লিভারপুল ২        •            চেলসি ০

ক্রিস্টাল প্যালেস ১  •      ম্যান সিটি ৩
 

পাঁচ বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়নি। সে বার প্রিমিয়ার লিগের নাটকীয় পরিস্থিতিতে অ্যানফিল্ডে চেলসি হারিয়েছিল লিভারপুলকে। এবং ‘দ্য রেডস’-এর খেতাব জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ করে দিয়েছিল চেলসি।

রবিবার প্রায় একই পরিস্থিতিতে খেলতে নেমে লিভারপুলের বিরুদ্ধে ০-২ হেরে গেল চেলসিই। যে জয় য়ুর্গেন ক্লপের ক্লাবের প্রিমিয়ার লিগ জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করল। লিভারপুলের দু’টি গোল করলেন সাদিয়ো মানে (৫১ মিনিট) ও মহম্মদ সালাহ (৫৩ মিনিট)।

লিভারপুল জিতলেও তাদের কিন্তু এখনও চাপে রাখছে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। রবিবার খেলল পেপ গুয়ার্দিওলার ক্লাবও। যথেষ্ট দাপট নিয়ে সেলহার্স্ট পার্কে তারা ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৩-১ গোলে হারাল।  ম্যাচের নায়ক রাহিম স্টার্লিং। তিনটি গোলের দু’টিই করলেন তিনি। ম্যাচের পরে স্টার্লিং বলেছেন, ‘‘ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে এসে ম্যাচ জেতা সব সময়ই কঠিন। বিশেষ করে মরসুমের একেবারে শেষ লগ্নে। এখানে এই মরসুমে আমরা একটা ম্যাচ হেরেওছি। আসলে প্রিমিয়ার লিগের লড়াইটাই কঠিন। মনে হয় না ইউরোপের কোথাও এতটা হাড্ডাহাড্ডি লিগ হয় বলে। আজ এ রকম গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচে দু’টো গোল করে আমি খুশি।’’ খুশি লিভারপুলের জার্মান ম্যানেজার ক্লপও। কারণ, ম্যান সিটির জয়ের পরপরই তাঁরা নিজেদের মাঠে চেলসির মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিল। ম্যাচের পরে ক্লপ বলেছেন, ‘‘দারুণ খেলা হয়েছে। ছেলেরা ছন্দেও ছিল। সারাক্ষণ ওরা গোলের চেষ্টা করেছে। সুযোগও তৈরি করেছে বারবার।’’ ক্লপ উচ্ছ্বসিত সালাহর গোল নিয়েও। তাঁর কথায়, ‘‘গোলটাকে বিশ্বমানের বললেও যেন কম বলা হবে।’’ তা হলে কি আপনারা ইপিএল জিতছেনই। লিভারপুল ম্যানেজারের জবাব, ‘‘এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। শুধু এটা বলব যে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করে যাব। এ-ও জানি যে চেলসির মতো না হলেও আমাদের বাকি প্রতিপক্ষেরাও শক্তিশালী। তাই কোনও ম্যাচকেই হাল্কা ভাবে নেওয়ার প্রশ্ন নেই।’’

ইপিএল টেবলে আবার শীর্ষে ওঠা লিভারপুলের পয়েন্ট এখন ৮৫। বাকি চারটি ম্যাচ। ২০১৪ সালে এই পয়েন্টের থেকে আর এক পয়েন্ট বেশি পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। এ বার যে ফর্মে সালাহরা খেলছেন তাতে তাদের লিগ না জেতাটাই দুর্ঘটনা হবে। অন্তত ফুটবল বিশ্লেষকেরা সে রকমই মনে করছেন। তবে বিরাট কিছু পিছিয়ে নেই ম্যান সিটিও। রবিবার জেতায় তাদের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৩৩ ম্যাচে ৮৩। প্রিমিয়ার লিগে এত পয়েন্ট সচরাচর কোনও ক্লাব তুলতে পারে না। য়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুল অবশ্য একই রকম সফল। সালাহকে নিয়ে সম্প্রতি নানা রকম কটাক্ষ করছিল চেলসির সমর্থকেরা। ‘মিশরের মেসি’ দুরন্ত গোল করে হাত জোড় করে চোখ বন্ধ অবস্থায় এক পা তুলে দাঁড়িয়ে জয়ের উৎসব করেন। যা আসলে চেলসি সমর্থকদের কটাক্ষেরই জবাব। বক্সের ডান দিকে বল ধরে খানিকটা জায়গা পেয়েছিলেন সালাহ। সেখান থেকে কাট করে ঢুকে বাঁ পায়ে অসাধারণ শটে গোল করেন সালাহ। 

অ্যানফিল্ডে এ দিন যাবতীয় উচ্ছ্বাসটা ছিল সালাহকে নিয়েই। আর একই রকম উল্লাস দেখা গিয়েছে সেলহার্স্ট পার্কে স্টার্লিংকে নিয়ে। জোড়া গোল করে তিনিই নায়ক হলেও রবিবার একটি সহজ সুযোগও তিনি নষ্ট করেন। ম্যান সিটির হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস।  ম্যান সিটি এই নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টানা ন’টি ম্যাচ জিতল। গুয়ার্দিওলা এ দিন বেলজিয়ামের তারকা কেভিন দ্য ব্রুইনকে দারুণ ভাবে কাজে লাগান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টটেনহ্যামের বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি প্রথম এগারোয় ছিলেন না। স্টার্লিংয়ে প্রথম গোলটা ব্রুইনের ঠিকানা লেখা 

পাস থেকেই।