সদ্যোজাত কন্যা হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি। তার বিছানার পাশে সারা রাত জেগে বাবা। সকালের দিকে ঘণ্টা দুয়েকের ঘুম। তার পরে সোজা ক্রিকেট মাঠে। যেখানে ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জেতানো।

পুরোটাই কোনও সিনেমার কাহিনি হতে পারত। কিন্তু এটা কোনও গল্প নয়। এই ঘটনার নায়ক ইংল্যান্ডের ওপেনার জেসন রয়। যাঁর দুরন্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে নটিংহ্যামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩৪০ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। ৮৯ বলে ১১৪ করেন জেসন। পাকিস্তানের তিন পেসার জুনেইদ খান, হাসান আলি, মহম্মদ হাসনাইন এবং বাঁ হাতি স্পিনার ইমদ ওয়াসিম বিন্দুমাত্র চাপে ফেলতে পারেননি জেসনকে।  চলতি পাঁচ ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে শুক্রবার চতুর্থ ম্যাচ জিতে ৩-০ ফলে সিরিজ পকেটে পুরে ফেলল ইংল্যান্ড। 

ম্যাচের আগে তাঁকে কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, তা বলেছেন জেসন। ‘‘রাত দেড়টায় আমার মেয়ে এভার্লিকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হয়েছিল। ও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। যে কারণে এই সেঞ্চুরিটা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’’ জেসনের মেয়ের বয়স সাত সপ্তাহ। ইংল্যান্ডের ওপেনার বলেছেন, ‘‘আমি সারা রাত হাসপাতালে ছিলাম। সকালে সাড়ে আটটা নাগাদ বাড়ি ফিরে আসি। ঘণ্টা দুয়েক ঘুমোনোর সুযোগ পেয়েছিলাম। ওয়ার্ম আপ শুরু হওয়ার ঠিক আগে মাঠে পৌঁছতে পারি।’’

বিশ্বকাপের ঠিক আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে সেঞ্চুরি করে জেসন বুঝিয়ে দিয়েছেন, কী রকম বিধ্বংসী ফর্মে আছেন তিনি। যে পরিস্থিতিতে জেসন সেঞ্চুরি করেছেন, তা প্রশংসিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাশাপাশি অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটারই উচ্ছ্বসিত জেসনের খেলার ভঙ্গি দেখে। মাইকেল ভন যেমন টুইট করেছেন, ‘‘যে ভাবে ব্যাকফুটে অফস্পিনারকে কভারের ওপর দিয়ে ছয় মারল জেসন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।’’ একই সঙ্গে রেকর্ড বইয়ে নিজেকে কোহালির ঠিক পরেই নিয়ে এসেছেন জেসন। তিনশোর বেশি রান তাড়া করতে নেমে সেঞ্চুরি করার দিক দিয়ে এক নম্বরে আছেন কোহালি। ভারত অধিনায়ক করেছেন ন’টি সেঞ্চুরি। এর পরেই জেসনের পাঁচটি।  

শুক্রবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জেতার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের একটি রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে ইংল্যান্ড। এর আগে তিনশো চল্লিশের বেশি রান তাড়া করতে নেমে তিন বার জিতেছিল ভারত। গত কাল নটিংহ্যামে জেতার পরে সেই রেকর্ড ভেঙে দিল ইংল্যান্ড। তাদের জয়ের সংখ্যা দাঁড়াল চার। যার মধ্যে দুটি এসেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই সিরিজেই। 

এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের বাবর আজম (১১৫)। মহম্মদ হাফিজ করেন ৫৯। এর পরে জেসনের সেঞ্চুরি আর বেন স্টোকসের অপরাজিত ৭১ রানের সৌজন্যে তিন বল বাকি থাকতে, তিন উইকেটে জিতে যায় দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ইংল্যান্ড।