শুক্রবার ছিল মেয়ের জন্মদিন। রবিবার ছেলের। কারও জন্মদিনেই থাকতে পারেননি। শেন ওয়ার্ন গত সপ্তাহে ভেবেছিলেন দেশে ফিরবেন। কিন্তু যা দুরন্ত গতিতে ছুটছে দল, তাদের ছেড়ে যাওয়ার উপায়ই নেই অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তির। সোমবার রাতে দলের সঙ্গে কলকাতায় চলেও এলেন অজিঙ্ক রাহানেদের কোচ।

 অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার বলছেন, ‘‘ইডেনের ম্যাচটা আমাদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব ব্যক্তিগত কাজ বাতিল করে থেকেই গেলাম। এই ম্যাচের পরে না হয় ফেরা যাবে। প্লে-অফে আবার ফিরে আসব।’’ ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পাওয়া রাজস্থান রয়্যালস শিবিরের পাখির চোখ যে এখন কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ, তার ইঙ্গিত আইপিএলের ওয়েবসাইটে বলা ওয়ার্নের এই কথাতেই স্পষ্ট। টানা তিন ম্যাচ জিতে তাঁরা এখন যে জায়গায়, তাতে মঙ্গলবার নাইটদের হারিয়ে প্লে-অফের আরও কাছে যেতে মরিয়া রাহানেরা।

টানা পাঁচ ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনা ইংল্যান্ডের কিপার-ব্যাটসম্যান জস বাটলারের ফর্মেই এই মরিয়া ভাব রাজস্থান শিবিরে। শেষ পাঁচ ম্যাচে ১২৯.৭-এর গড়ে রান করা বাটলার শেষ দুই ম্যাচে সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় গিয়ে থেমে যান। ইডেনে সেঞ্চুরিই লক্ষ্য তাঁর।

রবিবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারানোর পরে ২৭ বছর বয়সি ওপেনার বলেন, ‘‘এই ফর্ম ধরে রাখতে হবে। সেঞ্চুরি পেলে ভালই। আসলে মিডল অর্ডারে অনেক ব্যাট করেছি। প্রথম ছ’ওভার টিকে গেলে তাই মিডল অর্ডারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগে। এখন ইডেনের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’’

ওয়ার্ন অবশ্য মানতে রাজি নন, তাঁদের দলে ম্যাচ জেতানোর মতো ক্রিকেটার একজনই। তিনি বলছেন, ‘‘একাধিক ম্যাচ উইনার আছে আমাদের দলে। জোফ্রা আর্চারের কথা ভুলে যাবেন না। সঞ্জু স্যামসনও আছে। ও তো ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ-তারকা। শটে যেমন জোর আছে ছেলেটার, তেমনই পেস, স্পিন সব রকম বলের বিরুদ্ধে খেলতে পারে। একজন ব্যর্থ হলে অন্যরা জেতাবে। আমি প্লে-অফে খেলা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।’’

প্রথম সাত ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই হারার পরে দলের ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে ওয়ার্ন বলেন, ‘‘দলের ছেলেদের বোঝাপড়াটা তৈরি হতে একটু সময় লেগেছে। আমি ওদের বলেছিলাম, মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়াটা তৈরি করো। আমি যে ওদের কোচ কম। ম্যানেজার বেশি। ওদের চাপে না ফেলে সেরাটা বার করে নেওয়াই আমার কাজ।’’

তবে ওয়ার্ন এখনও পুরো খুশি নন দলের পারফরম্যান্সে। বলেন, ‘‘রান আউটের অনেক সুযোগ নষ্ট করেছি। ক্যাচও পড়েছে। প্লে-অফে উঠতে গেলে এগুলো ঠিক করতেই হবে আমাদের।’’ যদিও সোমবার রাতে কলকাতায় পৌঁছনোয়, সে সুযোগ পেলেন না রাহানেরা।