পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে দলকে দুরন্ত জয় এনে দেওয়ার পরে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্টো যাবতীয় কৃতিত্ব দিচ্ছেন আইপিএলকেই। 

বেয়ারস্টোর ৯৩ বলে ১২৮ রানের  ইনিংসের সাহায্যে পাকিস্তানকে ছয় উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ এগিয়ে গিয়েছে ইংল্যান্ড। ওয়ান ডে-তে এই নিয়ে সাত নম্বর সেঞ্চুরি করলেন বেয়ারস্টো। এ বার আইপিএলেও দুর্ধর্ষ ফর্মে ছিলেন তিনি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ১০ ম্যাচে ৪৪৫ রান করেছিলেন। গড় ৫৫.৬২। বেয়ারস্টো বলেন, ‘‘আইপিএলে বিভিন্ন দলের কোচ এবং ক্রিকেটারদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।’’ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ওপেনার অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাও তাঁকে কতটা সাহায্য করেছে শিখতে, তাও বলতে ভোলেননি তিনি। ‘‘ছোট ছোট ব্যাপারও শেখার মতো। যেমন পরিকল্পনা। আমার তুলনায় ওয়ার্নার একেবারে অন্য জয়াগাগুলোতে শট খেলে। আমার মনে হয় আসল ব্যাপারটা হল পদ্ধতি। এই জিনিসগুলোই লক্ষ্য করার মতো। পাশাপাশি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের থেকেও শিখেছি। যা চাপের মধ্যেও ভাল খেলতে সাহায্য করবে,’’ বলেছেন বেয়ারস্টো।

ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান পাশাপাশি স্বীকার করে নিয়েছেন, জয়ের কাছাকাছি এসেও আউট হয়ে গিয়ে নিজের উপর রেগে গিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তান তুলেছিল ৩৫৮-৯। যা ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। জুনেইদ খানের বলে আউট হওয়ার পরে হতাশায় স্টাম্পে ব্যাট দিয়ে আঘাত করেন বেয়ারস্টো। ‘‘আউট হয়ে গিয়ে নিজের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছিলাম। চেয়েছিলাম ১৬০, ১৭০ রান বা সম্ভব হলে ২০০ রান করে দলকে জেতাতে। এই মুহূর্তে আমরা সকলে এ রকমই করেই ভাবি। ১৫০ বা ১৬০ রান বা তারও বেশি করতে হবে। এই নিয়ে দলে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা রয়েছে। আউট হয়ে রেগে গিয়েছিলাম ঠিকই, তবে এটাও বোঝা যায়, দলের জন্য ভাল খেলতে আমি কতটা উদগ্রীব,’’ বলেছেন অইন মর্গ্যানের দলের অন্যতম তারকা।

এ দিকে ইংল্যান্ড দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ প্রাক্তন তারকা কেভিন পিটারসেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি এই দলের সঙ্গে রিকি পন্টিংদের অস্ট্রেলিয়া দলের সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘২০০৩ এবং ২০০৭ সালে ওই অস্ট্রেলিয়া দলে ছিল ম্যাথু হেডেন, রিকি পন্টিং এবং অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। আমি ওদের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছি জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো এবং জস বাটলারের।’’ পিটারসেন আরও জানিয়েছেন, ঘরের মাঠে এ বার ইংল্যান্ড অনেক বেশি সুবিধা পাবে উইকেট থেকে। তিনি বলেছেন, ‘‘পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়ান ডে সিরিজ খেলার কারণে অনেক বেশি তৈরি থাকবে ইংল্যান্ড।’’

শাকিবকে নিয়ে উদ্বেগ: আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে জয়ের দিনেও বাংলাদেশ শিবিরের উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিলেন অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসান। ৫১ বলে ৫০ রানের ইনিংস উপহার দিলেও মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। শোনা গিয়েছে, পেশিতে টান লাগার কারণে তিনি বেরিয়ে যান। তবে সেই চোট কতটা গুরুতর, তা জানা যায়নি। বাংলাদেশে দলের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফিজিয়োর রিপোর্ট হাতে আসার পরেই ছবিটা স্পষ্ট হবে।  

বুধবার আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯২ রান করে আয়ারল্যান্ড। ওপেনার পল স্টার্লিং ১৪১ বলে ১৩০ রান করেন। তা ছাড়া অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ৯৪ রান করেন। বাংলাদেশের ডান হাতি পেসার আবু জায়েদ ৫৮ রানে পাঁচ উইকেট নেন। তা ছাড়া দুই উইকেট নিয়েছেন মহম্মদ সইফুদ্দিন।

পাল্টা রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে তামিম ইকবাল (৫৩ বলে ৫৭) এব‌ং লিটন দাস (৬৭ বলে ৭৬) তোলেন ১১৭ রান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন শাকিব। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি। তিনি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। মুশফিকুর রহিম (৩৩ বলে ৩৫) এবং মাহমুদুল্লা (২৯ বলে অপরাজিত ৩৫) দলের জয় নিশ্চিত করে দেন। ৪৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২৯৪ রান তুলে ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। শুক্রবার ফাইনালে তারা খেলবে েজসন হোল্ডারদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে।