• রাজীব ঘোষ
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ইংল্যান্ড সফর নিয়েও শঙ্কা প্রভাকরের

Prabhakar
শনিবার ইডেনে দিল্লির বোলিং কোচ প্রভাকর। নিজস্ব চিত্র

দক্ষিণ আফ্রিকায় বোলিং ও ব্যাটিং দুটোই শুরু করেছেন তিনি। কোনও ভূমিকাতেই ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ নেই। কপিলদেবের সঙ্গে নতুন বল হাতে তুলে নেওয়া সেই অলরাউন্ডার মনোজ প্রভাকর এবি ডিভিলিয়ার্সদের দেশে ভারতের পারফরম্যান্স দেখার পরে আতঙ্কিত আসন্ন ইংল্যান্ড সফরের কথা ভেবে। তাঁর আশঙ্কা, জো রুটদের দেশেও বিরাট কোহালিদের ব্যাটিংয়ে এমন ধস নামতে পারে।

টেস্ট ও ওয়ান ডে মিলিয়ে আড়াইশোর উপর উইকেট নিয়েছেন যিনি, তিনটি সেঞ্চুরি-সহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার রানও পেয়েছেন। সেই প্রভাকর শনিবার ইডেনে বলেন, ‘‘দক্ষিণ আফ্রিকায় যদি এ রকম পারফরম্যান্স হয় আমাদের দলের। আমি ভাবছি, ইংল্যান্ডে কী হবে। ওখানে তো বল আরও সুইং করে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা নিজেদের শুধরে নিতে না পারলে ইংল্যান্ডে আরও খারাপ হতে পারে। ওখানে জেমস অ্যান্ডারসন যদি ফর্মে থাকে আর ফিট থাকে, তা হলে ও কিন্তু বিপজ্জনক হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় তো একটা ফিল্যান্ডার আছে। ওখানে তিন-তিনটে ফিল্যান্ডার আছে।’’

আইপিএলের পরে এ বছর জুলাইয়ে ভারতীয় দল ইংল্যান্ডে পাঁচটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে যাবে। দিল্লির বোলিং কোচ হিসেবে শহরে আসা প্রভাকরের মতে, ‘‘সুইংয়ে শুধু ভারতীয়রা কেন, সারা বিশ্বের ব্যাটসম্যানরাই অস্বস্তি বোধ করে। আর এই মারাত্মক সুইংয়েই বিপক্ষকে কাবু করে জেমস অ্যান্ডারসনরা। আমার কাছে ও বিশ্বসেরা সুইং বোলার। ও এক ধরনের বল করে, যেটা আসলে রিভার্স কাট। যেখানে বলের যে দিক উজ্জ্বল থাকে, সে দিকে পড়েই বল ছিটকে যায়। হাওয়ায় সুইং হয়, উইকেটে পড়ে নয়। সচিন তেন্ডুলকর গৌতম গম্ভীর, বীরেন্দ্র সহবাগদের মতো ব্যাটসম্যানরাও ওর এই বলে বোকা বনেছে। আর এদের যা ব্যাটিং দেখছি, এরা তো হবেই।’’

পঁচিশ বছর আগে কেপটাউনে অজয় জাডেজার সঙ্গে ওপেন করতে নেমে যিনি ৩১০ মিনিট ক্রিজে টিকে থেকে অ্যালান ডোনাল্ড, ব্রায়ান ম্যাকমিলান, ক্রেগ ম্যাথিউজদের সামলে ৬২ রান করেছিলেন, সেই প্রভাকর এই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অবস্থা দেখে বিস্মিত। বলেন, ‘‘বল ছাড়তেই জানে না এরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় এটাই তো আসল ব্যাপার। ওখানে আমিও ওপেন  করেছি। আমি যদি উইকেটে টিকে থেকে বড় রান করতে পারি, তা হলে ওরা পারবে না কেন?’’

আশি ও নব্বইয়ের দশকের এই তারকা অলরাউন্ডারের পরামর্শ, ‘‘দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে প্রথম কুড়ি ওভার কাটানোটাই সবচেয়ে কঠিন। আমাদের যা ব্যাটিং লাইন-আপ, তাতে কুড়িটা ওভার ওপেনাররা কাটিয়ে দিতে পারলে দেখতেন, এই ব্যাটিং লাইন-আপই মাতিয়ে দিত। পুরো ছবিটাই পাল্টে যেত। বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও তাই। প্রথম কুড়ি ওভারে তিন-চারটে উইকেট ফেলে দিতে পারলেই ওরা চাপে পড়ে যেত।’’

জোহানেসবার্গে ১৯৯২-এর নভেম্বরে টেস্টে চার উইকেট নিয়েছিলেন প্রভাকর। কপিল, জাভাগল শ্রীনাথের সঙ্গে বোলিং করে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ২৬ রানে চার উইকেট ফেলে দিয়ে আফ্রিকানদের ধাক্কা দেন তিনি। জোবার্গ মাতানো সেই প্রভাকর বলছেন, ‘‘শেষ টেস্টে বিরাটের অবশ্যই ভুবনেশ্বর কুমারকে দলে ফেরানো উচিত। ওখানে বল করার অভিজ্ঞতা আছে আমার। জোবার্গে ভাল সুইং হয়। সিমিং বলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকানরা ভাল খেলে। কিন্তু সুইংয়ের বিরুদ্ধে ওরা জব্দ। ভুবনেশ্বর ওখানে কার্যকর হবেই। কারণ, ও দুর্দান্ত সুইং বোলার। সেঞ্চুরিয়নেও ওকে দলের বাইরে বসিয়ে রাখা হল কেন, বুঝলাম না।’’ 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন