মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বিধ্বংসী ব্যাটিং একই রকম রয়েছে। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত বিশ্বকাপে প্রথম থেকেই ধোনিকে সেই মেজাজে ব্যাট করতে দেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া। মনে করছেন সিনিয়র অফস্পিনার হরভজন সিংহ।

অনেকেই বলছেন এখন আর ধোনির প্রথম থেকেই ধুন্ধুমার ব্যাটিং করার ব্যাপারটা দেখা যাচ্ছে না। কারণ, তিনি এখন উইকেটে টিকে থাকতে চান। শেষ মুহূর্তে জয়ের জন্য ঝাঁপানোর জন্য প্রথম থেকে চালিয়ে খেলেন না। তবে ধোনির এক সময়কার জাতীয় দলের এবং আইপিএল দল চেন্নাই সুপার কিংসের সতীর্থ চান পুরনো দিনের ধোনিতে ফিরে যান তিনি। ‘‘প্রথম থেকেই যখন ধোনি চালিয়ে খেলতে শুরু করে, আমার মতে সেটাই ওর সেরা রূপ। এই ভাবেই ওর কয়েকটা সেরা ইনিংস এসেছে। আমার মনে হয় টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত ধোনি আর হার্দিক পাণ্ড্যকে যে রকম ব্যাটিং ওরা করতে চায়, সেটা করতে দেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া। কোনও বিধিনিষেধ থাকবে না ওদের জন্য। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে যে রকম চাও খেলো,’’ বলেছেন হরভজন।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান শিখর ধওয়ন, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহালি এবং কে এল রাহুল ইনিংস তৈরি করে দেবেন। তাই ধোনি এর পরে নেমে বোলিংকে আক্রমণ করতে পারবেন বলে মনে করেন হরভজন। কিন্তু ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে যখন মিচেল স্যান্টনার বা নেথন লায়নের মতো স্পিনারেরা বোলিং করবেন, তখন কী হবে? ‘‘ঠিক এটাই আমি বলতে চাইছি। পুরনো মেজাজের ধোনি যে কোনও স্পিনারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরে দেবে। আর সেগুলো বিরাট বিরাট ছক্কা। সেটাই ওর করা উচিত, এবং করার ক্ষমতাও আছে ওর। আমি সিএসকে-র নেটেও তা দেখেছি। ওর ছক্কাগুলো কিন্তু ভয়ঙ্কর,’’ বলেছেন ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য।

হরভজন কেন ধোনির সংহারমূর্তি প্রথম থেকেই দেখতে চাইছেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘কী ভাবে এক জন বোলারের মানসিকতা কাজ করে তা নিয়ে বলি। ধরে নিন, আমি কেভিন পিটারসেন এবং ইয়ান বেলকে পরপর বোলিং করছি। আমি কিন্তু বেলের চেয়েও কেপিকে নিয়ে বেশি চিন্তায় থাকব। কেপিকে আমি দু’একটা ডট বল করতে পারি। কিন্তু ওর পাল্টা আমার বোলিংকে আক্রমণ করা ক্ষমতা রয়েছে। বেল অন্য প্রান্ত থেকে শুধু খুচরো রান নেওয়ার দিকেই নজর দেবে। ধোনি ঠিক কেপির মতোই বোলারদের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। ও সেই প্রভাবটা ফেলতে পারে বোলারের উপরে।’’

তবে দলগত দিক থেকে হরভজন বিশ্বকাপে ব্যাটিং অর্ডারে চার এবং ছয় নম্বর জায়গা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। ‘‘কে এল রাহুল ছাড়া আমি চার নম্বর জায়গায় ব্যাটিং করার মতো উপযুক্ত কাউকে দেখছি না। তাই এই ব্যাপারটা কিন্তু চিন্তার। একই সঙ্গে ছয় নম্বর জায়গা নিয়েও। যেখানে কেদার যাদব নামবে। আশা করি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের (৫ জুন) আগে কেদার পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবে। কারণ, ওটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা,’’  বলেন তিনি।

বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহালি ছাড়া হরভজনের মতে বিশ্বকাপে ম্যাচ ঘোরানোর মতো ক্ষমতা দেখাতে পারেন যশপ্রীত বুমরা। ‘‘সচিন তেন্ডুলকর এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা বোলার বলেছে বুমরাকে। বিশ্বের সেরাই এখন ও। ম্যাচে যে রকম প্রভাব ফেলতে পারে বুমরা, সেটা দেখেও তাই বলতে হবে। যদি বুমরাকে ভারতীয় দলের বাইরে রাখা যায়, মনে হবে শরীর থেকে হৃদপিণ্ডটাই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ও দলের জন্য এতটাই মূল্যবান। বুমরা হল ভারতীয় বোলিংয়ের বিরাট কোহালি,’’ বলেছেন হরভজন।