শেষ পর্যন্ত চেন্নাই থেকে সরেই গেল আইপিএল ফাইনাল। আগামী ১২ মে ফাইনাল হবে হায়দরাবাদের উপ্পল স্টেডিয়ামে।

সোমবার এক বিবৃতিতে তা জানিয়ে দিয়েছে ভারতীয় বোর্ড। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে চিদম্বরম স্টেডিয়ামের বন্ধ হয়ে থাকা তিনটি স্ট্যান্ড খোলানোর কোনও ব্যবস্থাই করতে পারেনি তামিলনাড়ু ক্রিকেট সংস্থা। তাই বাধ্য হয়ে ফাইনাল ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সে ক্ষেত্রে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস ঘরের মাঠে আগামী ৭ মে কোয়ালিফায়ার্সে একটিই মাত্র ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে, যদি তারা প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকতে পারে। কিন্তু যদি তা না হয়, তা হলে এলিমিনেটর (৮ মে) এবং দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার্সে (১০ মে) খেলতে হয়, তা হলে ধোনিদের সেই দু’টি ম্যাচই খেলতে হবে বিশাখাপত্তনমে।

সোমবার কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের (সিওএ) প্রধান বিনোদ রাই বলেছেন, ‘‘চিদম্বরম স্টেডিয়ামে বন্ধ হয়ে থাকা তিনটি স্ট্যান্ড খোলার কোনও ব্যবস্থাই করতে পারেনি তামিলনাড়ু ক্রিকেট সংস্থা। ফলে চেন্নাই থেকে ফাইনাল সরিয়ে আনতে হচ্ছে হায়দরাবাদে।’’ প্রসঙ্গত ২০১২ সাল থেকে ওই তিনটি স্ট্যান্ড বন্ধই হয়ে রয়েছে। ফলে চেন্নাইয়ে কোনও ম্যাচ হলে ওই তিনটি স্ট্যান্ডকে বাদ দিয়ে টিকিট বিক্রি করা হয়। বোর্ডের দাবি, ওই তিনটি স্ট্যান্ড মিলিয়ে কমপক্ষে বারো হাজার টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। তাতে বোর্ডের কয়েক কোটি টাকার লোকসান হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তামিলনাড়ু ক্রিকেট সংস্থারও। ফলে বাধ্য হয়ে হায়দরাবাদে ফাইনাল নিয়ে আসা হয়েছে।

আর সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসছে বেশ কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন। টিকিট বিক্রি করাই যদি বোর্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তা হলে সিএসকে প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকলে তাদের কোয়ালিফায়ার্স ম্যাচ কেন চেন্নাইতেই হবে?  সে ক্ষেত্রেও তো ওই তিনটি স্ট্যান্ডের টিকিট দর্শকদের বিক্রি করা যাবে না। সেই আর্থিক ক্ষতিস্বীকার করতে বোর্ড কি ভাবে রাজি হচ্ছে? সিওএ প্রধান অবশ্য এই প্রশ্নে দিেয়ছেন অন্য ব্যাখ্যা। বিনোদ রাই বলেছেন, ‘‘আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, যে দল চ্যাম্পিয়ন হয়, তাদের রাজ্যেই প্রথম ম্যাচ এবং ফাইনাল হয়। গত বার আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে চেন্নাই সুপার কিংসের কোয়ালিফায়ার্স এবং ফাইনাল খেলার কথা নিেজদের মাঠেই। এখন সিএসকে যদি প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকে, তবে তাদের কাছ থেকে সমস্ত ম্যাচ কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয় আমাদের পক্ষে। ফলে নক-আউট পর্বে একটা ম্যাচ সিএসকে-কে ঘরের মাঠে খেলতে দিতেই হবে। সেই জায়গা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

ফাইনাল ম্যাচের কেন্দ্র হিসেবে হায়দরাবাদকে বেছে নেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন সিওএ প্রধান। আগামী ৬, ৮ এবং ১০ মে নির্বাচন রয়েছে হায়দরাবাদে। ফলে ১২ মে ফাইনাল আয়োজনে কোনও সমস্যা হবে না তাদের পক্ষে। ঠিক যে কারণে হায়দরাবাদে এলিমিনেটর এবং দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার্সের কোনও ম্যাচই রাখা হচ্ছে না। পাশাপাশি সোমবার ভারতীয় বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, মহিলাদের ত্রিদলীয় আইপিএল শুরু হবে ৬ মে থেকে। চলবে ১০ মে পর্যন্ত। সমস্ত ম্যাচ হবে জয়পুরে।