ম্যাচের পরে নিয়মরক্ষার করমর্দন পর্ব শেষ করে কুলদীপ যাদব সোজা চলে গেলেন তাঁর স্বপ্নের নায়কের কাছে। 

কী পেলেন প্রিয় কিংবদন্তির কাছ থেকে? চার উইকেট নিয়ে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিংয়ে ধস নামানোর পরে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কুলদীপ বলেন, ‘‘বরাবরই আমি শেন ওয়ার্নের ভক্ত। উনি আমার প্রিয় স্পিনার। ওঁর সামনে ভাল পারফরম্যান্স করতে পেরে আমি খুবই খুশি। বরাবরই চেয়ে এসেছি শেন ওয়ার্নের মত কিংবদন্তির সামনে ভাল কিছু করার। আজ সেই দিন ছিল। ম্যাচের পরে ওঁর সঙ্গে বেশি কথা হয়নি। তবে ইংল্যান্ডে কী ভাবে বোলিং করা উচিত, আমার কোথায় ভুল হচ্ছে, কী ভাবে আরও ভাল করা যায়, এ সব নিয়ে পরামর্শ নিলাম।’’ 

মঙ্গলবার ইডেনে জস বাটলার, অজিঙ্ক রাহানে, বেন স্টোকসদের ফিরিয়ে বিপক্ষের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন উত্তর প্রদেশের চায়নাম্যান বোলারই। বাটলার-বধের অস্ত্র হিসেবে যে কুলদীপকেই তৈরি রাখা হয়েছিল, তা আগের দিনই কোচ জাক কালিস ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কুলদীপ সেই কাজটা করতে পেরে বেশ তৃপ্ত। বললেন, ‘‘বাটলারই ওদের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান। তাই ওর উইকেটটা পেয়েই  বেশি খুশি হয়েছি। তবে অজিঙ্ক রাহানের উইকেটও আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওর মতো ব্যাটসম্যানের উইকেট পাওয়াটা বড় ব্যাপার।’’

লিগ পর্বে আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি নাইটদের। তবু প্লে-অফে জায়গা পাকা করতে পারল না কেকেআর। লিগ তালিকায় এখন যা অবস্থা, তাতে কেকেআর ১৪ পয়েন্ট নিয়েও প্লে-অফে চলে যেতে পারে, যদি রাজস্থান রয়্যালস ও কিংস ইলেভেন পঞ্জাব লিগে আর কোনও ম্যাচই না জিততে পারে। রাজস্থানের শেষ ম্যাচ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে, আর আজ ও শনিবার কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের ম্যাচ বাকি মুম্বই ও চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে। এই তিনটি ম্যাচে যদি পঞ্জাব বা রাজস্থান জিতে যায়, তা হলে কেকেআরের শেষ ম্যাচ জেতা ছাড়া উপায় নেই।

এই চাপ নিয়েই শেষ ম্যাচে তাঁরা নামবেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। পরপর দুই জয়ের পরে নাইট শিবির যে আত্মবিশ্বাসী তা কুলদীপের কথাতেই স্পষ্ট। বললেন, ‘‘আমাদের পরের ম্যাচ জিততে হবেই, এটাই আমাদের কাছে এখন একমাত্র হিসেব। এ ছাড়া আর কোনও হিসেবে যাচ্ছি না আমরা। আর আমাদের যা পারফরম্যান্স, তাতে আমরা শেষ ম্যাচে জিততেই পারি।’’

এমনই চরম উত্তেজক জায়গায় চলে এসেছে আইপিএল ১১ যে, মঙ্গলবার রাতে আইপিএল লিগ টেবলের যা অবস্থা দাঁড়াল, তাতে কেকেআর উঠে এল তিন নম্বরে। সেরা চারের শেষ দু’টি স্থানের জন্য তারা ছাড়াও লড়াইয়ে রয়েছে রাজস্থান, কিংস ইলেভেন পঞ্জাব, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর।সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও চেন্নাই সুপার কিংস সেরা  চারে চলেই গিয়েছে। কিন্তু আর কোন দুই দল ইডেনে প্লে-অফে খেলতে পারে, তা শনি বা রবিবারের আগে বোঝা কঠিন।

এই নিয়ে রাহানে বলছেন, ‘‘এটা আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কী হয়, তা কেউ বলতে পারি না।’’ কিন্তু প্লে-অফে উঠলেও তাঁরা পাবেন না বাটলার, স্টোকসদের। এটা মেনেই নিতে হবে বলছেন রাহানে। তাঁর মতে, ‘‘ওরা টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছে। এটা তো ভাল খবর। আমাদের মেনে নিতেই হবে। ওদের কথা না ভেবে এ বার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’’ যদিও তাঁর শরীরের ভাষা দেখে মনে হল, হাল প্রায় ছেড়ে দিয়েই বসে আছেন যেন।