নেটে ব্যাট করার সময় বাঁ কাঁধে বল লেগে ফের আহত আন্দ্রে রাসেল। ফিরোজ শাহ কোটলায় দিল্লি ক্যাপিটালসের হর্ষল পটেলের বিমারে যেখানে আঘাত পেয়েছিলেন। এ দিনও একই জায়গায় বল আছড়ে পড়ে কেকেআর অলরাউন্ডারের। 

বুধবার ইডেনে নাইটদের অনুশীলন চলাকালীন যদিও বিমারে আহত হননি ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। নেট বোলার মিনাদ মঞ্জরেকরের বাউন্সার আছড়ে পড়ে রাসেলের কাঁধে। মুহূর্তের মধ্যে ব্যাট ছুড়ে ফেলে দিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। প্রায় দশ মিনিট একই ভাবে মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। এমনকি বাঁ হাত নড়াচড়া করতেই পারছিলেন না। ডাক্তার এসে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন রাসেলকে। সতীর্থ কার্লোস ব্রাথওয়েট ও রবিন উথাপ্পার কাঁধে ভর দিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে এগিয়ে যান নাইটদের প্রধান ভরসা। কেকেআর সূত্রে খবর, ডেরিংরুমে যাওয়া মাত্রই আইসপ্যাক দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। দল বেরিয়ে যাওয়ার সময় অন্য গাড়িতে করে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে এক্স-রে করাতে নিয়ে যাওয়া হয় রাসেলকে। 

ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের অবস্থা দেখে হতাশ কেকেআর অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক। রাসেলের চোট লাগার সময় আইপিএল সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন কার্তিক। তাই ক্যামেরার সামনে থেকে সরে আসতে পারেননি। কিন্তু সাক্ষাৎকার শেষ হয়ে যাওয়া মাত্রই মাঠে ছুটে আসেন তিনি। যাঁর বাউন্সারে আঘাত পেয়েছেন, সেই মিনাদকে ডেকে কার্তিক জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘ঠিক কোথায় আঘাত পেল রাসেল? কী করে ঘটল? একটু বলতে পারবে?’’ মিনাদ নিজেও বুঝতে পারেননি হঠাৎ কী হয়েছিল। কার্তিককে তিনি বললেন, ‘‘আমার কোনও দোষ নেই। বাউন্সার দিয়েছি কিন্তু বুঝতে পারিনি এ ভাবে লাগবে।’’ 

রাসেল যাঁর বলে আঘাত পেয়েছেন, সেই ডান হাতি পেসার ইতিমধ্যে মুম্বইয়ের হয়ে একটি রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলেছেন। বলে গতির সঙ্গে বাউন্স রয়েছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সামনে আসতে ভয় পাচ্ছিলেন। শেষে বলে গেলেন, ‘‘আমি সত্যি ইচ্ছে করে মারতে চাইনি। এ ভাবে লেগে যাবে ভাবতেও পারিনি।’’

একেই টানা তিন ম্যাচ হেরে লিগ তালিকার ছয় নম্বরে নেমে গিয়েছে কেকেআর। তার উপর রাসেলের চোট উদ্বেগ বাড়িয়েছে কেকেআর শিবিরে। সিইও বেঙ্কি মাইসোর যদিও তা স্বীকার করলেন না। বলে গেলেন, ‘‘এমন কিছু হয়নি। সময় পেলেই ঠিক হয়ে যাবে।’’ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেকেআরের হাতে কি আর সময় আছে? শুক্রবারই আরসিবি-র বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বিরাট কোহালির দলের বিরুদ্ধে ১৩ বলে অপরাজিত ৪৮ করে নাইটদের জিতিয়েছিলেন। কিন্তু ইডেনে ফিরতি ম্যাচে জিততে না পারলে আরও কঠিন অঙ্কের সামনে পড়বে কেকেআর শিবির। তার উপর যদি রাসেল খেলতে না পারেন, তাতে মনোবলের দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়তে পারে কেকেআর।

রাসেল ব্যাট করার সময় আরও একটি সমস্যা দেখা গিয়েছে। কব্জির সেই পুরনো চোট এখনও হয়তো পুরোপুরি সারেনি রাসেলের। কব্জিতে ব্যান্ড পরে ব্যাট করছিলেন ঠিকই। কিন্তু কব্জির মোচড়ে যে সব শট মারা যায়, তা একেবারেই খেলতে পারছিলেন না তিনি। একটি করে বল খেলার পরেই কব্জি দেখছিলেন। তার উপর কাঁধে চোট পাওয়ার পরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হল। কোহালির আরসিবি-র বিরুদ্ধে তিনি নামতে পারেন কি না সেটাই দেখার।