• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অস্ট্রেলিয়া গতিহীন

বাকি সিরিজে নেই বিরাটদের প্রধান প্রতিপক্ষ মিচেল স্টার্কই

Mitchell Starc
ধাক্কা: চোট পেয়ে টেস্ট সিরিজ থেকেই ছিটকে গেলেন স্টার্ক। —ফাইল চিত্র।

ডিআরএস বিতর্ক নিয়ে সাময়িক শান্তি রক্ষার ইঙ্গিতের মধ্যেই ফের ভূমিকম্প অস্ট্রেলীয় শিবিরে। এ বার স্টিভ স্মিথ-দের প্রধান অস্ত্র মিচেল স্টার্ক-ই চোট পেয়ে ছিটকে গেলেন বাকি সিরিজ থেকে। তাঁর ডান পায়ের পাতায় চিড় ধরা পড়েছে।

স্টার্ক-কে দ্রুত দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট মহলেও অনেকের মতে, স্টার্কের সঙ্গে স্মিথদের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাও হয়তো দেশে ফেরার উড়ান ধরবে। পুণেতে জিতে স্মিথ-রা এগিয়ে গিয়েছিলেন সিরিজে। তার পর বেঙ্গালুরুতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ১-১ করে বিরাট কোহালির দল। কিন্তু পুণের জয়ে ব্যাট-বল দু’টোতেই প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছিলেন স্টার্ক। বেঙ্গালুরুতে তাঁকে চেতেশ্বর পূজারা ও অজিঙ্ক রাহানে অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামলালেও স্টার্কের ছিটকে যাওয়া ভারতীয় ব্যাটিংয়ের জন্য হোলির উপহার হিসেবেই দেখা যায়।

শুধু বল হাতে ভয়ঙ্কর ওঠাই নয়, আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষাতেও স্টার্ক হয়ে উঠেছিলেন স্মিথের দলের প্রধান মুখ। বেঙ্গালুরুতে ওপেনার অভিনব মুকুন্দ-কে তিনি ক্রমাগত শর্ট বলে সমস্যায় তো ফেলেছিলেনই, তার ওপর তাঁর কপালে আঘাত করবেন বলেও ইঙ্গিত করেছিলেন। যার পাল্টা ভঙ্গি স্টার্ক-কে আউট করে অশ্বিন দেখিয়েছিলেন। ঘটনা হল, অশ্বিন যতই পাল্টা ভঙ্গি করে থাকুন, স্টার্ক না থাকা মানে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ওপর থেকে চাপটাই সরে যাওয়া। হেজ্‌লউড বেঙ্গালুরুতে পাঁচ উইকেট পেলেও স্টার্কের মতো আতঙ্ক তৈরি করতে পারেননি কখনওই।

স্টার্কের জায়গায় সম্ভাব্য বদলি হিসেবে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আসতে পারে প্যাট কামিন্স-কে। সম্প্রতি শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে আগুনে বোলিং করে কামিন্স নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে একটি ম্যাচে আট উইকেট তুলে নিয়েছেন। যে হেতু স্টার্কের বদলি হিসেবে এক্সপ্রেস গতির কাউকে আনার কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া, তাই কামিন্সের সম্ভাবনা ভাল। তিনি স্টার্কের মতোই আগুন ঝরাতে পারেন বল হাতে। আর এক ফাস্ট বোলার জেমস প্যাটিনসনের কথাও ভাবতে পারেন স্মিথ-রা।

বিকল্প: স্টার্কের জায়গায় আসতে পারেন কামিন্স। —ফাইল চিত্র।

তবে কামিন্সের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, ছয় বছর হয়ে গিয়েছে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি খেলেছেন তিনি। অভিষেক সেই টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ছয় উইকেট নিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। চোট সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পরের ছয় বছর টেস্টের আঙিনা থেকে তাঁর বাইরে থাকাটা একটা রহস্য। কামিন্সের মতোই অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার হয়ে ভাল বল করছেন প্যাটিনসন। দু’জনেই সর্বোচ্চ গতিতে বল করতে পারছেন আবার। 

শেষ পর্যন্ত যিনিই আসুন পরিবর্ত হিসাবে, স্টার্কের মতো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ওপর ফেলতে পারবেন কি না, সেটাই প্রশ্ন। স্টার্ক বাঁ হাতি বলে অন্য রকম কোণ তৈরি করে ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলতে পারতেন। তাঁর বোলিং খেলার জন্য চেতেশ্বর পূজারা-দের বিশেষ প্রস্তুতি পর্যন্ত নিতে হচ্ছিল। কামিন্স বা প্যাটিনসন দু’জনেই ডান হাতি। তাই তাঁরা দু’জনের যে কেউ এলেও বাঁ হাতির কোণ নিয়ে ভাবতে হবে না পূজারাদের। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিজিও বলেছেন, ‘‘দ্বিতীয় টেস্টের সময় স্টার্ক ওর ডান পায়ের পাতায় যন্ত্রণা অনুভব করে। সেই যন্ত্রণা কমছে না দেখে আমরা স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নিই। স্ক্যানে পায়ের পাতার হাড়ে চিড় ধরা পড়েছে।’’ তবে এই সিরিজে আর খেলতে না পারলেও ফিজিওর আশা, জুনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে পারবেন স্টার্ক।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন