পাঁচ ম্যাচ পরেই কি সুব্রত ভট্টাচার্য সম্পর্কে মোহভঙ্গ হল মহমেডানের? কারণ তীর্থঙ্কর সরকাররা সোমবার সাদার্ন সমিতির সঙ্গে ম্যাচে ড্র করার পরেই কোচ নিয়ে কর্মসমিতির জরুরি বৈঠক ডেকে দিলেন ক্লাব সচিব কামারুদ্দিন। আজ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্লাব তাঁবুতে সভা। সচিব বলে দিলেন, ‘‘কোচের সঙ্গে ফুটবলার ও কর্তাদের  নানা সমস্যা হচ্ছে। এরিয়ানের পর আজ আবার পয়েন্ট নষ্ট হল। আমাদের হাতে আর মাত্র নয়টি ম্যাচ আছে লিগের। কোচের কাজে ও ব্যবহারে আমরা খুশি নই। কোচ তো দেখছি ভাল ফুটবলার নামাতেই ভুলে যাচ্ছেন।’’

কোচ বদলের কথা সরাসরি  বলেননি সাদা-কালো সচিব। কিন্তু বুঝিয়ে দিয়েছেন, কিছু সিনিয়র ফুটবলার ও কর্তাদের সঙ্গে সুব্রতর মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে দলে। নামী গোলকিপার প্রিয়ান্ত সিংহ-সহ একাধিক ফুটবলারকে বসিয়ে রাখছেন সুব্রত। যাতে দলের ক্ষতি হচ্ছে। কর্তাদের চাপে এ দিন প্রথম মাঠে নেমে দুর্দান্ত খেলেন প্রিয়ান্ত। নিশ্চিত দুটি গোল বাঁচান। অনুশীলনের সময় প্রিয়ান্তের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল কোচের। তারপর তাঁকে অনুশীলনে নামতে দেননি সুব্রত। 

এরকম ঝামেলা হয়েছে আরও কিছু ফুটবলারের সঙ্গেও। সুব্রত অবশ্য যুক্তি দিচ্ছেন, ‘‘দলের শৃঙ্খলা রাখতেই কড়া হতে হচ্ছে আমাকে। কর্তারা বললেও আমি শুনব না।’’  ক্লাব অন্দরের খবর, সুব্রতকে সরিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নাইজিরীয় কোচ সৈয়দ রোমানকে আনার কথা ভাবছেন কর্তাদের একাংশ। আপাতত কলকাতা লিগে সপ্তাহ খানেক কোনও ম্যাচ নেই আর্থার কোসিদের।  তাদের ধারণা নতুন কোচ আনলে সমস্যা হবে না। তবে কর্তাদের একাংশ আবার আরও কয়েকটা ম্যাচ সুব্রতকে দেখে নেওয়ার পক্ষপাতি।  

ডুরান্ড কাপের তিন ম্যাচের দু’টিতে হেরে বিদায় নিয়েছে মহমেডান। কলকাতা লিগের পরপর দু’টি ম্যাচে ড্র। সুব্রত অবশ্য মেহতাব হোসেনের দলের সঙ্গে ড্র করার পর এ দিন বলে দিলেন, ‘‘দলের খেলায় আমি হতাশ। তবে সাদার্ন খুব ভাল খেলেছে। গোল করতে না পারলে ম্যাচ জেতা কঠিন।’’