রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে আইপিএল লিগ তালিকায় এক নম্বরে (কিংস ইলেভেন পঞ্জাব বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচের আগে) উঠে আসার পরে কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবিরে এখন উৎসবের আবহ। বুধবার রাতে হোটেলে ফিরে চলল কেক কাটা এবং একে অপরকে কেক মাখানো। এরই মধ্যে শাহরুখ খান অভিনন্দন জানিয়েছেন দলকে।

জয়পুর জয়ের পরেই শাহরুখ টুইট করেন, ‘খুব ভাল লাগছে দেখে যে, বাচ্চারা মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। কারেন, মাভি এবং গিল। ডিকে, পীযূষ, রানা, কুলদীপ, রব্বি— সবাই ওদের ঠিক রাস্তা দেখাচ্ছে। সুনীল ঠিক সুনীলের কাজটা করছে। এর সঙ্গে আন্দ্রে এবং লিন বিস্ফোরণ ঘটানোর অপেক্ষায়। ওয়াও! তোমাদের টিমে থাকতে পেরে কী ভালই না লাগছে!’

পরপর দু’টো ম্যাচ হেরে একটু পিছিয়ে পড়া কেকেআর আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে টানা দু’টো ম্যাচ জিতে। যার পরে দলের অন্যতম ভরসা রবিন উথাপ্পা বলেছেন, ‘‘এখন যে জায়গায় আছি, তাতে আমরা খুশি। একটা ম্যাচ বেশি খেলেছি ঠিকই, কিন্তু আসল ব্যাপারটা হল, আমরা এখন ভাল ক্রিকেট খেলছি। ঠিক সময়ে নিজেদের সেরা খেলাটা বার করে আনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’

নাইটদের শেষ দুই জয়ে নীতীশ রানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ১৬২ রান এসেছে রানার ব্যাট থেকে। যাঁকে নিয়ে উথাপ্পা বলছেন, ‘‘রানা শুধু ভাল ব্যাটসম্যানই নয়, ও যথেষ্ট পরিণত।’’ রানাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রাক্তনদের কেউ কেউ। সঞ্জয় মঞ্জরেকর যেমন টুইট করেছেন, ‘আমি যদি ভারতীয় নির্বাচক হতাম, তা হলে রানার ওপর নজর রাখতাম।’

দলের ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে উথাপ্পার মন্তব্য, ‘‘ব্যাটিং নিয়ে আমরা বেশি পরীক্ষা চালাচ্ছি না। প্রথম তিন জন মোটামুটি ঠিক আছে। নারাইন এবং লিনি (ক্রিস লিন) শুরুতে। তার পর আমি, রানা, দীনেশ কার্তিক, আন্দ্রে রাসেল মিডল অর্ডারে। যে ভাবে আমরা ব্যাটিং বিভাগ সাজিয়েছি, সেটা কাজে দিচ্ছে।’’ নিজেকে নিয়ে উথাপ্পা বলেছেন, ‘‘ঘরোয়া মরসুমটা আমার খুব একটা ভাল কাটেনি। কিন্তু এটুকু বুঝতে পারছিলাম, টাইমিংটা ভাল হচ্ছিল। স্ট্রোকগুলো ভাল খেলতে পারছিলাম। আইপিএলেও সেটাই হচ্ছে। তবে আমাকে এখান থেকে আরও উন্নতি করতে হবে।’’ মিডল অর্ডারে কার্তিক থাকায় তাঁর যে অনেক সুবিধে হয়েছে, সেটা বলছিলেন উথাপ্পা, ‘‘মিডল অর্ডারে কার্তিক থাকায় আমি স্ট্রোক খেলার ব্যাপারে অনেক স্বাধীনতা পাচ্ছি। যেটা আমার খেলার ধরনের সঙ্গে খাপ খেয়ে যাচ্ছে।’’

এ বার নতুন অধিনায়ক নিয়ে আইপিএল অভিযানে নেমেছে কেকেআর। এত দিন গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে খেলেছেন। এখন কার্তিক আপনাদের অধিনায়ক। দু’জনের মধ্যে ফারাকটা কী দেখছেন? উথাপ্পার জবাব, ‘‘দু’জনের ব্যক্তিত্ব আলাদা। কার্তিক অনেক শান্ত, ধীর স্থির। খুব ভাবনা চিন্তা করে। কিন্তু ক্রিকেটারদের নিজের মতো করে খেলার স্বাধীনতা দেয়। গম্ভীর খুব ছটফটে, সামনে থেকে কাজ করতে চায়।’’ আইপিএলের আগে বাবা হয়েছেন। ছ’মাসের সন্তান এবং স্ত্রী তাঁর সঙ্গেই থাকছেন। উথাপ্পা জানাচ্ছেন, বাবা হওয়ার পরে তাঁর জীবনের অর্থই বদলে গিয়েছে। ‘‘দু’টো জিনিস আমি এখন সব চেয়ে বেশি ভালবাসি। পিতৃত্ব উপভোগ করা এবং চুটিয়ে ক্রিকেট খেলা।’’ বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে উথাপ্পা বলেছেন, ‘‘সদ্য বাবা হয়েছি তো, তাই অনেক কিছু শিখছি। আমি বাচ্চার ন্যাপি বদলাতেও তৈরি। কিন্তু আমার স্ত্রী সেটা করতে দেয় না!’’