ম্যাচের আগের দিন একটি বিষয়ে সব চেয়ে বেশি উদ্বেগ ছিল কেকেআর শিবিরে। বিপক্ষ অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ক্রিকেটীয় বুদ্ধির বিরুদ্ধে কী ভাবে লড়বেন? যে কোনও মুহূর্তে অঙ্ক পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়কের। রবিবার কেকেআরের বিরুদ্ধে যা আরও এক বার করে দেখালেন ধোনি।

‘মাহি’র বুদ্ধিতেই আন্দ্রে রাসেলকে ফিরিয়ে ম্যাচের নায়ক ইমরান তাহির। চার ওভারে ২৭ রান দিয়ে তুলে নিলেন চার উইকেট।

ম্যাচ শেষে তাহির জানিয়ে দিলেন, ধোনির পরামর্শেই রাসেলকে ফিরিয়ে দিতে সফল হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার লেগস্পিনার। ইডেনে ব্যাটিং সহায়ক পিচ হলেও হাওয়ায় বল ভাসাতে একেবারে দ্বিধাবোধ করেননি তাহির।

আরও পড়ুন: একের পর এক জয়ের পর টানা তিন ম্যাচে হার, কোথায় ভুল হচ্ছে নাইটদের?​

রাসেল তাঁকে একটি চার ও একটি ছয় মারার পরেও একই জায়গায় বল করে গিয়েছেন। ভয়ডরহীন ক্রিকেটের ফলও পেয়ে গেলেন তাহির। 

সাংবাদিক বৈঠকে এসে অভিজ্ঞ লেগস্পিনার বলেন, ‘‘ধোনির পরামর্শেই বল করেছি। ও কিংবদন্তি। চলতি মরসুমে একের পর এক ম্যাচে আমাকে সাহায্য করে চলেছে। আশা করি, আগামী ম্যাচগুলোতেও একই ভাবে আমার পাশে থাকবে।’’ 

রাসেলের বিরুদ্ধে কী পরিকল্পনা নিয়ে বল করতে এসেছিলেন তাহির? তাঁর উত্তর, ‘‘রাসেল ব্যাট করার সময় ধোনি বলেছিল, গতি কমিয়ে বল করতে। কিন্তু এ ধরনের পিচে ফ্লাইট দিলে রান বেরিয়ে যেতে পারে। সেটাই হতে শুরু করেছিল। একটি চার ও ছয় মেরে দিয়েছিল রাসেল। কিন্তু আমি ভয় পাইনি। কারণ, রাসেলকে আক্রমণ করার পরামর্শ দিয়েছিল ধোনি। সেটা করেই সফল হয়েছি।’’ আট ম্যাচে সাতটিতে জিতে সিএসকে প্লে-অফে ওঠার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল। 

এর আগেও অনেক বার ধোনির পরামর্শে সফল হয়েছেন তাহির। বলছিলেন, ‘‘আমি যেটা ভাবি না, ও সেটা ভাবতে পারে। আমাকে এসে বলে দেয় কোন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত। ও বুঝতে পারে কাকে কোন বলে পরাস্ত করা যায়। ধোনির সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত।’’

চেন্নাইয়ের এম এ চিদম্বরম স্টেডিয়ামেও কেকেআরের বিরুদ্ধে দুই উইকেট পেয়েছিলেন। কলকাতার বিরুদ্ধে এ বার নিলেন চার উইকেট। সাফল্যের কারণ কী? তাহির বলছিলেন, ‘‘চেন্নাইয়ে ওদের বিরুদ্ধে খেলার পরে আন্দাজ হয়ে গিয়েছিল কে কী করতে পারে। তাই ইডেনে কাজটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার ফল পেয়েছি আমরা।’’

সামনেই বিশ্বকাপ। যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ ভারতের। ক্রিকেটের বিশ্বযুদ্ধে নামার আগে সব চেয়ে ভাল প্রস্তুতি কি আইপিএল? তাহিরের উত্তর, ‘‘অবশ্যই। এর চেয়ে ভাল প্রস্তুতি আর কীই বা হতে পারে। এত বড় ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলার সুযোগ আর কোথাও পাওয়া যাবে না। নেটে বল করার চেয়ে এটা অনেক ভাল প্রস্তুতির জায়গা।’’

তবে বিশ্বকাপের পরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন তাহির। তার পরে তরুণ ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বলছিলেন, ‘‘বিশ্বকাপের পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর খেলার ইচ্ছে নেই। এ বার প্রশিক্ষণ দিতে চাই। এত দিন যা শিখে এসেছি সেটাই খুদে ক্রিকেটারদের শেখানোর ইচ্ছে রয়েছে।’’

উইকেট নেওয়ার পরে তাঁর অদ্ভুত উৎসবে মেতে উঠেছিল ইডেনও। এ ধরনের উৎসবের বিশেষ কোনও কারণ রয়েছে? তাহিরের উত্তর, ‘‘এর আগে অনেক বার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। সত্যি কথা বলতে, উইকেট পেয়ে বুঝতে পারি না কী করব। উইকেট পাওয়ার আনন্দ কতটা হতে পারে সেটাই 

বোঝাতে চাই।’’