বুধবার বিকেল চারটে। ইডেনে পা দিয়েই ক্রিস লিনরা নেটে ঢোকার আগে দল বেঁধে কোচ জাক কালিসকে নিয়ে চলে গেলেন পিচের কাছে। খানিকটা দূর থেকে পিচে চোখ বুলিয়ে দেখলেন ইডেনের বাইশ গজে সবুজের আভা। তার পরে ক্রিস লিন, সুনীল নারাইনরা মন দিলেন অনুশীলনে।

এরই মাঝে পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে ইডেনের ২২ গজের আশেপাশে ঘুরে এসেছেন সিএবি প্রেসিডেন্ট তথা দিল্লি ক্যাপিটালসের উপদেষ্টা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সামনে পীযূষ চাওলাকে দেখে তাঁর হাত থেকে ব্যাটটি নিয়ে দু’এক বার শ্যাডো করে নিলেন। তার পর হাঁটা দিলেন ক্লাবহাউসের দিকে। চাওলা তখনও এক মনে চেয়ে ইডেনের প্রায় সবুজ পিচের দিকে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ঠারেঠোরে একপ্রস্ত অসন্তোষ ব্যক্ত করেছে শাহরুখ খানের দল। বৃহস্পতিবার মরণ-বাঁচন ম্যাচে স্টিভ স্মিথের রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ফের প্লে-অফে যাওয়ার লড়াইয়ের আগে নানা অভ্যন্তরীণ সমস্যার সঙ্গে ইডেনের সবুজ পিচও কড়া প্রশ্নপত্র হয়ে দেখা দিতে পারে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে।

যদিও সূত্রের খবর, আগের ম্যাচগুলোর মতোই নাকি এ বারও পিচে গতি ও বাউন্স  রয়েছে। ফলে বল পড়ে ব্যাটে আসবে। যা স্ট্রোক প্লেয়ারদের আদর্শ উইকেট। যেখানে বড় রানের সম্ভাবনা রয়েছে। কেকেআর অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক-সহ প্রথম একাদশের যে পাঁচজন ক্রিকেটার মুম্বইয়ে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কুলদীপ যাদব এ দিন মাঠে ছিলেন। তা হলে দীনেশ কার্তিক-সহ বাকিরা কোথায়? 

জানতে চাইলে নাইট শিবির জানাচ্ছে, বুধবার রাতের মধ্যেই নাকি শহরে ঢুকে পড়বেন তাঁরা। যদি সেই দাবি সত্যি হয়, ম্যাচের আগের রাতে অধিনায়কের দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া নজিরবিহীন। সবুজ আভাযুক্ত পিচ। তার উপর প্রায় তিন সপ্তাহের কাছাকাছি সময় জয় নেই নাইট শিবিরে। 

গত কয়েক ম্যাচ ধরেই কেকেআর বোলিং ঠিক হচ্ছে না। যে প্রশ্নে সাংবাদিক সম্মেলনে আসা কার্লোস ব্রাথওয়েট বলছেন, ‘‘এ ভাবে বোলারদের কাঠগড়ায় তোলা যায় না। ব্যাটেও কিন্তু আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক কিছুই করতে পারিনি।’’ জোরালো প্রশ্ন উঠছে রাসেলকে ব্যাটিং অর্ডারে শেষের দিকে রাখা নিয়েও। যে প্রসঙ্গে কেকেআরের তারকা অলরাউন্ডারের কৌশলী উত্তর, ‘‘যে কোনও পরিস্থিতিতে মাঠে নেমে তা আমাদের অনুকূলে আনাই রাসেলের কাজ। এ বার ওকে কী ভাবে দলের কাজে লাগানো হবে, তা তো ঠিক করবেন কোচ ও অধিনায়ক।’’ 

১০ ম্যাচে নাইটদের পয়েন্ট ৮। অন্য দিকে, রাজস্থান রয়্যালসের পয়েন্ট দরকার টানা চার ম্যাচে জয় দরকার নাইটদের। যা অসম্ভব নয় বলে দাবি করলেন এ দিন কেকেআরের হয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে আসা ব্রাথওয়েট। তাঁর মন্তব্য, ‘‘টানা পাঁচ ম্যাচ হারলেও আমরা আতঙ্কে নেই। দলের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা সবই সমান তালে চলছে।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘টানা হার নিয়ে ভেবে দলে চাপ বাড়াতে চাই না। সামনের চার ম্যাচে জয় চাই প্লে-অফের জন্য। হায়দরাবাদ ম্যাচের পরে বিশ্রাম পেয়েছে দল। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তৈরি আমরা।’’ দল যে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে, তা বোঝাতে অনুশীলনের পরে ইডেনে হাজির খুদে সমর্থকদের নিজস্বী ও অটোগ্রাফের আবদারও মেটালেন নারাইন, ব্রাথওয়েটরা।

বিপক্ষ রাজস্থানের হয়ে এ দিন নেটে মেজাজে ব্যাট করলেন অজিঙ্ক রাহানে, বেন স্টোকসরা। ছন্দে থাকা অধিনায়ক স্টিভ স্মিথও ব্যাটিং অনুশীলন করালেন দীর্ঘক্ষণ। তবে এ দিন নেটে জয়দেব উনাদকাটকে বল না করিয়ে জোফ্রা আর্চার, ওশান থোমাসের সঙ্গে বরুণ অ্যারনকেও বল করিয়ে দেখে নেওয়া হল। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে স্টুয়ার্ট বিনি বলে গেলেন, ‘‘বেশ কয়েকটি ম্যাচ হেরে ছন্দ নষ্ট হয়েছে। তবে কলকাতাকে হারানোর জন্য তৈরি আমরা।’’