শুধু সনি নর্দে নয়, দলে থাকা সব বিদেশিকেই ছেঁটে ফেলছে মোহনবাগান। সেই প্রক্রিয়া কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে বলে খবর। চুক্তির টাকা মিটিয়ে তাদের বলে দেওয়া হবে, নতুন বিদেশি কোচ চাইলেই তাদের ফের ডাকা হবে। 

হেনরি কিসেক্কা এবং ওমর আল হুসেইনিকে আই লিগ শেষ হওয়ার পরই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ডার্বি না খেলা ইউতা কিনওয়াকিকেও লালকার্ড দেখিয়ে রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, দিপান্দা ডিকা, কিংসলে ওবুমেনেমেকেও নতুন ক্লাব খুঁজে নেওয়ার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে সনিও কিছু করতে পারেননি। নির্বাচনের সময় সদস্য-সমর্থকদের চাপে সনিকে এনেছিলেন কর্তারা। এখন তাদেরও হাইতি মিডিও সম্পর্কে মোহভঙ্গ হয়েছে। সনি নিয়ে সমর্থকদের আবেগও উধাও। ক্লাব তাঁকে রাখবে না ধরে নিয়ে নতুন ক্লাব খোঁজা শুরু করেছেন সনি। এটিকের সহকারি কোচ সঞ্জয় সেনের সঙ্গে সনির সম্পর্ক ভাল। সেই যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে কলকাতার আইএসএল-র এক মাত্র দলে ঢুকতে চাইছেন সনি। কিন্তু আইএসএলে এ বার বিদেশি কমে যাওয়ায় সনির জায়গা পাওয়া কঠিন। তা ছাড়াও বর্তমান মরসুমের তিন বিদেশির সঙ্গে ইতিমধ্যেই এটিকের চুক্তি হয়ে গিয়েছে। ঠিক আছে, বাকি তিন বিদেশি বাছার দায়িত্ব দেওয়া হবে এটিকের নতুন বিদেশি কোচের উপর।  মোহনবাগানের এক কর্তা বলছিলেন, ‘‘দু’কোটি দিয়ে সনিকে কেউ নেবে না। দেখি না কোথায় যায়?’’

মোহনবাগানের বর্তমান দলের মাত্র দু’জন ফুটবলারের সঙ্গে দু’বছরের চুক্তি আছে। এঁরা হলেন শিল্টন পাল ও মহম্মদ আজহারউদ্দিন। বাকিদের মধ্যে কাকে রাখা হবে তা ঠিক করবেন নতুন আসা বিদেশি কোচ। কর্তারা ঠিক করেছেন, বকেয়া মাইনে দিয়ে প্রথমে বিদেশিদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তারপর স্থানীয় ফুটবলারদের বেতন দিয়ে দেওয়া হবে। কর্তারা ধরেই নিয়েছেন, অরিজিৎ বাগুই, সৌরভ দাশের মতো দু’একজন হয়তো আইএসএলের দলে ডাক পেয়ে চলে যেতে পারেন।  

এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে আই লিগেই খেলবে মোহনবাগান। ঠিক হয়েছে কোচ নিবার্চন করেই ফুটবলার নেওয়া হবে। বিদেশি ফুটবলার বাছার দায়িত্ব তাকেই দেওয়া হবে। কোচ হিসাবে মোহনবাগানের প্রথম পছন্দ রিয়াল কাশ্মীরের কোচ ডেভিড রবার্টসন। তিনি পরিবার নিয়ে এখন গোয়ায় ছুটি কাটাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করেননি সবুজ-মেরুন কর্তারা। কাশ্মীরে ফোন করে জানা গেল,  রবার্টসন ফিরলেই তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে কথা বলবেন রিয়ালের কর্তারা।