কয়েক মাস আগেও যিনি জানতেন না ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন কি না, তাঁর একটার পর একটা স্বপ্ন এখন সত্যি হচ্ছে। তিনি জোফ্রা আর্চার। বিশ্বকাপে প্রাথমিক দলে এই ফাস্ট বোলারকে রাখা হয়নি। পরে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয় এবং ফাইনালে সুপার ওভারে বল করে ইংল্যান্ডকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেন এই আর্চারই। 

তাঁর আরও স্বপ্ন ছিল ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলা। সেই স্বপ্ন পূরণের দিকেও এক ধাপ এগিয়েছেন আর্চার। শনিবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের যে দল ঘোষণা হয়েছে, তাতে জায়গা পেয়েছেন আর্চার। 

টেস্টে সুযোগ পাওয়ার পরে আর্চার জানিয়েছেন, কী ভাবে পাঁজরের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে তিনি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে খেলে গিয়েছেন। ইংল্যান্ডের প্রচারমাধ্যমে আর্চার জানিয়েছেন, পেনকিলার নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। আর্চার বলেছেন, ‘‘আফগানিস্তান ম্যাচ থেকে যন্ত্রণাটা শুরু হয়েছিল। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, পেনকিলার ছাড়া মাঠে নামতে পারছিলাম না।’’

আর্চারের সমস্যাটা আরও বেড়ে যায় কোনও রকম বিশ্রাম না পাওয়ায়। এই পেসার বলেছেন, ‘‘মোটামুটি যদি এক সপ্তাহ-দশ দিনের মতো বিশ্রাম পেয়ে যেতাম, তা হলে হয়তো সমস্যা হত না। কিন্তু বিশ্বকাপের সময় ম্যাচগুলো এত ঘনঘন ছিল যে বিশ্রামের সেই সুযোগটাও পাচ্ছিলাম না।’’ বিশ্বকাপের পরেই অবশ্য বিশ্রাম দেওয়া হয় আর্চারকে। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে তিনি খেলেননি। আর্চারের এখন স্বপ্ন, ইংল্যান্ডের জার্সিতে টেস্ট ম্যাচে নামা। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অবশ্যই টেস্ট অভিষেক হওয়া উচিত আর্চারের। 

আর্চারও তৈরি লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। তিনি বলেছেন, ‘‘লাল বলের ক্রিকেটে আমি কী করতে পারি, সেটা মাঠে নেমে সবাইকে বুঝিয়ে দিতে পারি।’’ আর্চার এও বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, সাদা বলের ক্রিকেটের চেয়ে আমার লাল বলের ক্রিকেটের রেকর্ড ভাল। তাই নিজেকে প্রমাণ করার একটা সুযোগের অপেক্ষায় আছি।’’ এজবাস্টনে ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট শুরু হচ্ছে পয়লা অগস্ট থেকে।