টেস্ট ক্রিকেটের জৌলুস যে এখনও শেষ হয়ে যায়নি, তা প্রত্যেক মুহূর্তে বুঝিয়ে দিচ্ছেন ইনদওরের সমর্থকেরা। শুক্রবারও গ্যালারির বেশির অংশ প্রায় ভর্তি। দর্শকসংখ্যা ১৩,৫০০। সমর্থকহীন টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে প্রত্যেকটি দেশ যখন উদ্বেগে, ইনদওরের হোলকার স্টেডিয়ামে তখন ব্যতিক্রমী ছবি। মায়াঙ্ক আগরওয়াল সেঞ্চুরিতে পৌঁছনোর পরেই শুরু হল মেক্সিকান ওয়েভ। আক্রমণাত্মক শটের জন্যও যেমন তাঁরা উৎসাহী, তেমনই ভাল রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিংও পেল অভিবাদন। 

টি-টোয়েন্টি ও ওয়ান ডে ক্রিকেটের জোয়ারে যখন ক্রিকেটপ্রেমীরা ভাসছেন, ইনদওরে কী করে তখনও টেস্টের প্রতি এত প্রেম? ভোপাল থেকে আসা এক সমর্থক সঞ্জীব সিংহ বলছিলেন, ‘‘ইনদওরে রঞ্জি ট্রফি ফাইনালেও দর্শক হয়েছিল। আমিই তো ভোপাল থেকে এখানে ম্যাচ দেখতে এসেছিলাম। আর এটা তো টেস্ট। যেখানে প্রিয় তারকা বিরাট কোহালির খেলা চোখের সামনে থেকে দেখতে পাব। সেই ইচ্ছা থেকেই এত দূরে খেলা দেখতে এসেছি।’’

মাত্র দেড়শো টাকার টিকিট কেটে মাঠে এসেছেন সঞ্জীব। সঙ্গী তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। স্থানীয় স্কুল, কলেজের ছাত্র হলে তাঁদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। টিকিট কাউন্টারে গিয়ে আই-কার্ড দেখালেই পাওয়া যাচ্ছে একশো টাকার টিকিট। বিশেষ ভাবে সক্ষম ও মহিলাদের জন্য রয়েছে আলাদা ব্লক (এল ব্লক)। 

আরও পড়ুন: ইডেনে গোলাপি বল দেবেন সেনাকর্মীরা

মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট সংস্থার সচিব সঞ্জীব রাও বলছিলেন, ‘‘ইনদওরের সমর্থকদের একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখার জন্য অনেক অপেক্ষা করতে হয়। এখানে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে (ওয়ান ডে)। টেস্ট হয়েছিল ২০১৬ সালে নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এত দিন অপেক্ষা করার পরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট আয়োজনের সুযোগ পেয়েছি আমরা। ক্রিকেটপ্রেমীরাও মাঠ ভরিয়েছেন।’’ যোগ করলেন, ‘‘তা ছাড়া টিকিটের দামও এখানে সামান্য। ১৫০ টাকার ডেইলি টিকিট থেকে শুরু। সর্বোচ্চ মূল্য ছ’শো টাকা। সমস্ত ধরনের মানুষের কথা ভেবেই টিকিটের দাম নির্ধারিত হয়েছে। যে রকম ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে, আশা করি স্থায়ী টেস্ট কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ইনদওরকেও জায়গা দেওয়া হবে।’’ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ, ঐতিহাসিক দিনরাতের টেস্টের আসর বসতে চলেছে ইডেনে। ইনদওরের সমর্থকেরাও উদগ্রীব, কবে তাঁদের মাঠে গোলাপি বলের টেস্ট দেওয়া হবে। এমপিসিএ সচিবও বলছিলেন, ‘‘অবশ্যই চাইব, পরের টেস্ট ম্যাচটি যেন দিনরাতে আয়োজন করার অনুমতি দেয় ভারতীয় বোর্ড। আমাদের সেই পরিকাঠামোও আছে।’’

প্রাক্তন বোর্ড সচিব সঞ্জয় জগদালে অবশ্য বলছিলেন, ‘‘স্থায়ী টেস্ট কেন্দ্র যে মুহূর্তে করে দেওয়া হবে, তখন ইনদওরের মতো ছোট মাঠগুলোয় আর ম্যাচ দেওয়া হবে না।’’