এক দশক আগে এই ১৮ এপ্রিলেই আইপিএলের প্রথম ম্যাচে রয়্যাল চ্যালে়ঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে ১৫৮ রান করে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে জিতিয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাকালাম। ঠিক তার দশ বছর পরে কেকেআর ড্রেসিংরুমে উৎসব হল জয় দিয়েই।

বুধবার কলকাতার সাত বল বাকি থাকতে সাত উইকেটে জয়ের নেপথ্যে থাকছে দীনেশ কার্তিকের ভাল অধিনায়কত্ব ও তাঁর তিন স্পিনারের দাপট। সুনীল নারাইন বাদে এ দিন কুলদীপ যাদব, পীষূষ চাওলা ও নীতীশ রানা ১০ ওভারে ৫২ রান দিয়ে নিলেন চার উইকেট। যে কারণে ২০ ওভারে রাজস্থান রয়্যালস ১৬০ রানের বেশি করতে পারল না।

কেকেআর অধিনায়ক কার্তিক টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন। জানতেন, রাজস্থানে ডার্সি শর্ট, বেন স্টোকস, জস বাটলারদের মতো বিদেশিরা রয়েছেন। যাঁরা পেসারদের বিরুদ্ধে যতটা স্বচ্ছন্দে খেলে দেন, ঠিক ততটাই কুঁকড়ে যান স্পিনার বল করতে এলে। পা না বাড়িয়ে শট মারতে যান ওঁরা। অফস্পিনার বল করতে এলে সুইপ করে পরিস্থিতি সামাল দেন। কিন্তু সামনে ‘রিস্টস্পিনাররা’ (কব্জির ব্যবহারে যাঁরা স্পিন করেন, যেমন কুলদীপ) পড়লেই সমস্যা বাড়ে। বেন স্টোকস (১৪) যেমন পীযূষের গুগলি বুঝতে না পেরে আউট হলেন।

 

আরও পড়ুন: সাহস পেয়ে অধিনায়ক ও কোচের কাছে কৃতজ্ঞ ঋদ্ধি

ডার্সি শর্ট ও অজিঙ্ক রাহানের সামনে কার্তিক শুরু থেকেই ঠেলে দিয়েছিলেন দুই রিস্টস্পিনার, পীযূষ এবং কুলদীপকে। পাওয়ার প্লে-র প্রথম তিন ওভারে অজিঙ্ক বা শর্ট কিন্তু কেকেআরের এই দুই বোলারের সামনে হাত খুলে মারতে পারেননি। স্পিনের সামনে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রাহানে। তাই চতুর্থ ওভারে সুনীল নারাইন বল করতে এলেই পরিকল্পনামাফিক ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচে আন্দ্রে রাসেলকে বল না করানোও কার্তিকের একটা চাল। রাসেলের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট রয়েছে। রাসেল এমনিতেও বল করেন দু’তিন ওভার। পরিবর্তে নীতীশ রানার অফস্পিনকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তুলে নেন শর্ট (৪৪) ও রাহানের (৩৬) উইকেট।

১৬০ রান স্কোরবোর্ডে নিয়ে ম্যাচ জিততে গেলে দরকার ছিল জোরদার বোলিংয়ের। কিন্তু রাজস্থানের বোলিংয়ে সেই ঝাঁঝ কোথায়? জয়দেব উনাদকাট (০-৩৪), ধবল কুলকার্নিরা (০-২০) কোনও চাপ তৈরি করতে পারেননি। রাহানের হাতে কেকেআরের মতো ভাল স্পিনারও ছিল না। এই মুহূর্তে আমার মতে সেরা দল কেকেআর। যার বড় কারণ, ওদের তিন স্পিনার। যাঁদের মিলিত ১২ ওভার খেলাটা সমস্যার। সঙ্গে অলরাউন্ডার নীতীশ, রাসেল-সহ দুরন্ত ব্যাটিং বিভাগ। এ দিন যেমন ব্যাট হাতে ২৭ বলে অপরাজিত ৩৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা নীতীশ। এই নিয়ে পর পর দু’বার।  এর সঙ্গে কার্তিকের অধিনায়কত্ব। তাই দলটাও আইপিএলের শীর্ষে।