তাকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বিরাট। আগের দুই ইভেন্টে খালি হাতে ফেরা নিজেই বিশ্বাস করতে পারেনি। কেঁদেও ফেলে হরিয়ানার ঝাঁঝর গ্রামের বিস্ময়-শুটার মনু ভাকের। বুধবার দিল্লির ড. কার্নি সিংহ স্টেডিয়াম অবশ্য এই সপ্তদশীর মুখে হাসি দেখল। অবশেষে। 

বিশ্বকাপ শুটিংয়ে ১০ মিটার মিক্সড টিম ইভেন্টে মনুর গলায় উঠল সোনার পদক। টিম ইভেন্ট বলে কৃতিত্ব তার সঙ্গী আর এক বিস্ময় প্রতিভা সৌরভ চৌধরিরও। মনুদের সৌজন্যেই প্রতিযোগিতা থেকে ভারত পেল তৃতীয় সোনা। এবং পদক তালিকায় তিনে জায়গা করে নিল হাঙ্গেরির সঙ্গে।

আশ্চর্যের, নিজের প্রিয় ইভেন্ট ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে মনু ফাইনালে উঠতে পারেনি। আর পঁচিশ মিটার পিস্তল ফাইনালে সবাইকে অবাক করে পঞ্চম হয়। যে ইভেন্টের ঠিক পরেই কান্নায় ভেঙে পড়ে হতাশ মনু।

অবশেষে বুধবার সোনা জেতায় নিজেকে চাপমুক্ত মনে হচ্ছে কি না জানতে চাওয়া হলে মনু অবশ্য বলল, ‘‘বড় কোনও চাপ কমল এমন নয়। তবে আমি তৃপ্ত। আগের ইভেন্টে খুব চেষ্টা করেছি। পারিনি, কী আর করা যাবে। এখন সোনা জেতার পরে মনে হচ্ছে পরের বার নিশ্চয়ই আরও ভাল করব। এটাই তৃপ্তির জায়গা।’’

বুধবার কয়েক বার নিজেই নিজের শট বাতিল করে নতুন ভাবে ট্রিগারে চাপ দেয় মনু। ব্যাপারটা কী? সোনাজয়ী মেয়ের জবাব, ‘‘চেষ্টা করছি শট যাতে বাতিল করতে না হয়। কারণ তা হলে সঙ্গী শুটারের (সৌরভ) সময় কমে যায়। কিন্তু সেটা বারবার পারছিলাম না। বাজে শট মারার থেকে নিজেকে শুধরে নেওয়া তো ভালই।’’ পাশাপাশি অলিম্পিক্সের কোটা পাওয়া সৌরভ নিজের দ্বিতীয় সোনা জিতে বলল, ‘‘শুটিং দেখতে এসেছিলেন আমার গুরু (অমিত শেয়োরান)। তাই নিজের মধ্যে যেন একটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস চলে এসেছিল।’’ 

এ দিকে, সোনাজয়ী মনুদের মতোই শেষ দিন চাঞ্চল্য পড়ে যায় বায়ুসেনার দুই শুটার রবি কুমার ও দীপক কুমারকে নিয়েও। বুধবারই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে অবনতির জেরে তাঁদের সেনাবাহিনীর কাজে ফিরে যেতে বলা হয়। এই দু’জন নিজেদের ইভেন্টে অবশ্য ফাইনালে উঠতে পারেননি।