সব কিছু যদি চিত্রনাট্য মেনেই হয়, তা হলে আর সেটা কীসের আইপিএল? 

বছরের পর বছর এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে জড়িয়ে থেকে একটা জিনিস বুঝতে পেরেছি। দলগত শক্তি আর তারকা খেলোয়াড় মানেই যে সাফল্য নিশ্চিত, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। এই কিংস ইলেভেন পঞ্জাবকেই ধরুন না। ওদের মিডল অর্ডার ব্যাটিং মোটেই শক্তিশালী নয়। বোলিং আক্রমণ থেকে আর অশ্বিনকে সরিয়ে নিন। তা হলে সেটাও দুর্বল হয়ে যাবে। 

পঞ্জাব অতিরিক্ত নির্ভর করে আছে কে এল রাহুল, ক্রিস গেলের ওপর। ওদের দলগত শক্তি আদৌ আহামরি নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজেদের ক্ষমতার চেয়ে বেশিই দাপট দেখিয়ে চলেছে পঞ্জাব। আমি যদি পঞ্জাবের অধিনায়ক হতাম, তা হলে ন’টা ম্যাচের মধ্যে পাঁচ জয় পেয়ে খুশিই হতাম। মায়াঙ্ক আগরওয়াল, ডেভিড মিলার ছন্দে ফেরার একটা ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু ওদের ধারাবাহিক ভাবে রান করে যেতে হবে।

অশ্বিন নিশ্চয়ই চাইবে শেষ পাঁচটা ম্যাচের মধ্যে অন্তত তিনটেতে জিতে প্লে-অফে ওঠা নিশ্চিত করতে। আরসিবির কাছে পঞ্জাবের হারটা শুধু পয়েন্ট টেবিলেই ওদের ধাক্কা দেয়নি, আত্মবিশ্বাসেও ঘা দিয়েছে। এ রকম জায়গা থেকেই গত বার ওরা খেই হারিয়ে ফেলেছিল। এ বার নিশ্চয়ই অশ্বিনরা সেই ভুলটা করতে চাইবে না। 

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের এখন আর হারানোর কিছু নেই। ওরা বরং কয়েকটা দলের স্বপ্ন নষ্ট করে দিতে পারে। কাগজে-কলমে আরসিবি কিন্তু বেশ শক্তিশালী। ওদের মধ্যে আমাকে সব চেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে তরুণ পেসার নবদীপ সাইনি। চিন্নাস্বামীর মতো ছোট মাঠ, পাওয়ার প্লে-তে বল করার চ্যালেঞ্জ, এ সব কিছু সত্ত্বেও ইকনমি রেট আটের নীচে রেখে যেতে পেরেছে সাইনি। গতির সঙ্গে বাউন্স পাচ্ছে কোনও ফাস্ট বোলার, এটা কিন্তু দারুণ একটা দৃশ্য।

সাইনিকে যে ভারতের বিশ্বকাপ দলের স্ট্যান্ড বাই হিসেবে রাখা হয়েছে, তাতে আমি খুশি হয়েছি। তবে আমি চাই, সাদা বলের নির্মম ক্রিকেটে ওকে নামানোর আগে যেন টেস্ট খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়। 

আগে সাদা বলের ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার পরে টেস্টে এসে দাপট দেখিয়েছে, এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নেই। ডেভিড ওয়ার্নারের নামটা চট করে মনে পড়ে যেতে পারে। এটা ভুললে চলবে না, ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাট সম্পূর্ণ অন্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে বোলারদের জন্য। (টিসিএম)