Advertisement
২৫ এপ্রিল ২০২৪

কী কাণ্ড ঘটিয়েছেন, বোঝেননি নায়ক

কারেনের পরিসংখ্যান ২.২-০-১১-৪। ম্যাচ শেষে জানিয়ে দিলেন, তিনি জানতেনই না হ্যাটট্রিক করে মাঠ ছাড়ছেন।

হ্যাটট্রিকের পরে কারেনের উচ্ছ্বাস।

হ্যাটট্রিকের পরে কারেনের উচ্ছ্বাস।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৯ ০৫:৩০
Share: Save:

ইংল্যান্ডে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন স্যাম কারেন। তাঁর সুইং সামলাতে নাজেহাল অবস্থা হয় ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। সেখান থেকেই আইপিএলে সুযোগ। ৭.২ কোটি টাকা দিয়ে তাঁকে কেনে কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। ক্রিস গেলের চোট থাকায় এ দিন খেলানো হয় ইংল্যান্ডের তরুণ অলরাউন্ডারকে। কেন তাঁকে চড়া দামে নেওয়া হয়েছে তা মরসুমের প্রথম হ্যাটট্রিক করে প্রমাণ করে দিলেন স্যাম।

কারেনের পরিসংখ্যান ২.২-০-১১-৪। ম্যাচ শেষে জানিয়ে দিলেন, তিনি জানতেনই না হ্যাটট্রিক করে মাঠ ছাড়ছেন। ম্যাচ শেষে স্যাম বলেন, ‘‘দর্শকদের চিৎকারে কিছু শুনতেই পাইনি। এমনকি আমি নিজেই বুঝতে পারিনি যে হ্যাটট্রিক করেছি। শেষে অ্যাশ (অশ্বিন) এসে আমাকে জানায়। অসাধারণ অনুভূতি হচ্ছে।’’

গেলের পরিবর্তে এ দিনই ওপেন করতে পাঠানো হয় ইংল্যান্ড অলরাউন্ডারকে। এর আগে শুধুমাত্র স্কুল ক্রিকেটে ওপেন করেছিলেন কারেন। পেশাদারী ক্রিকেটে কখনও ওপেন করার অভিজ্ঞতা হয়নি। এ দিন ১০ বলে ২০ রান করেন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান। কারেন বলছিলেন, ‘‘সবার মন জিততে এসেছি। তাই যা করতে বলা হয়েছে করেছি। পেশাদারী ক্রিকেটে এই প্রথম ওপেন করার অভিজ্ঞতা হল। কিন্তু আমাদের বোলারদের ধন্যবাদ দিতেই হবে। বিশেষ করে শামি যে ভাবে বল করেছে, তা অসাধারণ।’’

এ বারই প্রথম আইপিএল মরসুম স্যামের। গত বছর কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলে গিয়েছেন তাঁর দাদা টম কারেন। ভাইয়ের হ্যাটট্রিক দেখে টুইটারে টম লেখেন, ‘‘হা...হা...হা..., পাগলের মতো অনুভূতি হচ্ছে। সত্যি খুব গর্বিত। অপূর্ব ম্যাচ উপহার দিয়ে গেল।’’

স্যাম কারেনের হ্যাটট্রিক দেখে উচ্ছ্বসিত কেভিন পিটারসেন বলেন, ‘‘শুরু থেকেই জানতাম ও কতটা প্রতিভাবান। টেস্ট সিরিজে তা প্রমাণ করেছে। এ বার টি-টোয়েন্টিতেও করে দেখাল।’’ কারেনের প্রশংসা করলেও তিনি ক্ষুব্ধ ঋষভ পন্থের ব্যাটিংয়ে। পিটারসেন বলছিলেন, ‘‘ভাল ক্রিকেটার ও কিংবদন্তির মধ্যে এটাই পার্থক্য। গত ম্যাচে ধোনির ইনিংস দেখে ঋষভের শেখা উচিত ছিল। কী ভাবে ম্যাচ গভীরে নিয়ে গিয়ে সহজ করে তোলা যায়। আজ সিঙ্গলস খেলেই ম্যাচ বার করে দিতে পারত। সেখানে দায়িত্বহীন ক্রিকেটারের মতো উইকেট ছুড়ে দিয়ে এল।’’

কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের বোলিং কোচ রায়ান হ্যারিসও তরুণ বোলারের প্রশংসা করে গেলেন। হ্যারিস বললেন, ‘‘২০-৩০ রান কম ছিল। জানতাম পন্থ ও ইনগ্রামের উইকেট তুলতে পারলেই আমরা জয়ের কাছাকাছি চলে যাব। কিন্তু কারেন যে এ ভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেবে তা বুঝিনি। শামিও একই রকম ক্ষিপ্রতার সঙ্গে বল করে গিয়েছে।’’

অশ্বিন অবশ্য জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রাখার জন্যই জেতা সম্ভব হয়েছে তাঁর দলের। অশ্বিন বলে গেলেন, ‘‘আমরা হাল ছাড়িনি। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গিয়েছি।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE