ইস্টবঙ্গল— ৪   কালীঘাট এমএস —২

কালীঘাট এমএস ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল শিবির। পিয়ারলেস-ম্যাচে রেফারিকে হেনস্থা করার অভিযোগে অধিনায়ক লালরিনডিকা রালতে, মেহতাব সিংহকে এক ম্যাচ নির্বাসন ও এক লাখ টাকা জরিমানা করে আইএফএ। দলের ম্যানেজার ও গোলকিপার কোচ অভ্র মণ্ডলকে এক বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। হাইমে স্যান্টোস কোলাডোকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। ক্লাব কর্তারা আলোচনায় বসেছিলেন বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে। ক্লাবের উপর দিয়ে এত যে ঝড় বয়ে গিয়েছে, তা কোলাডোদের খেলা দেখে বৃহস্পতিবার বোঝাই যায়নি। এ দিন কলকাতা লিগের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ৪-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল কালীঘাট এমএস-কে। গ্যালারিতে জ্বলে উঠল মশাল, দেখা গেল আলেয়ান্দ্রো মেনেন্দেজের ছবি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আসছেন না মালিঙ্গারা, টুইটারে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন শোয়েব

আরও পড়ুন:  পদ্ম পুরস্কারের জন্য একসঙ্গে নয় মহিলা ক্রীড়াবিদের নাম সুপারিশ করল ক্রীড়ামন্ত্রক

এ দিন সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। বৃষ্টিতে ইস্টবেঙ্গল মাঠ হয়ে গিয়েছিল কর্দমাক্ত। এ রকম মাঠে মোট ছ’টা গোল হল। কালীঘাট প্রথমে গোল করে এগিয়ে যায়। তুহিন সিকদার গোলটি করেন কালীঘাটের হয়ে। সমতা ফেরানোর জন্য ইস্টবেঙ্গলকে অবশ্য অপেক্ষা করে থাকতে হয় ৪১ মিনিট পর্যন্ত। দ্বিতীয়ার্ধে লাল-হলুদ আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ে। কাদা মাঠেও নিজেদের মধ্যে একাধিক পাস খেলে আক্রমণে উঠছিলেন কোলাডোরা। ৫৯ মিনিটে ডান দিক থেকে গড়ানে সেন্টার করেছিলেন গত বছর মোহনবাগানে খেলা পিন্টু মাহাতো। সেই বল বিপন্মুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন লাসিন। এর মধ্যেই অভিষেক আম্বেকরকে মেরে লাল কার্ড দেখেন কালীঘাটের বিদেশি কৌসাই আলেক্সান্দ্রে। পাঁচ মিনিট পরেই ব্যবধান বাড়ান ম্যাচের সেরা কোলাডো। পিয়ারলেস-ম্যাচে তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই তিনিই এ দিন জোড়া গোল করেন।

দলের তৃতীয় গোলটি করেন কোলাডো। ৮৯ মিনিটে রাহুল পাসওয়ান কালীঘাটের হয়ে ব্যবধান কমান। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা অফ সাইডের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু রেফারি কর্ণপাত করেননি। কালীঘাটের গোলটির এক মিনিট পরেই কোলাডো নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। পিয়ারলেস ম্যাচ হেরে ‘গেল গেল’ রব উঠেছিল। এ দিন জেতায় স্বস্তি ফিরল লাল-হলুদে। লম্বা লিগের মাঝ পথে সাত ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টবেঙ্গল এখন তিন নম্বরে।