রাগ-অভিমান-আক্ষেপ নেই। ফেলে আসা দিনে নয়, চোখ রাখছেন সামনে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটকে বিদায় জানিয়েও ঝুলন গোস্বামী অদ্ভুত শান্ত। নিরুত্তাপ। আনন্দবাজার ডিজিটালকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তেমনই শোনাল বাঙালি পেসারকে। অথচ, চাকদহের গলি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রাজপথ, রাস্তাটা একেবারেই মসৃণ ছিল না!

হঠাত্ই অবসর কেন?
ঝুলন: হঠাত্ নয়, ভাবছিলাম অনেক দিন ধরেই। মনে হল, খেলাটা আমার চেয়ে দ্রুত হচ্ছে।

পরের বছর তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। হাতে একটা বিশ্বকাপ তো প্রাপ্যই আপনার। 
ঝুলন: (হালকা হাসি) কী করা যাবে, অবসরের পর তো আর খেলা যাবে না। দেখুন, হাতে কাপ নিয়ে ছাড়ার ব্যাপার আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমার শরীর ওই ধকল নিতে পারছিল না। ক্লান্ত হচ্ছিলাম। একটা ম্যাচ খেলে উঠে তরতাজা হতে সময় লাগছিল। মনে হচ্ছিল, এই ফরম্যাটকে বিদায় জানানোর এটাই হয়তো ঠিক সময়।

একদিনের ম্যাচ খেলবেন তো? 
ঝুলন: হ্যাঁ, একদিনের ম্যাচ, টেস্ট খেলব।

টেস্ট তো খুব কম হয়। এত বছরের কেরিয়ারে খেলেছেন মোটে ১০টা টেস্ট। সেখানে ওয়ানডে খেলেছেন ১৬৯টি। টি-টোয়েন্টি ৬৮টি। 
ঝুলন: টেস্ট যখন হবে, তখন  খেলব। আজ হচ্ছে না, কাল বা পরশু হতে পারে। নিশ্চয়ই হবে। তখন টেস্ট খেলব।

আরও তিন-চার বছর তো খেলতেই পারেন? 
ঝুলন; আর কত বছর খেলব, তা বলতে পারব না। তবে চেষ্টা করব, যত দিন ফিট আছি, তত দিন খেলার। শরীর ও মনের কো-অর্ডিনেশন যত দিন ঠিকঠাক হবে, তত দিন খেলার। যে দিন মনে হবে, নিজের সেরা দিতে পারছি না, সে দিন নিজেকে সরিয়ে নেব পুরোপুরি।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আর দেওয়ার কিছু ছিল না, বললেন ঝুলন। ফাইল ছবি।

কোনও আক্ষেপ থাকছে এই ফরম্যাটে? 
ঝুলন: না, কোনও আক্ষেপ নেই। আক্ষেপ নিয়ে কোনও কাজ করা যায় না।

সেরা মুহূর্ত হিসেবে চোখের সামনে কী ভেসে ওঠে? 
ঝুলন: আমার কাছে প্রতিটা মুহূর্তই সেরা। প্রত্যেক ম্যাচ আমাকে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে বোলিং আক্রমণকে। তাই কোনও ম্যাচই হালকা ভাবে নেওয়ার ব্যাপার ছিল না। চাপ নিতে হয়েছে সব সময়। ফলাফল যাই হোক না কেন, নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে হয়েছে। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট তার মধ্যেও মধুর অনুভূতি। আমি তিন ফরম্যাটেই পাঁচ উইকেট নিয়েছি।

এটা তো তৃপ্তির একটা জায়গা। 
ঝুলন: হ্যাঁ, ব্যাটসম্যানের শতরানের সমান হল পাঁচ উইকেট। সেটা টেস্ট, একদিন, টি-টোয়েন্টি, তিন ফরম্যাটেই রয়েছে। এটা একটা বড় পাওয়া যে, সব ফরম্যাটেই সাফল্য পেয়েছি। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতাও মনে রাখার মতো। এমন প্রচুর ম্যাচ রয়েছে, যেখানে ভাল খেলেছি। দলের জয়ে অবদান রেখেছি।

আরও পড়ুন: দেশের হয়ে আর টি-টোয়েন্টি খেলবেন না ঝুলন

আরও পড়ুন: টেস্ট ব্যাটিংয়ে আবার শীর্ষে বিরাট কোহালি​

টি-টোয়েন্টি পর্ব তো শেষ। এখন সামনে টার্গেট কী? 
ঝুলন: টার্গেট বলতে, সামনে একদিনের ম্যাচ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছি। ওখানে ওয়ানডে খেলব। চেষ্টা করব উজাড় করে দেওয়ার।

একদিনের ক্রিকেটে এই বছরই নিয়েছেন দুশো উইকেট। উইকেট সংখ্যাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার কোনও সুপ্ত বাসনা কি একেবারেই তাড়া করে না? 
ঝুলন: দেখুন, টার্গেট সামনে রেখে চলা যায় না। লক্ষ্যপূরণ হলে ভাল। কিন্তু টার্গেটে পৌঁছতে না পারলে খুব কষ্ট হয়। তাই সামনে লক্ষ্য টাঙিয়ে রেখে চলা যায় না। অন্তত এটা আমার বিশ্বাস। আমার লক্ষ্য হল, সব সময় ভাল বল করা, সেরাটা দেওয়া। সেই চেষ্টা করা। সেটুকু আমার হাতে রয়েছে।

জুনে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশের কাছে পরাজয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আপনার শেষ ম্যাচ। শেষটা মধুর হলে ভাল হত না? 
ঝুলন: জিতে শেষ করলেও শেষ, না জিতে শেষ করলেও শেষ। শেষ তো হতই। মোটামুটি অনেক দিন ধরেই এটা মাথায় ছিল। যে, এই ফরম্যাটে নিজের সেরাটা দিতে পারছি না। তিন-চার মাস ধরে নিজের সঙ্গেই চলছিল লড়াই। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। বলছিলাম যে, আর একটু এফোর্ট দিতে হবে। তার পর মনে হল, এই ফরম্যাটে আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। মনে হচ্ছিল, এই ঘরানায় আমি শেষ হয়ে গিয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় নিজেকে মোটিভেট করতে পারছিলাম না।

এশিয়া কাপের সময়ই কি অবসরের সিদ্ধান্ত নেন? 
ঝুলন: না, অনেক দিন ধরেই এটা ভাবছিলাম। কোনও একটা পয়েন্টকে চিহ্নিত করতে চাইছি না। বললাম না, অনেক দিন ধরেই এটা মাথায় ছিল।

সতীর্থরা সবাই জানেন? মিতালি-হরমনপ্রীতরা কী বললেন? 
ঝুলন: হ্যাঁ, আমি সবাইকে বলেছি। বেঙ্গালুরুতে আমাদের শিবির চলছিল। সেখানেই সবাইকে জানিয়েছি। সবাই থেকে যেতে বলছিল। খেলা চালিয়ে যেতে বলছিল। আমি ওদের বোঝালাম। ওরা তখন বুঝল।

এর পর ভারত যখন টি-টোয়েন্টিতে খেলবে, কষ্ট হবে না  টিভির সামনে বসে মিতালিদের দেখতে? 
ঝুলন: না, ওদের জন্য প্রার্থনা করব আমি। আর আমি তো একেবারে ছেড়ে যাচ্ছি না। শুধু একটা ফরম্যাট থেকে সরিয়ে নিচ্ছি নিজেকে। একেবারেই যে দিন সরে যাব, তখন হয়তো অন্য রকম ফিলিংস হবে। তবে এখন সেটা বলতে পারছি না। যত দিন খেলব, তত দিন যেন সেরা পারফরম্যান্স করে যেতে পারি।

আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমস শুটিংয়ে রুপো ১৫ বছরের শার্দূলের

আরও পড়ুন: এশিয়াডে সানিয়ার পর মহিলাদের সিঙ্গলসে দ্বিতীয় পদক অঙ্কিতার​

(ক্রিকেটের খবর,ফুটবলের খবর, টেনিসের খবর, হকির খবর - খেলার খবরের সেরা ঠিকানা আমাদের খেলা বিভাগ।)