রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচের দু’দিন আগে নাইটদের অনুশীলনে বিস্ময়কর ঘটনা। বৃহস্পতিবারই মরণ-বাঁচন ম্যাচ ইডেনে। যেখানে হারলে প্লে-অফের দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে যেতে পারে কেকেআর। কিন্তু সেই ম্যাচের দু’দিন আগে ইডেনে দেখাই গেল না অধিনায়ক দীনেশ কার্তিককে। তাঁর সঙ্গে অনুপস্থিত নাইটদের বেশির ভাগ ভারতীয় ক্রিকেটার। 

কিন্তু তাঁরা কোথায় গেলেন? প্রশ্নের সহজ উত্তর পাওয়া যায়নি মঙ্গলবারও। কেকেআরের কয়েক জন ক্রিকেটার যখন ইডেনে ডুবে অনুশীলনে, নাইট শিবিরের দাবি, কার্তিক নাকি মুম্বইয়ে। সেখানেই নাকি অনুশীলন করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ তার কোনও ভিডিয়ো খুঁজে পাওয়া যায়নি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে। 

দেখা মেলেনি রবিন উথাপ্পা, কুলদীপ যাদব, নীতীশ রানার মধ্যে কাউকেই। আবার কুলদীপ যাদবের মতো কারও কারও তো হদিশই পাওয়া যাচ্ছে না। কুলদীপ কোথায় আছেন, তা জানাতে পারেননি নাইট প্রতিনিধিরা। কেউ কেউ বলছেন, তিনি বাড়ি গিয়েছেন। কারও মত, তিনি মুম্বইয়ে। এ দিন ইডেনে রাজস্থান ম্যাচের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকলেন আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারাইন, কার্লোস ব্রাথওয়েট, লকি ফার্গুসন, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, কে সি কারিয়াপ্পা ও ম্যাট কেলি।  

কিন্তু কেন এ রকম অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হল? কেন কার্তিকেরা এলেন না কলকাতায়? মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে হেড কোচ জাক কালিস ধোঁয়াশা দূর করতে চাইলেও সব প্রশ্নের জবাব মেলেনি। কেকেআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে বিধ্বস্ত ক্রিকেটারদের কয়েক জনকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অনুশীলন করছেন মুম্বইয়ে কেকেআরের নিজস্ব অ্যাকাডেমিতে। কার্তিকও নাকি সেখানেই আছেন। কিন্তু হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?

কালিসের ব্যাখ্যা, ‘‘মনে হয়েছে ছেলেদের বিশ্রাম প্রয়োজন। তাই দু’দিন ওদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। কয়েকটা খারাপ ম্যাচের পরে ছেলেরা হতাশ। নিজেদের মতো সময় কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে ওদের। যাতে আসন্ন ম্যাচে ফুরফুরে মেজাজে নামতে পারে দল। কয়েক জন বাড়ি গিয়েছে। কেউ, কেউ মুম্বইয়ে অনুশীলন করছে।’’

রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ম্যাচ যখন ইডেনে, তা হলে হঠাৎ মুম্বইয়ে অনুশীলন করার কারণ কী? কালিসের উত্তর, ‘‘খোলা মাঠে, মাঝের পিচে অনুশীলন করতে চেয়েছিল কয়েক জন। নিজেদের শট পরীক্ষা করার জন্য খোলা মাঠে অনুশীলন করতে চেয়েছে ওরা। যা ইডেনে সম্ভব নয়। মুম্বইয়ে সেটা করা যাবে।’’ মুম্বইয়ে কেকেআর অ্যাকাডেমির দু’টি মাঠ। তার মধ্যে একটি ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে। যেখানে ফ্লাডলাইটেও অনুশীলন করতে পারেন ক্রিকেটারেরা। 

অধিনায়ক কার্তিক সোমবার চেন্নাই গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, বুধবার, ম্যাচের আগের দিনও ইডেনে অনুশীলন করবেন না কার্তিক। রাতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে বৃহস্পতিবার মাঠে নামবেন রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে। 

আরসিবি-র বিরুদ্ধে হারের পরে শাহরুখ খান টুইট করেছিলেন, ‘‘অন্তত রাসেলের জন্য কয়েকটি ম্যাচ জেতো।’’ কিন্তু হায়দরাবাদ ম্যাচ হারের পরে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি কেকেআর মালিকের। তা হলে কি মুম্বইয়ে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছেন শাহরুখ? কালিসকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে গেলেন। শুধু বলেন, ‘‘দলের কয়েক জন ক্রিকেটার মুম্বইয়ে যাওয়ার পর থেকে ওদের সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। ডিকে (কার্তিক) তার মধ্যে এক দিন বাড়ি গিয়েছিল। বুধবার ডিকে ফিরলে আমাদের কথা হবে। তখন ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করব।’’

টানা পাঁচ ম্যাচে হারের পরে কার্তিকের নেতৃত্ব নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নাইটদের টানা বিপর্যয়ের জন্য কার্তিকের নেতৃত্বকেও কাঠগড়ায় দাড় করাচ্ছেন একটি অংশ। রাজস্থান রয়্যালসের অজিঙ্ক রাহানেকে দিন কয়েক আগে নেতৃত্ব থেকে সরানো হয়। কার্তিকের ক্ষেত্রেও কি এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে? কালিস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনও কথা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এ নিয়ে কোনও আলোচনা করিনি। এই প্রসঙ্গটাই ওঠেনি।’’

কার্তিক নিয়ে ধোঁয়াশা থাকার পাশাপাশি আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। আরসিবির বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে রাসেল যখন নিজেই চার নম্বরে ব্যাট করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন, তখন কেন হায়দরাবাদের বিরুদ্ধেও তাঁকে সাত নম্বরে নামানো হল? কালিসের ব্যাখ্যা, ‘‘অষ্টম ওভারে রিঙ্কু ব্যাট করতে গিয়েছিল। রাসেলকে এত আগে পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা ছিল না। পরের ম্যাচে সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হলে রাসেলকে উপরের দিকে খেলানোর কথা আমরা ভেবে দেখব।’’

পরিস্থিতি কঠিন হলেও কালিস আশাবাদী, তাঁর দলের প্লে-অফে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। বলে গেলেন, ‘‘আগেও আমরা টানা ১১ ম্যাচ জিতে প্লে-অফ খেলেছি। চ্যাম্পিয়নও হয়েছি। বোলাররা ভাল বল করছে, কিন্তু উইকেট পাচ্ছে না। কার্তিক ছন্দে রয়েছে, কিন্তু রান পাচ্ছে না। এ ধরনের কয়েকটি সমস্যা মিটে গেলেই দল আবার চেনা মেজাজে ফিরে আসবে।’’