অধিনায়ক বিরাট কোহালি একা নন। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচকদের তোপ দাগলেন কোহালি, ধোনিদের হেড কোচ রবি শাস্ত্রী-ও।

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়ান ডে-র পরে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জেতার পরের দিন অনেক চেষ্টার পরে রাতের দিকে পাওয়া গেল শাস্ত্রীকে। টানা ক্রিকেটের মধ্যে সিরিজ শেষে ছুটি পেয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। 

ভারতীয় দলের হেড কোচকে প্রশ্ন করা গেল— ধোনিকে নিয়ে নানা মুনির নানা মত চলছে এখন। কয়েক জন প্রাক্তন ক্রিকেটার এমনকী, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে ধোনিকে বিদায় দেওয়ার দাবিও তুলেছেন। আপনার প্রতিক্রিয়া কী? শুনেই শাস্ত্রীর পাল্টা তোপ, ‘‘আমিও দীর্ঘদিন টিভি-তে বসেছি। খুব বেশিদিন হয়নি ছেড়ে এসেছি। আমাকেও প্রশ্ন করা হতো, আমাকেও উত্তর দিতে হতো। এটাই টিভি-র ধর্ম। শো-টা চালাতে হবে তো!’’ এখানেই না থেমে শাস্ত্রী বলে চলেন, ‘‘মহেন্দ্র সিংহ ধোনি সুপারস্টার। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাদের এক জন। ধোনি কিংবদন্তি। আলোচনার জন্য তাই দারুণ একটা টপিক।’’ 

ধোনিকে নিয়ে বিদায়ধ্বনি ওঠে রাজকোটের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত হারার পরে। সেই ম্যাচের পরেই সম্প্রচারকারী চ্যানেলে বসে ভি ভি এস লক্ষ্মণ মন্তব্য করেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আর ধোনিকে খেলানোর মানে হয় না। তাঁর জায়গায় তরুণ কাউকে সুযোগ দেওয়া উচিত। এর পর একটি ওয়েবসাইটে অজিত আগরকর একই মন্তব্য করেন।

আনন্দবাজারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে এ দিন কারও নাম নেননি শাস্ত্রী। কিন্তু ভারতীয় দলের মধ্যে যে বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন অধিনায়ক একেবারেই সমর্থন হারাননি, অধিনায়ক কোহালির মতোই তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। বলে দেন, ‘‘কে কী বলছে, তা দিয়ে আমার কিছুই এসে-যায় না। আমরা সকলে জানি, টিমের মধ্যে বা আমাদের মনে ধোনির অবস্থান ঠিক কোথায়। আর সেই জায়গাটা খুবই উঁচুতে।’’ ধোনি নিয়ে গত কয়েক দিনের বিতর্কের কথা তোলায় উত্তেজিত শাস্ত্রীর সংযোজন, ‘‘ধোনি আদর্শ টিমম্যান। ছিল প্রকৃত নেতা। এখন দুর্ধর্ষ এক টিমম্যান। ভারতীয় দল জানে কে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। জানে ওর কী গুরুত্ব।’’

নিন্দুকদের নিয়ে তাতেও যেন শান্ত হলেন না হেড কোচ। বললেন, ‘‘মনে হচ্ছে, আশেপাশে অনেক ঈর্ষান্বিত লোকজন ঘোরাফেরা করছে। যারা শুধু ধোনির পতনই দেখতে চায়। এরা অপেক্ষায় আছে, কবে ধোনির দু’টো-একটা খারাপ দিন যাবে।’’ গত এক বছরে একদিনের ক্রিকেটে ধোনির গড় পঁয়ষট্টির উপরে, মনে করিয়ে দেন তিনি। বলে ওঠেন, শ্রীলঙ্কাতেও ম্যাচ জিতিয়ে এসেছে ছেলেটা। তার পরেই ফুঁসে ওঠেন, ‘‘এমন গৌরবময় কেরিয়ার হলে কেউ কেউ তো ঈর্ষান্বিত হবেই। ওই যে বললাম, কিছু লোক অপেক্ষা করে বসে রয়েছে কবে ও ব্যর্থ হবে আর ওরাও কিছু বলবে। তাতে কিছুই পাল্টাবে না। আমাদের কাছে ধোনি সেই ম্যাচউইনারই আছে। দু’টো-একটা ম্যাচের স্কোর দিয়ে ওর বিচার করা যাবে না।’’

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ে ছেলেদের মানসিকতার প্রশংসাও করছেন শাস্ত্রী। ‘‘ওয়ান ডে-র পরে টি-টোয়েন্টিতেও আমরা একটা ম্যাচ হেরেছিলাম। চাপের মুখে পড়েছিল টিম। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য লৌহকঠিন মানসিকতা দেখানোর দরকার ছিল। টিম সেটা দেখিয়েছে,’’ বলছেন তৃপ্ত হেড কোচ। মঙ্গলবার সিরিজ জয়ের পরেও প্রেজেন্টেশনে সঞ্জয় মঞ্জরেকরকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে প্রশংসা করেছিলেন নিউজিল্যান্ড টিমের। এ দিন আনন্দবাজারকে বললেন, ‘‘নিউজিল্যান্ড আমাদের চাপে ফেলেছে। খুব ভাল খেলেছে। আমাদের টিমের জন্য দারুণ একটা শিক্ষা হল কারণ, ছেলেরা বুঝতে পারল সেমিফাইনাল, ফাইনালের মতো পরিস্থিতিতে কী করতে হয়। আমাদের টিমের সামনে নিউজিল্যান্ড একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। ছেলেরা সেই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করে পরীক্ষায় পাশ করেছে।’’ নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিংকে বিশ্বের সেরা আখ্যা দিয়ে শাস্ত্রী যোগ করছেন, ‘‘আমরা এই সিরিজে ওদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছি। এটা একটা বড় উন্নতির লক্ষণ।’’

 আরও একজনকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত শাস্ত্রী। তাঁর নাম যশপ্রীত বুমরা। যাঁকে এ দিন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ‘বিশ্বের সেরা’ আখ্যা দিয়ে দিলেন তিনি। শাস্ত্রীয় ভঙ্গিতে এর পর তাঁর মন্তব্য,‘‘বুমরা দেখাচ্ছে কেন ও বিশ্বের সেরা।’’ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই বুমরাই ‘নো বল’ করে খলনায়ক হয়ে গিয়েছিলেন। জয়পুর পুলিশ তাঁর সেই ‘নো বল’-এর ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়ে রাস্তায় হোর্ডিং পর্যন্ত দিয়েছিল।

শাস্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা গেল, কী ভাবে বুমরাকে সেই দুঃস্বপ্ন থেকে বের করে আনলেন? কোচ হিসেবে ফিরে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন আপনি? শাস্ত্রীয় ভঙ্গিতেই দ্রুত জবাব এল, ‘‘কোনও পরামর্শই দেওয়া লাগেনি। বিল্ডিংয়ের উপরের ফ্লোরটা বেশ উজ্জ্বল ওর।’’ বিল্ডিংয়ের উপরের ফ্লোর অর্থাৎ কি না বোলারের মস্তিষ্ক!