সূর্য তখন দিনের কাজ শেষ করে অস্তগামী। যুবভারতীর আকাশে চাঁদের ফালি উঁকি মারছে ক্রমশ। তবুও অনুশীলন করিয়েই চলেছেন কিবু ভিকুনা আর পেনাল্টি মেরেই চলেছেন মোহনবাগান ফুটবলাররা।
‘‘সব কোচই চায় নব্বই মিনিটে ম্যাচ শেষ করতে। কাশ্মীর কোচও তাই চাইবেন। তবুও টাইব্রেকারের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হয়। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াতেই পারে।’’ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনালের আগের সন্ধ্যায় মোহনবাগানের স্প্যানিশ কোচ যখন এ সব বলছেন তখন তাঁর মুখে কখনও আলো, কখনও আঁধার। 
কলকাতা লিগের দুটি খেলায় জয় নেই। সেই চাপ থেকে বেরোনোর জন্য কিবু এবং তাঁর চার স্প্যানিশ যোদ্ধার কাছে ডুরান্ড জয়ই আপাতত পাখির চোখ। সেই লক্ষ্যে শেষ ধাপে পৌঁছতে সালভা চামোরোদের আজ, বুধবার পেরোতে হবে রিয়াল কাশ্মীর নামের পাহাড়। গ্রুপের তিন ম্যাচে যারা একটা গোলও খায়নি। উল্টে করেছে পাঁচ গোল। তা মাথায় রেখে এ দিন সেট পিসের সঙ্গে বিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার পাঠ দিলেন কিবু। পায়ের জঙ্গল থেকে বল বের করে আনার মুভ, দুই বা তিন টাচে বিপক্ষের গোলে বল পৌঁছনোর মন্ত্রের পাশে সেট পিস অনুশীলন করিয়ে রাখলেন জেসেবো বেইতিয়াদের। ঘণ্টা দুয়েক অনুশীলনের পরে কিবুর মুখ থেকে তার পরও বেরিয়েছে, ‘‘কাশ্মীর অত্যন্ত শক্তিশালী দল। শারীরিক ভাবেও খুব চাঙ্গা। তবে আমরাও তৈরি।’’
সবুজ-মেরুনের মাঝমাঠের ইঞ্জিন বেইতিয়া সুস্থ হওয়ায় কিবু বুকে জোর পেয়েছেন। বাকি তিন স্প্যানিশ ফুটবলারও তৈরি। কিন্তু কোন তিন জন কাশ্মীর-জয়ের জন্য নামাবেন, তা এখনও ঠিক করেননি মোহনবাগান কোচ। কারণ তাঁর দলের রক্ষণ এখনও তৈরি নয়। সে জন্যই সম্ভবত তিনি বললেন, ‘‘রক্ষণ নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা করছি। তা জমাট করার চেষ্টা চলছে।’’ যা থেকে স্পষ্ট নক-আউট ম্যাচে রক্ষণ শক্তিশালী করেই গোলের জন্য ঝাঁপাতে চান পালতোলা নৌকার কাণ্ডারি। কথায় স্পষ্ট, রিয়াল কাশ্মীর সম্পর্কে পড়াশোনা শেষ তাঁর। সাত মাস আগে আই লিগের এই ম্যাচে হেরেছিল মোহনবাগান। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই কিবু বললেন, ‘‘ওই ম্যাচটা ইউ টিউবে দেখেছি। ওদের প্রায় পুরো দলটাই আছে। আমাদের দলে চারজন ছাড়া সবাই নতুন। ফলে এটা অন্য ম্যাচ। যুবভারতীতে রাতের খেলায় আবহাওয়ার সুবিধাও পাব।’’
কিবু যখন নানা অঙ্কের কথা বলছেন, তখন কাশ্মীরের কোচকে পাওয়া গেল ফুরফুরে মেজাজে। কাশ্মীর ক্রমশ শান্ত হচ্ছে। তার প্রভাব পড়ছে দলে। ডেভিড রবার্টসন যে দল নিয়ে আজ ফাইনালে ওঠার লড়াইতে নামবেন, সে দলের ছয় জন ফুটবলার কাশ্মীরি। পাঁচ জন শ্রীনগরের, এক জন জম্মুর। অনুশীলনের পরে স্কটিশ কোচ বলে দিলেন, ‘‘মাত্র চার দিন অনুশীলন করে এখানে এসেছি। ডুরান্ড কাপকে প্রাক-মরসুম প্রস্তুতির অঙ্গ হিসাবে দেখছি। সেমিফাইনালে উঠেছি, এটাই বড় ব্যাপার। ফাইনালে উঠলে সেটা হবে বোনাস। ছেলেদের বলেছি আনন্দ করে খেলতে।’’ যা শুনলেই বোঝা যায় চাপ কাটাতে এটাই আপাতত অস্ত্র কাশ্মীর কোচের। অনুশীলনে অবশ্য সেটা বোঝা যায়নি। টাইব্রেকার অনুশীলন ছাড়াও সেট পিসের নানা কৌশল অনুশীলন করিয়েছেন। দানিশ ফারুকদের দলের গড় উচ্চতা ছয় ফুট। সেই সুবিধাটা তারা পাবে আজকের ম্যাচে। রবার্টসন বলছেন, ‘‘মোহনবাগানের কোনও ম্যাচ দেখিনি। আর আগে কবে কী হয়েছে তা নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না।’’ 
ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল বুধবার: মোহনবাগান বনাম রিয়াল কাশ্মীর (যুবভারতী)। রাত ৭-৩০ থেকে স্টার স্পোর্টস 
থ্রি-তে সরাসরি।