ম্যাচ জিতিয়ে তিনি যখন মাঠ ছাড়ছেন, দৌড়ে এলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। কোলে তুলে নিলেন ম্যাচের নায়ক ঋষভ পন্থকে। অভিজ্ঞতাটা কী রকম ছিল? 

সোমবার রাতে রাজস্থান রয়্যালসকে হারানোর পরে ঋষভের সাক্ষাৎকার নেন দিল্লি ক্যাপিটালসে তাঁর সতীর্থ পৃথ্বী শ। আইপিএল ওয়েবসাইটে পোস্ট করা সেই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে পৃথ্বী প্রশ্ন করছেন, ‘‘ম্যাচ শেষ করে বেরিয়ে আসার সময় সবাই তোমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছিল। সৌরভ স্যর তো তোমায় কোলে তুলে নিল। কী রকম লাগছিল?’’ ঋষভ যে প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘ম্যাচ শেষ করে আসার পরে সবার ভালবাসা পেয়ে আমি অভিভূত। সৌরভ স্যর কোলে তুলে নিল, এটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। একটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা।’’ 

ঋষভকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত সৌরভ বলেছেন, ‘‘তোমার এটা প্রাপ্য ঋষভ, তুমি দুর্দান্ত।’’ ঋষভে মুগ্ধ সচিন তেন্ডুলকর থেকে বীরেন্দ্র সহবাগও। তরুণ এই ব্যাটসম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তিরা। 

ঋষভকে নিয়ে বলা হচ্ছিল, প্রচুর প্রতিভা থাকলেও ম্যাচ শেষ করে আসতে পারছেন না। সোমবার ৩৬ বলে অপরাজিত ৭৮ রান করে দিল্লিকে জেতান এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান। রাজস্থানের ১৯১-৬ স্কোর চার বল বাকি থাকতে চার উইকেট হারিয়ে টপকে যায় দিল্লি। যার পরে ঋষভকে দেখিয়ে পৃথ্বী বলেন, ‘‘আমার পাশে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা ফিনিশার দাঁড়িয়ে আছে, যে ম্যাচটা শেষ করে এল।’’ পাশে দাঁড়ানো ঋষভ বলে ওঠেন, ‘‘আমরা অনেক দিন থেকে এই আলোচনাটাই করছিলাম যে, বড় ম্যাচ শেষ করে আসতে হবে। এ দিন সেটাই হল। তুমি (পৃথ্বী) মাঠে থাকায় আমি আরও আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, ম্যাচটা জিতে যাব।’’

এর পরে ঋষভ পাল্টা প্রশ্ন করেন পৃথ্বীকে। বলেন, ‘‘তুমি একটা ফুলটস বল ফস্কানোর পরে সেটা উইকেটে লেগেছিল, কিন্তু বেল পড়েনি! কী বলবে এটাকে?’’ পৃথ্বী জবাব দেন, ‘‘প্রথম এ রকম অভিজ্ঞতা হল। আমি বুঝতেই পারিনি বলটা স্টাম্পে লেগেছে। কেউ এক জন, বোধ হয় তুমি এসে বললে বেলের আলোটা জ্বলে উঠেছিল। তবে অন্য দিক থেকে দেখলে আমার ভাগ্যটাও একটু খারাপ ছিল। ফুলটস বলটা ব্যাটে লাগলে থার্ডম্যান দিয়ে বাউন্ডারি হয়ে যেত।’’

দলের কোচ রিকি পন্টিং এবং উপদেষ্টা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ দিচ্ছেন পৃথ্বী। ম্যাচের পরে সাংবাদিক বৈঠকে এসে পৃথ্বী বলেন, ‘‘সৌরভ স্যর, রিকি স্যর, কাইফ (মহম্মদ) স্যর থাকায় আমাদের দলের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষাই বদলে গিয়েছে। আমাদের দলে বেশ কয়েক জন তরুণ ক্রিকেটার আছে। যেমন আমি, সন্দীপ (লামিচানে) মনজোৎ (কালরা)। কিন্তু আমাদের আলাদা করে রাখা হয় না। সিনিয়রদের সঙ্গে একই গ্রুপে রাখা হয়।’’

এর পরে সৌরভের কথাও আলাদা করে বলেন পৃথ্বী, ‘‘প্র্যাক্টিস না থাকলে সৌরভ স্যর তো আমাদের সঙ্গে গল্পগুজবও করে। আমরা এক সঙ্গে নৈশভোজেও যাই। আমাদের মধ্যে একাত্ম বোধটা খুব বেশি।’’ 

রাজস্থানের বিরুদ্ধে পৃথ্বীর ব্যাটে আসে ৩৯ বলে ৪২। নিজের ইনিংস নিয়ে এই তরুণ ওপেনার বলেছেন, ‘‘আমি মোটেই মন্থর ইনিংস খেলিনি। এক জন যখন পাওয়ার প্লে-তে অত ভাল খেলছে, তখন আমি কেন প্রথম বল থেকে মারতে যাব? আমাকে এই ধরনের ইনিংস খেলার জন্যও মানসিক ভাবে তৈরি থাকতে হবে।’’ 

পৃথ্বী আরও বলেন, ‘‘আমার লক্ষ্যই ছিল যত বেশি সম্ভব ওভার খেলা। ধওয়ন আর শ্রেয়স (আইয়ার) তাড়াতাড়ি ফিরে যায়। তবে উল্টো দিকে পন্থ থাকায় আমার বিশ্বাস ছিল, ম্যাচ জিততে পারব। কোনও সন্দেহ নেই, পন্থ এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা ফিনিশার। আমিও পরের দিকে চালিয়ে খেলতে থাকি।’’