রবিবার উপ্পলে আইপিএল ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে শেষ ওভারে লাসিথ মালিঙ্গার হাতে বল তুলে দেওয়ার সময় তাঁর স্মৃতিতে ভেসে উঠেছিল মিচেল জনসনের মুখ।

চারবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স রোহিত শর্মা ম্যাচের পরে শুনিয়েছেন সেই কাহিনি। ২০১৭ সালে মহেন্দ্র সিংহ ধোনিদের রাইজিং পুণে সুপারজায়ান্ট দলের বিরুদ্ধে ফাইনালে একই পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বার করে নিয়েছিলেন তিনি। এবং সেই মধুর জয় এনে দিয়েছিলেন প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় বাঁ হাতি পেসার মিচেল জনসন। শেষ ওভারে পুণের সামনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১ রানের। জনসন এক রানে এনে দেন জয়। যে ছবি রবিবার আবারও ফিরে আসে উপ্পল স্টেডিয়ামে।

সেই প্রসঙ্গ টেনে রোহিত বলেছেন, ‘‘আমার এখনও মনে আছে, ২০১৭ সালের ফাইনালে পুণের সামনে শেষ ওভারে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ রানের। জনসন ১০ রান দিয়েছিল। এক রানে জিতেছিলাম আমরা।’’ সেখানেই না থেমে রোহিত আরও বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয়েছিল, শেষ ওভারে এমন একজনের হাতে বল তুলে দেওয়া দরকার যে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বার করে আনতে পারে। সেখানে লাসিথ মালিঙ্গাই ছিল আমাদের দলের সেরা অস্ত্র।’’ শ্রীলঙ্কা পেসারের প্রশংসা করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক যোগ করেন, ‘‘মালিঙ্গা এর আগে বহুবার এই পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়েছে। ফলে ওকে দিয়েই শেষ ওভারে বোলিং করাব, সেই সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলি। দ্বিতীয় বার সেটা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন অনুভব করিনি। ও কিন্তু আমাদের ট্রফি উপহার দিল।’’ 

তারই সঙ্গে রোহিত আরও জানিয়েছেন, মুম্বই দলে এক সঙ্গে খেলার কারণে তিনি খুব ভাল জানতেন শার্দূল ঠাকুরের মানসিকতা। তাঁর কথায়, ‘‘শার্দূলের মানসিকতা আমার অজানা ছিল না। ও যে শেষ বলে বড় শট নিতে চাইবে, তা মাথায় রেখেই মালিঙ্গাকে পরামর্শ দিয়েছিলাম স্লোয়ার ডেলিভারি করার জন্য। এমনও হতে পারত যে, শার্দূল বড় শট নিয়ে নিল। কিন্তু সেটা তো ক্রিকেটের অঙ্গ। আমাকে ঝুঁকি নিতেই হত। তা কাজে লেগে গিয়েছে।’’ যোগ করেছেন, ‘‘জনসনের মতো মালিঙ্গাও খুব অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সত্যি বলতে, টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটের ক্রিকেটে মালিঙ্গার মতো কার্যকরী এবং বিপজ্জনক বোলার খুব কম রয়েছে। ফলে আমি বাকি ব্যাপারগুলো নিয়ে মাথাই ঘামাইনি।’’

চলতি মাসের শেষে শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ। তার আগে এই আইপিএল থেকে তিনি কী শিক্ষা নিলেন? রোহিত বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতার আগে নিজেকে যাচাই করে নেওয়ার সেরা জায়গা আইপিএল। হার্দিক, বুমরার মতো ক্রিকেটারেরা দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। আমি মনে করি, তার সুফল বিশ্বকাপে অবশ্যই ভারতীয় দল পাবে।’’ আরও বলেছেন, ‘‘যে কোনও প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়ে যায়। সেটা বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় দারুণ কাজ দেবে।’’ পাশাপাশি দলের প্রশংসা করে রোহিত আরও বলেছেন, ‘‘প্রত্যেকটি মরসুমই নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়াতে হয়। ক্রিকেটারেরা ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ট্রফি জিতেছে।’’

রোহিত জানিয়েছেন, মেয়ে সামাইরার জন্য এ বারের আইপিএল জয় আরও বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আইপিএলের ওয়েবসাইটে স্ত্রী রিতিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিত বলেছেন, ‘‘মেয়ে প্রায় সমস্ত ম্যাচেই মাঠে উপস্থিত ছিল। ওকে লাকি-চার্ম বলতে কোনও দ্বিধা নেই। সামাইরার প্রথম আইপিএলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন। বাবা হিসেবে সেটা আমার সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি।’’