সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে যখন ১৮ বলে ৫৩ রান প্রয়োজন ছিল, তখনও আশা হারাননি নাইট কোচ জাক কালিস। কেকেআর ডাগ-আউট বিশ্বাস করেছিল যে, আর কেউ না পারুক, আন্দ্রে রাসেল পারবেনই। 

১৯ বলে তাঁর অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস মরসুমের প্রথম জয় উপহার দিল নাইট শিবিরে। যা দেখে নাইট কোচ জানিয়ে দিলেন, ক্রিকেটে ফিনিশারদের তালিকায় আন্দ্রে রাসেলকে উপরের দিকেই তিনি রাখতে চান। সোমবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের ঐচ্ছিক অনুশীলন শেষে কালিস বলেন, ‘‘ক্রিকেটে দু’রকমের ‘পাওয়ার হিটার’ থাকে। যারা নতুন বলে বড় শট নেয়। আর যারা পুরনো বলে বড় শট নিতে পারে। রাসেলকে দ্বিতীয় জায়গায় রাখব। আমার মতে, ম্যাচ শেষ করার ক্ষেত্রে ও অন্যতম সেরা পাওয়ার হিটার।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এর আগেও বহু ম্যাচে ওকে এ ভাবে ব্যাট করতে দেখেছি। কিন্তু সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ওকে আরও পরিণত দেখিয়েছে। আমার দেখা অন্যতম সেরা ইনিংস উপহার দিয়ে গেল রাসেল।’’

কেকেআর সূত্রের খবর, ম্যাচের পরের দিন দুপুর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলেন রাসেল। তার পরে রিকভারি পুল সেশন করে, সোজা চলে যান শুটিংয়ে। ম্যাচের পরের দিনগুলো এ ভাবেই ঘুমিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে থাকেন তিনি। রাতে ফের শুরু হয় শারীরচর্চা।

এ দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সল্টলেক ক্যাম্পাসের মাঠে ম্যাচ প্র্যাক্টিস হয় নাইটদের। গত ম্যাচে যাঁরা প্রথম একাদশে ছিলেন না, মূলত তাঁদের নিয়েই অনুশীলনে নামে কেকেআর। ব্যতিক্রম রবিন উথাপ্পা। গত ম্যাচে ২৭ বলে ৩৫ রান করেও যেন তাঁর স্বাদ মেটেনি। এ দিন মারার মহড়া চলে উথাপ্পার। ইডেনের দর্শকেরা তাঁর থেকে যা দেখতে চান। হুক, পুলের মহড়াও চলে বেশ কিছুক্ষণ। কিংস ইলেভেন পঞ্জাব ম্যাচের আগে সব ভুল শুধরে নিতে চান রবিন। 

অনুশীলনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠলেন কার্লোস ব্রাথওয়েট। তাঁর বিরাট চেহারা যেমন অন্যদের থেকে পার্থক্য গড়ে দেয়, তেমনই পার্থক্য গড়ে দেয় তাঁর ব্যাটিং। ম্যাচ প্র্যাক্টিসে ব্রাথওয়েট যে ধরনের ছয় মারছিলেন, তা বিশ্বের যে কোনও মাঠ পেরিয়ে যাবে। তাঁর একটি ছয় আছড়ে পড়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মীর গাড়ির জানলায়। কোনও রকম প্রতিবাদ না করে সে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান তার মালিক। ব্রাথওয়েট অবশ্য এ কথা জানেন না। কারণ, তার পরে বেশ কয়েকটি ছয় একই দিকে আছড়ে পড়ে। ভাগ্যিস সেগুলো গাড়ির কাঁচ এড়িয়ে গিয়েছে।

উথাপ্পা ও ব্রাথওয়েটের ছয় মারার মহড়ার মাঝেই প্রশ্ন উঠে গেল সুনীল নারাইনের চোট নিয়ে। সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ফিল্ডিং করার সময় আঙুলে চোট পান নারাইন। তাই নারাইনের পরিবর্তে ওপেন করেন নীতীশ রানা। কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের বিরুদ্ধে আদৌ কি তাঁকে দলে রাখা হবে? কালিসের উত্তর, ‘‘নারাইনের চোট গুরুতর নয়। সামান্য ব্যথা লেগেছিল। মনে হয় না পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ওর খেলতে খুব একটা অসুবিধা হবে।’’

কিন্তু নীতীশ রানা ও ক্রিস লিনের ওপেনিং জুটি কি পরের ম্যাচেও থাকছে? কোচ বললেন, ‘‘মরসুমের শুরু থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল যে, বিপক্ষকে আন্দাজ করতে দেব না আমরা কী করতে চলেছি। যত মরসুম এগোবে, এ ধরনের চমক ততই বাড়বে। তবে রানা-লিন জুটি আগামী ম্যাচে থাকবে কি না বলা যাচ্ছে না।’’

বুধবারের ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো ব্যাটসম্যান কিংস ইলেভেন পঞ্জাবে রয়েছেন। তিনি অবশ্যই ক্রিস গেল। গত বার প্রথম ম্যাচে ইডেনেই ৩৮ বলে অপরাজিত ৬২ রান করে কলকাতাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন নাইট। তাঁকে নিয়ে কী ভাবছে নাইট শিবির? কোচ বলেন, ‘‘শুধু গেল নয়। বিপক্ষের প্রত্যেক ক্রিকেটারের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে কাজ করতে হবে। এক জনকে নিয়ে ভাবলে চলবে না।’’