একটা বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছে। নজর এ বার আর একটি বিশ্বকাপে। পরের বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যে ‘মিশন’  শুরু হয়ে যাচ্ছে আজ, রবিবার, ধর্মশালায়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে। যে অভিযানে কোহালির হাতে রয়েছে বেশ কিছু নতুন মুখ। যাঁদের নিয়ে পরীক্ষায় নামতে তৈরি ভারত অধিনায়ক।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ সহজেই জিতেছে ভারত। কিন্তু সেই সিরিজ নয়, মনে করা হচ্ছে কুইন্টন ডিকক, কাগিসো রাবাডাদের দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেই আসল পরীক্ষা হতে চলেছে কোহালির তরুণ ব্রিগেডের। যে ম্যাচের আগে ভারত অধিনায়ক বলে দিচ্ছেন, তিনি সব ম্যাচই জিততে চান। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এসে কোহালি বলেছেন, ‘‘বিদেশে হোক বা ঘরের মাঠ, সব জায়গায়, সব পরিস্থিতিতে, সব ফর্ম্যাটে আমাদের জিততে হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’’ নিজেদের ‘রোডম্যাপ’ও মোটামুটি ঠিক করে নিয়েছে ভারত। কোহালির কথায় সেটা পরিষ্কার। তিনি বলছেন, ‘‘হাতে বেশ কয়েক জন নতুন ক্রিকেটার আছে। যাদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কে কী করতে পারে, সেটাও দেখতে হবে।’’

পরের বছর বিশ্বকাপের আগে হাতে ২৭টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পাবেন কোহালি-রবি শাস্ত্রীরা। যে ম্যাচগুলোয় দেখে নেওয়া যাবে তরুণদের। ধর্মশালায় যেমন পরীক্ষা তরুণ বোলারদের। নজর থাকবে তিন পেসার নবদীপ সাইনি, খলিল আহমেদ, দীপক চাহারের উপরে। স্পিনার হিসেবে তরুণ ওয়াশিংটন সুন্দর বা রাহুল চাহার কী করতে পারেন, সেটাও দেখে নিতে চাইবেন কোহালিরা। 

নতুনদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে তিনি যে মুখিয়ে আছেন, তা জানিয়েছেন কোহালি। বলেছেন, ‘‘নতুন ক্রিকেটারদের দেখে নেওয়া, নতুন দল নিয়ে পরীক্ষা করা, এগুলো খুব আকর্ষণীয় ব্যাপার। আমরা সবাই এই প্রক্রিয়াটার মধ্যে দিয়ে এসেছি। তাই যখন কোনও নতুন মুখকে উঠে আসতে দেখি, বেশ ভাল লাগে।’’

মহেন্দ্র সিংহ ধোনি না থাকলেও ভারতীয় দলের ব্যাটিং গভীরতা একেবারেই ধাক্কা খায়নি। শুরুতে আছেন সীমিত ওভারের অন্যতম সেরা তিন ব্যাটসম্যান— রোহিত শর্মা, শিখর ধওয়ন এবং কোহালি। মিডল অর্ডারে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আছেন ঋষভ পন্থ, শ্রেয়স আইয়ার, মণীশ পাণ্ডেরা। অলরাউন্ডারের জায়গায় লড়াইয়ে থাকবেন হার্দিক পাণ্ড্য, ক্রুণাল পাণ্ড্য, রবীন্দ্র জাডেজা। এই ম্যাচে একটি অভিনব ঘটনাও ঘটতে পারে। ভারতীয় দলে এক সঙ্গে খেলতে পারেন এক জোড়া ভাই। পাণ্ড্য এবং চাহার ভাইয়েরা। 

দক্ষিণ আফ্রিকার দলটায় অবশ্য অভিজ্ঞতার বেশ অভাব আছে। ডেভিড মিলার আর অধিনায়ক কুইন্টন ছাড়া দলে সে রকম অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান নেই। মিলার বলেছেন, ‘‘কুইন্টন কিন্তু খুব বুদ্ধিমান ক্রিকেটার। আমাদের দলটা নতুন। সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। অধিনায়ক আমাকে যে দায়িত্বটা দেবে, সেটাই পালন করার চেষ্টা করব।’’ 

কুইন্টনের সঙ্গে ওপেন করতে পারেন রিজা হেনড্রিক্স। টি-টোয়েন্টিতে ২০ ম্যাচে যাঁর রান ৫৫৯, স্ট্রাইক রেট ১২৪.২২। মিডল অর্ডারে থাকবেন টেম্বা বাভুমা (৬১ টি-টোয়েন্টি, ১২৭৯ রান, স্ট্রাইক রেট ১২৬.৭৫) ও র‌্যাসি ফান ডার ডুসোঁ (৯৯ টি-টোয়েন্টিতে ৩১৫২ রান, স্ট্রাইক রেট ১৩১.১১)। বোলিংয়ে অনেক কিছুই নির্ভর করবে রাবাডার উপরে। পাশাপাশি অ্যানরিখ নোর্ৎজে, ডোয়েন প্রিটোরিয়াসের মতো পেসাররা থাকবেন নতুন বল ভাগ করে নেওয়ার জন্য। স্পিনার হিসেবে অবসর নেওয়া ইমরান তাহিরের জায়গা নিয়েছেন চায়নাম্যান বোলার তাবরেজ় শামসি।

তবে দু’দলের লড়াইয়ে কাঁটা হতে পারে বৃষ্টি। খারাপ আবহওয়ার জন্য কোহালিরা এ দিন ইন্ডোরে অনুশীলন করেন। রবিবার দিনের বেলায় বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। সন্ধ্যায় হাল্কা বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস।