ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই ধুরন্ধর ফুটবল মস্তিষ্ক মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি। 

মাউরিসিয়ো পোচেত্তিনো বনাম পেপ গুয়ার্দিওলা। টটেনহ্যাম হটস্পার বনাম ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। হ্যারি কেন বনাম সের্খিয়ো আগুয়েরো।

নিজেদের নবনির্মিত টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে যে ম্যাচ খেলতে নামছেন হ্যারি কেনরা, তার চব্বিশ ঘণ্টা আগে রীতিমতো ফুটছে পোচেত্তিনোর দল। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে দু’দলের বাগ্‌যুদ্ধ।

ম্যাঞ্চেস্টার সিটির মিডফিল্ডার কেভিন দে ব্রুইনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে নিজেদের দর্শকদের সামনে টটেনহ্যামের সুবিধা হতে পারে কি না? ম্যান সিটির তারকা বলে দেন, ‘‘ও সব নিয়ে না ভেবে, নিজেদের দল আর প্রতিপক্ষ নিয়েই মনোনিবেশ করছি। ম্যাচটা কঠিন। প্রত্যেক দলেরই নিজেদের একটা স্টেডিয়াম ও ভক্তকুল রয়েছে। ওরা দীর্ঘদিন বাদে নিজেদের সমর্থকে ভরা স্টেডিয়াম পেয়েই হয়তো আবেগে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। টটেনহ্যামের নতুন স্টেডিয়াম কোনও তফাত গড়বে না।’’

ব্রুইনের এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন হ্যারি কেনের সঙ্গী ফরোয়ার্ড সুন হেং মিন। তাঁর হুঙ্কার, ‘‘আমরা ম্যান সিটিকে বুঝিয়ে দেব, ওয়েম্বলি আর এই নতুন স্টেডিয়ামে খেলার ফারাকটা। ঘরের মাঠে খেলায় অবশ্যই আমরা বাড়তি প্রেরণা পাব।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘দু’বছর পরে ঘরের মাঠে খেলছি। নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে মাঠে নামার মাহাত্ম্য ম্যান সিটি না-ও বুঝতে পারে। কারণ, ওদের তো গত দু’বছর ঘরের বাইরে খেলতে হয়নি।’’ হ্যারি কেন, ডেলে আলিরাও বলছেন, ‘‘ঘরের মাঠে দর্শকরাই আমাদের দ্বাদশ ব্যক্তি।’’

দু’দলের এই বাগ্‌যুদ্ধের আবরণে নিজেকে শান্ত রেখেছেন ম্যান সিটি ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওলা। যাঁর দল এ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-সহ চারটি ট্রফি নিয়ে মরসুম শেষ করবে কি না তা নিয়েই ইউরোপ জুড়ে জল্পনা। সের্খিয়ো আগুয়েরোদের ম্যানেজার এই মহারণের আগে দলকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘‘এক বিন্দু অ্যালকোহলও যেন শরীরে না ঢোকে। বিশ্রাম নাও। কারণ, ইউরোপ ও ইপিএলের সেরা দলের সঙ্গে লড়াই। যে কেউ জিততে পারে। ওরা এই ম্যাচের আগে ছয় দিন সময় পেয়েছে প্রস্তুতির। সেখানে আমরা পেয়েছি মাত্র আড়াই দিন!’’ শেষ ২৩ ম্যাচে ২২টিই জিতেছে ম্যান সিটি। সে কথা মনে করালে পেপ বলছেন, ‘‘পরিসংখ্যান হিসেবে ভাল। এই ছন্দেই এগিয়ে যেতে হবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হেরে গেলে কেউ কিন্তু এ সব তথ্য মাথায় রাখবে না। তখন আমাদের সবাই ব্যর্থ বলবে।’’ 

ম্যান সিটি রক্ষণে কাইল ওয়াকার অনিশ্চিত। যা নিয়ে চিন্তিত গুয়ার্দিওলার জবাব, ‘‘জানা নেই কাইল ম্যাচের আগে ফিট হবে কি না। ওরা আগ্রাসী মেজাজে শুরু করলে আমাদের আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। টটেনহ্যাম মানে তো শুধু হ্যারি কেন নয়। সব বিভাগেই ওরা বেশ শক্তিশালী।’’ তবে বিপক্ষকে নিয়ে চিন্তার মাঝেও গুয়ার্দিওলার স্বস্তি, ফিট হয়ে দলে ফিরছেন আগুয়েরো ও বঁজামা মেন্দি।

আগামী এগারো দিনে তিন বার মুখোমুখি হবে এই দুই দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে দু’বার। তার পরে ইপিএলের লড়াই। সোমবার সকালে ডেলে আলি, হ্যারি কেনরা টটেনহ্যাম অনুশীলনে মগ্ন থাকলেও অনিশ্চিত এরিক ল্যামেলা, এরিক ডায়াররা। প্রস্তুতি পর্ব চলাকালীন হ্যারি কেনের সঙ্গে একান্তে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনাও সারেন টটেনহ্যাম ম্যানেজার পোচেত্তিনো।

 মাঠ ছাড়ার আগে বলে যান, ‘‘ওদের আগুয়েরো, রাহিম স্টার্লিংরা প্রচুর দৌড়াবে। সেটা থামাতে হবে। এটা প্রীতি ম্যাচ নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল। পেপ ও আমি দু’জনেই স্পেন থেকে একে অপরের পরিচিত। আমরা আক্রমণাত্মক খেলি। আর সেটা খেলেই জিতে ফিরতে চাই ম্যাঞ্চেস্টার সিটির বিরুদ্ধে।’’

মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল: টটেনহ্যাম বনাম ম্যাঞ্চেস্টার সিটি (রাত ১২-৩০, সোনি টেন টু চ্যানেলে)।