোঝা গেল অধিনায়কের কথাগুলো স্রেফ মুখের কথা নয়। 

এ রকম একটা বড় মাপের প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে রোহিত যথেষ্ট উত্তেজিত। ‘‘আবার একটু নার্ভাসও কিন্তু লাগছে,’’ বলছেন বিরাট কোহালির অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব পাওয়া এই ব্যাটসম্যান। নতুন অধিনায়কের আরও মন্তব্য, ‘‘আমরা এখনই পাকিস্তান নিয়ে ভাবছি না। সে তো বুধবার খেলা। তার আগে আমাদের কাল হংকংয়ের সঙ্গে খেলতে হবে। তা-ই ওদের নিয়েই এখন ভাবব।’’ 

ভারতীয় অনুশীলনে কিন্তু অধিনায়কের কথার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বাঁ-হাতিদের জন্য এত প্রস্তুতি, এ তো আর হংকং ম্যাচের কথা ভেবে নয়। আরও একটা ব্যাপার দেখা গিয়েছে। নতুন বলে অনুশীলন করছেন লেগস্পিনার যুজবেন্দ্র চহাল। দুটো ম্যাচ দেখে রোহিতের মনে হয়েছে, উইকেট পরের দিকে মন্থর হবে। তাই কি পরে ফিল্ড করলে শিশির পড়ার আগে চহালকে দিয়ে বোলিং ওপেন করার কোনও ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে ভারতীয় শিবিরে? নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে এটা নিশ্চিত করে বলে দেওয়া যায়, এত সব প্রস্তুতি হংকংকে মাথায় রেখে নয়। 

সেই মহা ম্যাচের ডঙ্কা কিন্তু বেজে গিয়েছে।    

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন