• সুচরিতা সেন চৌধুরী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুণের কাছে গুনে গুনে ৪ গোল খেল এটিকে

ATK vs Pune

এটিকে ১ (বিপিন)
পুণে ৪ (মার্সেলো-২, রোহিত, আলফারো)

প্রথমার্ধের ত্রুটিগুলো ছাপিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল দ্বিতীয়ার্ধে, কিন্তু, হল না।

বরং প্রথমার্ধে এক গোল হজম করার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন গোল নিয়েই জামশেদপুরের উদ্দেশে রওনা দেবে এটিকে। জঘন্য ফুটবল, সৌজন্যে ছন্নছাড়া পরিকল্পনা। পুণে রক্ষণকে এক বার ছাড়া পরীক্ষার মুখেই পড়তে হল না। যত বার পুণে আক্রমণে উঠল, কেঁপে গেল এটিকে ডিফেন্স। ম্যাচ শেষ হল ৪-১ গোলে। বলার অপেক্ষা রাখে না, অবশ্যই কলকাতার বিপক্ষে।

গতবারের সর্বোচ্চ স্কোরার মার্সেলোর কাছে হার মানতে হল শেরিংহ্যামের ছেলেদের। গত বছর ১০ গোলের সঙ্গে ছিল পাঁচটি অ্যাসিস্ট। এই ম্যাচে সেই মার্সেলোর পা থেকেই এল জোড়া গোল, সঙ্গে দুটো অ্যাসিস্ট। এখনও তো পুরো আইএসএল পড়ে রয়েছে।  

আরও পড়ুন
আইএসএল-এর উত্তাপ এখনও লাগেনি কলকাতায়

কলকাতার মাঠে মরসুমের প্রথম আইএসএল ম্যাচে মন ভরল না সমর্থকদের। তেমনই মন ভরল না ফুটবলেরও। প্রথমার্ধের শুরুতেই গোল এল ঠিকই, কিন্তু কোনও দলই তেমন ভাবে একে অপরকে লড়াই দিতে পারল না। বরং দেখা গেল দু’পক্ষেরই মিস পাসের ছড়াছড়ি। পুণের পাস কখনও গেল এটিকে প্লেয়ারের কাছে। কখনও আবার এটিকের পা থেকে বল নিয়ে দৌড় লাগাল পুণের প্লেয়ার। তার মধ্যেই পুণে সিটি এফসি এগিয়ে গেল। ১৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন পুণের আলফেরো। তাঁকে লক্ষ্য করে তত ক্ষণে ডান প্রান্ত ধরে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন মার্সেলো। যখন বল পায়ে আলফেরোকে আটকাতে ব্যস্ত এটিকে ডিফেন্স, ছোট্ট টোকায় মার্সেলোকে বল পাঠিয়ে দিলেন আলফেরো। এটিকে রক্ষণ মার্সেলোর কাছে পৌছনোর আগেই নিখুঁত ফিনিশ। দেবজিতের কিছু করার ছিল না।

প্রথর্মার্ধেই সমতায় ফিরতে পারত এটিকে। কিন্তু হল না। ২৭ মিনিটে ডস স্যান্টোসের লং শট কোনও রকমে বাঁচিয়ে দেন পুণে গোলকিপার। ফিরতি বল পেয়ে গিয়েছিলেন হিতেশ শর্মা। গোলকিপারকে একা পেয়েও বল দখলে রাখতে না পারার জন্য গোল করতে ব্যর্থ এটিকে। প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল ১-০ গোলেই। দ্বিতীয়ার্ধে গুছিয়ে নামার কথা ছিল ঘরের মাঠে। কিন্তু, হল উল্টোটাই। এক গোল করে আরও দু’গোল হজম করে বসল শেরিংহ্যামের ছেলেরা।

দেখুন এটিকের গোলের ভিডিও

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরল কলকাতা। ম্যাচের বয়স তখন সবে ৫০ মিনিট। বক্স থেকে বেশ খানিকটা বাইরে ফ্রি-কিক পেয়ে গিয়েছিল এটিকে। সেখান থেকে গোল করতে না পারলে বিশেষ অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কিন্তু, সবাইকে চমকে বিপিন সিংহের ফ্রি-কিক ক্রসপিসে ধাক্কা খেয়ে চলে গেল গোলে। এই গোলের পর মনে হয়েছিল, ঘরের মাঠে এ বার জাঁকিয়ে বসবে কলকাতা। কিন্তু হল উল্টোটাই।

সমতায় ফেরার এক মিনিটও কাটল না, আবারও গোল হজম করে বসল কলকাতার রক্ষণ। এ ক্ষেত্রে অবশ্য এটিকে গোলকিপার দেবজিতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। ৫১ মিনিটে যে ভাবে মার্সেলোর কর্নার থেকে রোহিত গোল ফসকালেন দেবজিৎ তাতে নিজেই আত্মবিশ্বাসটা হারিয়ে বসলেন। যার ফল আবার ৬০ মিনিটে গোল হজম। দিয়েগোর একটা মাইনাস থেকে কলকাতা বক্সে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হল। প্রবীর দাস ব্যাক হেড করে আধা ক্লিয়ার করলে সেই বল পেয়ে যান মার্সেলো। বক্সের বাঁ দিক থেকে মার্সেলোর শট এটিকে ডিফেন্ডার মন্তেলের পায়ে লেগে চলে যায় গোলে। যদিও গোলমুখী শট হওয়ায় গোল দেওয়া হয় মার্সলোর নামেই।

৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে খেলা থেকেই হারিয়ে যায় এটিকে। শেষ পর্যন্ত ড্রয়ের পর বড় ব্যবধানে হেরে যেতে হল এটিকেকে। ৮০ মিনিটে এটিকে রক্ষণকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল পুণের স্ট্রাইকাররা। প্রথম গোলের যেন অ্যাকশন রিপ্লে হল চতুর্থ গোলেও। সে বার আলফারোর পাস থেকে গোল করেছিলেন মার্সেলো আর এ বার মার্সেলোর পাস থেকে গোল করে গেলেন আলফারো। এখান থেকে আর ফেরার কোনও রাস্তা ছিল না। এই প্রথম শুরুতেই এ ভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল কলকাতা। ৪ গোল হজম করার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁকা গ্যালারি পুরো ফাঁকা হয়ে গেল মুহূর্তেই। সরকারি মতে, দর্শক ছিল ৩২ হাজারের কিছু বেশি। যা দিয়ে পুরো মিডল টিয়ারই ভরল না।

এমনিতেই আইএসএল থেকে মুখ ফিরিয়েছে ফুটবলপ্রেমীরা। এই হারের পর সেটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তা সময়ই বলবে।   

এটিকে: দেবজিৎ মজুমদার, থমাস জোসেফ থর্প, জোর্দি ফিগুয়েরা মন্তেল, কেগান পেরেরা, প্রবীর দাস, কোনর থমাস, ইউজিনসন লিংদো, হিতেশ শর্মা (রবিন সিংহ), ডস স্যান্টোস (রুপার্ট ননগ্রুম), নাজি কুই, বিপিন সিংহ (রোনাল্ড সিংহ)।

 পুণে সিটি এফসি: কমলজিৎ সিংহ, গুরতেজ সিংহ, রাফায়েল গোমেজ, ফানাই, মার্কোস রামিরো, রোহিত কুমার (কিন লুইস), কার্লোস অলিভিয়েরা (জোনাথন লুকা), ইসাক, আলফারো (দামির), মার্সেলো, বলজিৎ সাইনি।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন