বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে লিয়োনেল মেসি গড়িমসি করছেন বলে খবর। তার কারণ নাকি একটাই। নেমার দা সিলভা স্যান্টোস জুনিয়রকে তিনি দলে চান। ব্রাজিলীয় তারকাকে না ফেরানো হলে নতুন চুক্তিতেও তিনি করতে সই চান না বলে খবর।

নেমার নিজেও বার্সায় ফিরতে চান। সম্প্রতি নাকি তাঁর এখনকার ক্লাব প্যারিস সাঁ জারমাঁ-র প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফির কাছে বার্তা পাঠিয়ে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, তাঁর জীবনের সব চেয়ে বড় ভুল বার্সেলোনায় মেসি, সুয়ারেস, রাকিতিচদের ছেড়ে আসা। বিশেষ করে মেসিকে। সঙ্গে এক আবেগময় সাক্ষাৎকারে বলে বসেন, বার্সায় ফিরে যাওয়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। 

স্পেনীয় ফুটবলের হাঁড়ির সব খবর রাখেন এমন এক সাংবাদিক গ্রাহাম হান্টারের দাবি, মেসি নিজেও এখন তাঁর পুরনো এবং অন্যতম প্রিয় বন্ধু নেমারকে ফেরাতে উঠে পড়ে লেগেছেন। যে কারণে ক্লাবের সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না করে আসলে বার্সাকে চাপেই রাখছেন। ওই সাংবাদিক লিখেছেন, ‘‘লিয়ো মেসিই বার্সার হৃদযন্ত্র। ওর কথা না শুনে বার্সার উপায় নেই। এমন নয় যে, লিয়ো কখনও কোনও ব্যাপারে ক্লাবের সঙ্গে অসহযোগিতা করেন। অনেকে অকারণে ওকে সে ভাবেই দেখানোর চেষ্টা করেন। যা আদৌ সত্যি নয়। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, মেসির হাঁচি হলেও বার্সার ঠান্ডা লেগে যায়। বার্সার এখনকার প্রেসিডেন্ট হয়তো ২০২১ সালের পরে আর থাকবেন না। তিনি চান যে কোনও ভাবেই হোক লিয়োর সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে যেতে। কিন্তু আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি যে নেমারকে যে কোনও মূল্যে ফেরাতে চান সেটা ঘটনা। এই জন্যই নতুন কোনও চুক্তি হচ্ছে না।’’

ওই সাংবাদিক আরও বলেছেন, ‘‘লিয়ো, নেমার ও সুয়ারেস— তিন জনই তিন ধরনের মানুষ। কিন্তু ওরা একইসঙ্গে অসম্ভব বন্ধুও। আর লিয়ো বিশ্বাস করে, টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণে তাঁর খেলা সব চেয়ে ভাল বোঝে নেমার। দু’জনের যুগলবন্দিতে যে বারবার গোলের জায়গা তৈরি করেছে বার্সা তাতে সে কথাই প্রমাণিত হয়। শেষ যে বার বার্সা ত্রিমুকুট জিতেছিল, সে বার কিন্তু এই তিন জনই দলে ছিল। তাই মেসি পরিষ্কার বলে দিয়েছে যে, তাঁকে আরও বেশি দিনের জন্য পেতে হলে বার্সাকে এখনই নেমারকে ফেরাতে হবে।’’  

মেসি-নেমার দু’জনে একসঙ্গে বার্সায় ছিলেন চার মরসুম। বার্সার সমস্যাটা হয়েছে টাকা নিয়ে। অঁতোয়ান গ্রিজম্যানকে কিনতে গিয়ে তাদের প্রচুর খরচ হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাজারে বার্সার প্রচুর ঋণও আছে। তাই তারা নাকি নেমারকে নিতে পারে একমাত্র ফুটবলার বদলাবদলি করে। নেমারের বিনিময়ে তারা ফিলিপে কুতিনহো, ইভান রাকিতিচ, উসমান দেম্বেলে, নেলসন সেমেডোর মধ্যে দু’জনকে ছেড়ে দিতে রাজি আছে। বার্সার এই শর্তে অবশ্য এখনও বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি পিএসজি। প্যারিসের ক্লাবে ব্রাজিলীয় তারকা অনুশীলন শুরু করেছেন এক সপ্তাহ পরে। যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে নতুন করে। পিএসজি-র স্পোর্টিং ডিরেক্টর লিয়োনার্দো বলেছেন, এই ঘটনার জন্য নেমারের শাস্তি হবেই। ব্রাজিলীয় তারকা অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁকে পিএসজি ব্রাজিলে রিহ্যাব সম্পূর্ণ করেই অনুশীলনে আসতে বলেছিল। 

চোটের জন্য নেমার কোপা আমেরিকায় খেলেননি। যে টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন আবার মেসি। তাঁর বক্তব্য, ব্রাজিল কোপা জিততে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিল। নেমার কিন্তু মেসির মন্তব্য নিয়ে একটা কথাও বলেননি। উল্টে বলেছেন, মেসিই বিশ্বসেরা। অন্য কেউ তাঁর ধারেকাছে আসতে পারবে না। 

মেসি যে বিশ্বসেরা তা মানেন ব্রাজিলের আর এক তারকা, ম্যাঞ্চেস্টার সিটির ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল জেসুসও। কিন্তু তিনি পরিষ্কার বলেছেন, মেসি যে ভাবে কোপা আমেরিকার সংগঠকদের এবং ব্রাজিলের সমালোচনা করেছেন তা অপ্রত্যাশিত। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি যে এ ভাবে কথা বলবেন, তা স্বপ্নেও তিনি ভাবেননি।