কেউ বলছেন, অবিশ্বাস্য। কেউ বলছেন, সুপারম্যান। কারও চোখে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংস। 

ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম টেস্টে এক উইকেটে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়ার পরে ম্যাচের নায়ক কুশল পেরেরা বলেছেন, ‘‘নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে পেরেছি। তবে এখন খুব ক্লান্ত লাগছে।’’ বিশ্ব ফার্নান্দোর সঙ্গে শেষ উইকেটে ৭৮ রান যোগ করে দলকে ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি। যা চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করে জেতার ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড। পেরেরা অপরাজিত থেকে যান ১৫৩ রানে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ৩০৪ তাড়া করতে নেমে একটা সময় শ্রীলঙ্কার রান ছিল পাঁচ উইকেটে ১১০। নবম উইকেট যখন পড়ে, স্কোর ২২৬। ওই অবস্থায় কি ভেবেছিলেন টেস্ট জিততে পারবেন? পেরেরার জবাব, ‘‘আমার নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল, ম্যাচটা জেতাতে পারব। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা আমাকে খুব সাহায্য করেছে। আমি যখনই সুযোগ পেয়েছি, বড় শট খেলেছি।’’ পেরেরার দুশো বলের এই ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার, পাঁচটি ছয়। পেরেরার এই ইনিংসের সঙ্গে অনেকে তুলনা করছেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্রায়ান লারার সেই ম্যাচ জেতানো ইনিংসের। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বার্বেডোজে শেষ উইকেটে কোর্টনি ওয়ালশকে নিয়ে টেস্ট জিতিয়েছিলেন লারা। ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তিও অপরাজিত ছিলেন ১৫৩ রানে। এ বার আলোচনায় উঠে এলেন আরেক বাঁ হাতি। 

পেরেরার ইনিংস নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসি বলেছেন, ‘‘পেরেরার ব্যাট থেকে সুপারম্যানের ইনিংস পাওয়া গেল। অবিশ্বাস্য ম্যাচ দেখলাম।’’ টুইটে শুভেচ্ছাবার্তা আসছে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে। কুমার সঙ্গকারা যেমন টুইট করেছেন, ‘‘বিদেশে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে কুশল পেরেরা সম্ভবত শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা ইনিংসটা খেলল।’’ আবার জয়বর্ধনের প্রতিক্রিয়া, ‘‘পেরেরার ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্কের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে এই ইনিংসে।’’ পেরেরার ইনিংস দেখার পরে মাইকেল ভন বলেছেন, ‘‘দুর্দান্ত, কুশল। অন্যতম সেরা টেস্ট ইনিংস।’’ আর অশ্বিনের টুইট, ‘‘কেউ বলেছিল, টেস্ট ক্রিকেট মৃতপ্রায়? শ্রীলঙ্কা, পেরেরার কাছ থেকে অসাধারণ ক্রিকেট দেখলাম।’’